
পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হেনস্তার অভিযোগে মোস্তাফিজুর রহমান (৩২) নামে এক শিক্ষককে আটক করে জনতার গনপিটুনির পর সদর থানা পুলিশের হাতে দিয়েছে ছাত্রজনতা। বুধবার বিকেলে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। উক্ত ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তার পরিবারের সাথে কথা বলে এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পঞ্চগড় শহরের মসজিদ পাড়া এলাকায় ঐ শিক্ষককে তার কোচিং সেন্টারে সেই ছাত্রীকে যৌন হেনস্তার সময় হাতেনাতে আটক করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে নেয় ছাত্রজনতা।
আটক শিক্ষকের বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নের পাহাড়ডাঙ্গা এলাকায়। তিনি জেলা শহরের একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক বলে জানা গেছে। জেলা শহরে একটি ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন ওই শিক্ষক ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান তার ভাড়া করা টিনশেড বাসায় উচ্চতর গণিত বিষয়ে পাঁচজন ছাত্রি নিয়ে কোচিং সেন্টারের নামে প্রাইভেট পড়াচ্ছিলেন।
কোচিং শেষে চারজন ছাত্রী চলে গেলেও বাকী একজন ছাত্রীর সাথে যৌন হেনস্তা শুরু করেন তিনি। স্থানীয়রা টের পেয়ে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন মুঠোফোনে। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে বিচারের দাবিতে ইজিবাইকে করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চত্বরে নিয়ে যান। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশের সদস্যরা সেখানে ছুটে যান। পরে ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে উত্তেজিত জনতা তাকে আবারো গণপিটুনি দিয়ে অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। পরে সদর থানা পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে থানায় নিয়ে আসেন।
পূর্বেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ আছে বলে জানাযায় । এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগও দেয়া হয়। তবে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
প্রত্যক্ষদর্শী আসিফ আহমেদ বলেন, শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান তার কোচিং সেন্টারে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করতেন বলে আমরা কিছু অভিযোগ পাই কয়েকজন ছাত্রীর কাছে। পরে আমরা বুধবার দুপুরে ঘটনার সত্যতা পেয়ে তাকে আটক করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় নিয়ে যাই। বুধবার দুপুরে ওই ছাত্রীকে যৌন হেনস্তার আলামত পুলিশের হাতে দেয়া হয়েছে। মজাহারুল ইসলাম সেলিম নামে একজন বলেন, শিক্ষকেরা জাতি গড়ার কারিগর। তারাই যদি এমন কাজ করে তাহলে কার কাছে আমরা শিক্ষা গ্রহণ করবো। আমরা এই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। তাকে চাকরিচ্যুত সহ বিচারের আওতায় আনাহোক।
মোকাদ্দসুর রহমান সান বলেন, বুধবার দুপুরে এক শিক্ষককে যৌন হয়রানির অভিযোগে আটক করে পুলিশে দেয়া হয়েছে। আমরা সেই শিক্ষককে আর পঞ্চগড়ে দেখতে চাই না। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে পূর্বে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগ কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এবার তার দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির ব্যবস্থা না করা হলে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। পঞ্চগড় সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এইচএসএম সোহরাওয়ার্দী বলেন, ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে এক শিক্ষককে আটক করে আমাদের হাতে তুলে দিয়েছে জনতা। আমরা ঘটনার আলামত, ভূক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

আরও পড়ুন
শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সাকিব রাইয়্যানের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
কাউখালীতে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল