হোম » সারাদেশ » শেরপুরে আওয়ামীলীগের সাথে আতাত করে বিএনপির নেতার দা’র কুপে বিএনপির নেতা খুন

শেরপুরে আওয়ামীলীগের সাথে আতাত করে বিএনপির নেতার দা’র কুপে বিএনপির নেতা খুন

মোঃ শরিফ উদ্দিন বাবু, শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও শেরপুর সরকারি কলেজের সাবেক এজিএস জাকারিয়া বাদল (৪৮) নিহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার মধ্যরাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আরো গুরুতর আহত হয়ে দুজন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের ভীমগঞ্জ এলাকার একটি মাদ্রাসার সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত দুজন হলেন সোহাগ আলম ও রুহুল আমিন। শেরপুর শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু রায়হান রূপন এবং নিহতের স্বজন ও ছাত্রদলের কর্মী রমজান আলী এই তথ্য জানিয়েছেন।

নিহত জাকারিয়া বাদলের স্বজন রমজান আলী বলেন, কামারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক লুৎফর রহমানের সঙ্গে বাদলের দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। সম্প্রতি জেলা বিএনপির বিবদমান দুটি পক্ষ স্থানীয় ওই দুই নেতার সম্পর্ককে আরও জটিল করে তোলে। তা ছাড়া হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান ও কৃষক লীগ নেতা নুরে আলমের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক বৈরিতা রয়েছে। বাদলকে দমন করতে সম্প্রতি শেরপুর জেলা কারাগারে থাকা সাবেক চেয়ারম্যান নূরে আলমের সঙ্গে দেখা করেন লুৎফর। ওই দুজন এলাকায় আধিপত্য বিস্তারসহ ইউপি নির্বাচন নিয়ে আগাম পরিকল্পনা করেন।

রমজান আলী আরও জানান, বিএনপি নেতা লুৎফর এলাকায় কৃষক লীগ নেতা নূরে আলমের লোকজনের সঙ্গে গোপন বৈঠক করে প্রতিপক্ষ বাদলকে দমানোর পরিকল্পনা করেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জাকারিয়া বাদলসহ তিনজন একটি মোটরসাইকেলে ভীমগঞ্জ বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে ওত পেতে থাকা লুৎফর ও নুরে আলমের অনুসারীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা করে। দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাঁদের গুরুতর জখম করা হয়। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে শেরপুর ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে বাদল ও সোহাগকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ব্যাপারে শেরপুর বিএনপির সাবেক এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক লুৎফর রহমানের সঙ্গে বিএনপি নেতা জাকারিয়া বাদলের বিরোধ চলছিল। এরই জেরে কৃষক লীগ নেতা, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নূরে আলম চেয়ারম্যানের লোকজন লুৎফরের লোকজনের সঙ্গে মিলে বাদলের ওপর হামলা করেছে বলে জানতে পেরেছি।’

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে কামারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক লুৎফর রহমান বলেন, ‘বাদল আমার দলেরই লোক। আমি কেন তার ওপর হামলা করব? বাদলের অনেক শত্রু। তাদেরই কেউ হয়তো হামলা করেছে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শেরপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এলাকায় যৌথ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ হামলাকারীদের ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!