
হুমায়ুন কবির সুমন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর ও শাহজাদপুর উপজেলার কয়েকটি গ্রামকে যমুনা নদীর ভাঙ্গনের কবল থেকে রক্ষা করার জন্য এনায়েতপুর থেকে পাঁচিল পর্যন্ত যমুনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধের ৬শত ৪৭ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ চলছে। সরেজমিন দেখা যায়, নদীতে অবৈধ ড্রেজার। ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করতে দেখা যাচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের। সেই বালু দেওয়া হচ্ছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে। কাজটি করছেন একাধিক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বাহির থেকে বালু এনে বাঁধ নির্মাণ করার কথা থাকলেও নির্মাণাধীন বাঁধের কাছ থেকে নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে সেই বালু বাঁধ নির্মাণের কাজ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এর পর থেকে এই যমুনা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন মারাত্মক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী হাসমত শেখ, মো: উদায় সরকার, কাউছার সরকার, মো: মিঠু মির, মো: জাহিদ হোসেন (জহুরুল), মঞ্জু শিকদার, কালাম শিকদার। প্রশাসনের দুর্বলতা ও নজরদারির অভাবের সুযোগ নিয়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলন করে জমি ভরাট করে আসছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদী তার প্রাকৃতিক ভারসাম্য হারাচ্ছে এবং এনায়েতপুর থেকে পাঁচিল পর্যন্ত যমুনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধের যে কাজ চলমান আছে তার সুফল কতটুকু হবে সে বিষয়ে এলাকার জনগণের কাছে জানতে চাইলে এলাকার জনগণ বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
তারা বলেন, ‘তাই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। এ সমস্যা মোকাবিলায় প্রভাবশালী হাসমত শেখের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সচেতন করতে হবে।
তারা আরও বলেন, ‘একই সঙ্গে বিকল্প নির্মাণ উপকরণ ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে বালুর চাহিদা কমানোর চেষ্টা করতে হবে। যমুনা নদী শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি স্থানীয় জনজীবনের অংশ। তাই নদীটি রক্ষা করা আমাদের নৈতিক ও পরিবেশগত দায়িত্ব। সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলার প্রায় এলাকা ও শাহজাদপুর উপজেলার কিছু এলাকা যমুনা নদীর ভাঙ্গনে নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ঠিক পাশে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন ও নদীতে পানির প্রবল স্রোতের কারণে বাঁধ ভেঙে যায়। এবার নদীতে তেমন কোনো স্রোত নেই। কিন্তু পাশের ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করার কারণে গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। বাঁধ ভেঙে আবার সেই গর্ত ভরাট হচ্ছে। নদীপাড়ের মানুষের বসতবাড়িসহ ফসলি জমি যেকোনো মুহূর্তে আবারও চলে যেতে পারে নদীগর্ভে।
বালু উত্তোলনকারী হাসমত শেখ সাথে যোগযোগের জন্য তার ফোন নম্বরে বারবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি। তবে একাধিকবার যোগাযোগ করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুয়েল মিয়া বলেন, ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়য়ে আমার জানা নেই।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মোখলেছুর রহমান বলেন, আমাদের প্রয়োজনে কাছিু মাটি কাটতে হচ্ছে। তার বাহিরে যদি কেউ মাটি কাটে সে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন দেখবে। যদি নদীতে ড্রেজার পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন
শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সাকিব রাইয়্যানের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
কাউখালীতে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল