
হুমায়ুন কবির সুমন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও জোর পূর্বক পুকুরের মাছ মারার অভিযোগে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা বিএনপির সভাপতি স.ম আফসার আলী ও সাধারন সম্পাদক আমিনুর রহমান টুটুলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গত ১৩ জানুয়ারি মামলার বাদী রাশিদা সুলতানার আবেদনের প্রেক্ষিতে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
শুক্রবার সকালে সিরাজগঞ্জ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টটিকেশনের (পিবিআই) মুন্সিখানার দায়িত্ব প্রাপ্ত কনষ্টেবল লিমা বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আদালতে থেকে প্রেরিত মামলার প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র হাতে পেয়েছি। পুলিশ সুপার স্যার ছুটিতে আছেন। তার সাথে পরামর্শ করে মামলাটি তদন্ত করার জন্য এক সাব ইন্সপেক্টরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ৭ অক্টোবর তাড়াশ উপজেলার জাহাঙ্গীরগাঁতী গ্রামের রাশিদা সুলতানা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। পরে মামলাটির তদন্ত করে পুলিশ। পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে তাড়াশ উপজেলা বিএনপির সভাপতি স.ম আফসার আলী, সাধারন সম্পাদক আমিনুর রহমান টুটুল সহ ৫ আসামীকে অব্যবহতি দেয় পুলিশ। পরে পুলিশের দায়ের করা প্রতিবেদনের উপর নারাজি দেয় বাদী পক্ষ। গত ১৩ জানুয়ারি মামলাটি তদন্তের জন্য জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট অথবা পিবিআই দায়িত্ব দেওয়ার আবেদন করা হয়।
মামলায় তাড়াশ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক সহ ৩০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে। মামলার অভিযোপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, তাড়াশ উপজেলার পশ্চিম পাইকড়া মৌজার ২৪ শতক পুকুর পাড়ে মামলার বাদী পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছেন এবং পুকুরে রুই, কাতলা, মিগেল, বিগেট, সিলভারকাপ, গ্রাসকাপ ও বাটা মাছ সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করে।
এমতবস্থায় ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট তাড়াশ উপজেলা বিএনপির সভাপতি স.ম আফসার আলী ও সাধারন সম্পাদক আমিনুর রহমান টুটুল ও আফসার আলীর ছেলে সাইদুর রহমান মামলার বাদী ও তার বোনের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেন। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করায় পরের দিন ৮ আগস্ট আসামীরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে লোকজন নিয়ে বাদীর পুকুর পাড়ে এসে মাছ মারার উদ্যোগ নেয়। এসময় মামলার বাদী ও তার পরিবারের সদস্যরা বাঁধা দিলে পুনরায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেন।
পরবর্তীতে আসামীরা ৮.৯ ও ১০ আগস্ট জোর পূর্বক পুকুর থেকে ২২২ মন মাছ মেরে নিয়ে যায়। যাহার মূল্য ২০ লাখ টাকা। এঘটনায় রাশিদা সুলতানা বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করে। কিন্তু অভিযোগ পত্রে আসামীদের মধ্যে তাড়াশ উপজেলা বিএনপির সভাপতি স.ম আফসার আলী, সাধারন সম্পাদক আমিনুর রহমান টুটুল, আফসার আলীর ছেলে সাইদুর রহমান, শাহীন তালুকদার ও শরীফের নাম বাদ দেওয়া হয়। তদন্ত কর্মকর্তা অবৈধ ভাবে বাধ্য হয়ে মামলা থেকে তাদের অব্যাহতি দিয়েছে বলে অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়েছে, আসামী আফসার আলী, আমিনুর রহমান টুটুল, সাইদুর রহমান ও শাহীন তালুকদারের দ্বারা অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা আসামীদের দ্বারা অবৈধ ভাবে বাধ্য হয়ে মিথ্য তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেছেন। ঘটনার সত্যতা প্রমানের জন্য জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট অথবা পিবিআই দ্বারা তদন্ত করা প্রয়োজন। পরে আদালত মামলাটি তদন্ত করার জন্য পিবিআইকে নির্দেশ প্রদান করেন।
তাড়াশ উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আমিনুর রহমান টুটুল বলেন, মামলার বাদী যে অভিযোগ করেছে তা সত্য নয়। তদন্তে তা প্রমাণীত হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি।
এবিষয়ে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন বলেন, বাদীর অভিযোগ সত্য না। ভুয়া কথা। আমরা যা তদন্তে পাইছি তাই দিয়েছি।

আরও পড়ুন
বাঘায় পৌর প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারের ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবির লিখিত অভিযোগ, অফিসে উত্তেজনা
বগুড়া শাজাহানপুরে ধর্ষণ মামলার পলাতক কিশোর গ্রেপ্তার
সিরাজগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান বাবু মিয়া ও রিজভীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতিবাদ সভা