হোম » সারাদেশ » ৪০ বছর ধরে ‘মটকা’ বিক্রির টাকায় চলে সংসার

৪০ বছর ধরে ‘মটকা’ বিক্রির টাকায় চলে সংসার

Oplus_0

মিয়া রাকিবুল, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ রাম বাবুর নামে প্রতিষ্ঠিত রামদিয়ার তিলের মটকা। যা আদিকাল থেকে এখনো জনপ্রিয় মানুষের মুখে মুখে। স্বাদে ভরপুর এ মটকা বিক্রি করে প্রায় ৪০ বছর ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের টিকরপাড়া গ্রামের আজিজার মোল্যা (৬০)।
এরশাদের আমল থেকে অর্থাৎ ১৯৮৩ সাল থেকে আজও মটকা বিক্রি করে তিনি চালান অভাবের সংসার। প্রতিদিন সকাল হলেই হাতে একটি ব্যাগ ভর্তি মটকা নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন। এরপর চলে আসেন আলফাডাঙ্গা সদর বাজারে। সন্ধ্যা পর্যন্ত বাজারের বিভিন্ন অলিগলি ঘুরে ঘুরে বিক্রি করেন তা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিতরে মটকা বিক্রি করছেন আজিজার মোল্যা। তার চারপাশে ভীড় করেছেন মটকা প্রেমিরা। এসময় দৈনিক গণমানুষের আওয়াজের এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপ হয় মটকা বিক্রেতা আজিজার মোল্যার। জানা যায় তার জীবনের গল্প।
আজিজার মোল্যার বয়স যখন ১৫ বছর তখন তার বাবা মারা যান। এরপর থেকেই সংসারের হাল ধরতে হয় তাকে। দারিদ্র্যের কশাঘাতে জীবন-জীবিকার তাগিদে বেছে নেন স্বল্প পুঁজির মটকা ব্যবসা। এরপর থেকেই দেশজুড়ে সুখ্যাতি রাজবাড়ীর বিখ্যাত রামদিয়ার তিলের মটকা পাইকারি দরে ক্রয় করে এনে বিক্রি শুরু করেন। নিজের জমি বলতে বসত ভিটার চার শতক ছাড়া কিছুই নেই। বর্তমান স্ত্রী, এক ছেলে, পুত্রবধূ নিয়ে ৪ জনের সংসার।
দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন অনেক আগেই। একমাত্র ছেলে কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন থাকার কারণে ঠিকমতো উপার্জন করতে পারেন না। বলতে গেলে মটকা বিক্রির রোজকার দিয়েই চলে গোটা সংসার। আজিজার মোল্যা জানান, প্রতি সপ্তাহে দুইবার করে রাজবাড়ীর রামদিয়া থেকে পাইকারি দরে মটকা ক্রয় করে আনেন তিনি। প্রতিবার একহাজার পিস করে আনেন। সেসব বিক্রি করতে ২-৩ দিন সময় লাগে তার।
মটকা কিনতে আসা মিল্টন আহমেদ মিলন নামের এক যুবক বলেন, আজিজার চাচার মটকা খুবই মজাদার। আমি প্রায়ই খাই। আবার মাঝে মাঝে আমার ছেলে-মেয়ের জন্য কিনে নিয়ে যাই।
প্রতিদিন মটকা কেমন বিক্রি হয় জানতে চাইলে আজিজার মোল্যা বলেন, প্রতিদিন ২০০-২৫০ পিস মটকা বিক্রি করি। একপিস মটকা ৫ টাকা দরে বিক্রি করায় দৈনিক প্রায় চারশত থেকে পাঁচশত টাকা লাভ হয়। আজিজার মোল্যা আরো বলেন, শুনেছি গরিবের জন্য সরকারি অনেক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। কিন্তু আমি এ পর্যন্ত কোনো সুবিধা পাইনি। আমার ঘরের ভিটা ছাড়া অন্য কোনো জমি বা সম্পত্তি নেই। আমি অসুস্থ্য, অসুস্থতার কারণে অনেক সময় শরীর যেন হাল ছেড়ে দেয়। তবুও পেটের তাগিদে এই অসুস্থ্য শরীর নিয়েই মটকা বিক্রি করি।
মটকা বিক্রেতা আজিজার মোল্যার গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য পলাশ মাহমুদ জানান, আজিজার চাচা একজন কঠোর পরিশ্রমী মানুষ। সেই ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি মটকা বিক্রি করে সংসার চালান তিনি। বুড়াইচ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব পান্নু মিয়া বলেন, সে জীবন যুদ্ধে একজন সফল সৈনিক। সরকারি তার প্রাপ্য সকল সুযোগ-সুবিধা যাতে পায় সেই বিষয়ে আমি চেয়ারম্যান হিসেবে দেখবো।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!