
হুমায়ুন কবির সুমন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জ বেলকুচির কদমতলী গ্রামের মো: আসলাম উদ্দিন ও প্রবাসী আল আমিনের স্ত্রী মোছা: শামসুন্নাহারের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ৬লক্ষ বিশ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রতারক আসলাম উদ্দিন বেলকুচির কদমতলী গ্রামের মো: আব্দুল আউয়াল আকন্দের ছেলে ও শামসুন্নাহার রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার পঞ্চানন গ্রামের মোঃ তোতা মিঞার মেয়ে ও ভুক্তভুগী প্রবাসী মো: আল আমিন প্রমানিকের স্ত্রী।
শনিবার (১৮ জানুয়ারী-২০২৫) ভুক্তভোগীরা এ তথ্য জানান। সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলয়র কদমতলী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রতারক আসলামের বিরুদ্ধে আমলী আদালত বেলকুচিতে মামলা করেছে কদমতলী গ্রামের মো: মতিন প্রমানিকের ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী মো: আল আমিন প্রমানিক।
এঘনায় আদাল সিরাজগঞ্জ সিআইডিকে তদন্ত দিলে সিআইডি তদন্ত শেষ করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে। সিআইডির তদন্তে অভিযুক্ত দষী প্রমানিত হয়েছে। অভিযোগ ও মামলার তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানানয়ায়, আল আমিন ও আসলাম উদ্দিন একই গ্রামের বাসিন্দা। আসলাম উদ্দিন বাদীকে সর্বশান্ত করার জন্য তার সাথে সু-সম্পর্ক গড়ে তোলে এ কথা আল আমিন আগে বুঝিতে পারে নাই।
আল আমিন ২০১৪ সালে মালয়েশিয়া রাষ্ট্রে গমন করে এবং ২০২১ সালে নিজ দেশে ফেরত আসে। আল আমিন মালয়েশিয়া রাষ্ট্রে চাকুরী করার সময় রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার পঞ্চানন গ্রামের মোঃ তোতা মিঞার মেয়ে শামসুন্নাহার এর সাথে মোবাইলে রং নাম্বারে যোগাযোগ হয়। এর পর শামসুন্নাহার আল আমিন মালয়েশিয়া রাষ্ট্রে থাকাকালীন সময়ে ২০১৯ সলে আল আমিনের বাড়ীতে ঢুকে আল আমিনের সাথে বিয়ের মত প্রকাশ করে।
আল আমিন বাড়ীর লোকজন সেসময় বলে যে, আলামিন বিদেশে তার সঙ্গে বিয়ে হবে না। তখন উক্ত শামসুন্নাহার উচ্ছৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে গ্রামের কতিপয় লোকের সহযোগীতায় গত ১২/১০/২০১৯ তারিখে আল আমিনের অনুপস্থিতিতে আল আমিন সাথে শামসুন্নাহার এর সাথে ১লক্ষ টাকা দেনমোহরানা ধার্যে রেজিঃ হয়।
উক্ত কাবিন নামায় আল আমিন ২০২১ সালে বাংলাদেশে এসে স্বাক্ষর করে। অভিযুক্ত আসলামের সাথে আল আমিনের স্ত্রী শামসুন্নাহারের যে গোপন আর্থিক এবং অন্যান্য সম্পর্ক ছিল তা আল আমিন বুঝিতে পারে নাই। আল আমিনের স্ত্রী শামসুন্নাহার প্রায়শই অত্র আসলামের কু-পরামর্শে আল আমিনের নিকট মোটা অংকের টাকা দাবী করে ঝগড়া সৃষ্টি করতো, শামসুন্নাহারের বাবার বাড়ীতে চলে যেতো ও বিভিন্ন জায়গায় অতœগপনে থকতো।
এমতাবস্থায় আসলাম, আল আমিনকে তার স্ত্রী শামসুন্নাহারের বাবার বাড়ী নিয়ে গিয়ে আল আমিনকে হত্যা করার ভয় দেখিয়ে আসলামের পূর্ব পরিকল্পন মোতাবেক কিছু কাগজে শামসুন্নাহারের লোকজনের মাধ্যমে আল আমিনের সাক্ষর গ্রহন করে ও আসলাম নিজেও সাক্ষর দেয়।
এর পর আল আমিন তার স্ত্রী সহ ৭জনের বিরুদ্ধে আমলী আদালত বেলকুচিতে একটি মামলা দায়ের করে। যাহার পিটিশন নং ১৫৯/২০২২, ধারা-৩৮৬/৩৪২/৩৭৯/১০৯/৩৪ দঃ বিঃ। এমতাবস্থায় আসলাম, আল আমিনের কাছে ৭ লক্ষ টাকা চায়। আল আমিন, শামসুন্নাহারের সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ করে দিবে বলে আসলাম এর কথায় বিশ্বাস স্থাপন করে।
আল আমিন সাক্ষীদের উপস্থিতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ বেলকুচি শাখা, সিরাজগঞ্জের মাধ্যমে আসলামের ব্যাংক হিসাবে ৪,৬০,০০০/- (চার লক্ষ ষাট হাজার) টাকা প্রদান করে। ঘটনার দিন আসলাম, আল আমিন এর বসত বাড়ীতে এসে আল আমিনের বসত ঘরে বসে ‘সাক্ষীগনের মোকাবেলায় আল আমিনের কাছ থেকে নগদ ১লক্ষ ৬০ হাজার টাকা গ্রহন করে। আসলাম, আল আমিনের কাছ থেকে মোট ৬, লক্ষ ২০ হাজার টাকা গ্রহন করে।
পরে আসলাম শামসুন্নাহারের সাথে আল আমিনের বিবাহ বিচ্ছেদ না ঘটিয়ে তালবাহানা করে সময় ক্ষেপন করতে থাকে। আল আমিন আসলামের কাছ থেকে পাওনা ৬ লক্ষ ২০ বিশ হাজার টাকা ফেরত দাবী করেলে আসলাম, আল আমিনকে মারপিট করে ও হত্যার ভয় দেখায়। এর পরে সাক্ষীসহ আসলামের বাড়ীতে গিয়া আল আমিন পাওনা ৬ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ফেরত দাবী করলে আসলাম টাকা দিতে অস্বীকার করে। আল আমিন আগে জানলে আসলামের কথামত কখনোই ৬লক্ষ ২০ হাজার টাকা প্রদান করতো না। সিআইডর তদন্তে আসলাম প্রতারনা করে আল আমিনের ৬ লক্ষ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে প্রমাণিত হয়েছে।
আল আমিন প্রমানিক জানান, আমি মালয়েশিয়া থাকা অবস্থায় আমি আমার স্ত্রীর কাছে টাকা পাঠায়। এসকল টাকা আমার স্ত্রী অতœসাধ করেন। আমার কষ্টের টাকা ফেরৎ চাওয়ায় আমার স্ত্রী ও কদমতলী গ্রামের আসলাম নাটক সাজিয়ে আমাক সর্বশান্ত করে দিয়েছে। আমি এখন নিশ্ব হয়ে গেছি। সু-বিচারের পেতে আশায় ঘুরে বেড়াচ্ছি। প্রতারক আসলাম ও শামসুন্নাহারের শাস্তি দাবী করছি।

আরও পড়ুন
কাউখালীতে বাবা-মায়ের সঙ্গে অভিমানে স্কুলছাত্রের আত্মহত্যা
নওগাঁয় ডেঙ্গু মশা সম্পর্কে সচেতনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৪০০ জন দুঃস্থদের মাঝে মশারি বিতরণ
নওগাঁয় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত