হোম » সারাদেশ » চৌমুহনী-সোনাইমুড়ীর সড়কে ফিরেছে চাঁদাবাজেরা

চৌমুহনী-সোনাইমুড়ীর সড়কে ফিরেছে চাঁদাবাজেরা

গোলজার হানিফ নোয়াখালী  জেলা প্রতিনিধি: ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পতন হলেও চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হয়নি। ক্ষমতার পালাবদলে বেশ কিছুদিন গা ঢাকা দিলেও সম্প্রতি আবারো সক্রিয় তারা। শুরু হয়েছে বিভিন্ন যানবাহনে টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজি। কৌশল একই রয়েছে বদলেছে শুধু চাঁদাবাজদের হোতারা। সরকার বদলের শুরুর দিকে কিছুটা ‘বিরতি’ দিয়ে নতুন পরিচয়ে আবারও সড়কে ফিরেছে চাঁদাবাজেরা। নোয়াখালীর চৌমুহনী চৌরাস্তা, সোনাইমুড়ী-ছাতারপাইয়া চৌরাস্তা, কলেজ গেট স্প্রিংয়ের পোল এলাকায় এখন অটোরিক্সা, সিএনজি থেকে চাঁদাবাজি চলছে।
চৌমুহনী চৌরাস্তা ও সোনাইমুড়ী এলাকার কয়েকজন মিশুক ও সিএনজি চালক জানান, সরকার পরিবর্তনের পরে কয়েকদিন টোলের নামে চাঁদাবাজি বন্ধ ছিলো। তখন শান্তিতে গাড়ি চালিয়েছেন। গত মাস থেকে আবারো সেই চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে। আগে যেসব লাইনম্যানেরা চাঁদা নিতো তারাই চাঁদা নিচ্ছে।
সূত্র বলছে, চলতি বছরের ৫ই আগষ্টের পর থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সড়কে চাঁদাবাজদের দেখা যায়নি। অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময় কিছু কিছু সড়কে চাঁদাবাজরা ফিরতে শুরু করে। নভেম্বর মাস থেকে চৌমুহনী চৌরাস্তা ও সোনাইমুড়ী পৌর এলাকার সড়কে আগের মতই চাঁদার টাকা তোলা শুরু হয়েছে।
জানা যায়, আওয়ামী শাসনামলে নোয়াখালীর সকল পৌর এলাকার বিভিন্ন মহলের ইজারার টেন্ডার ছিলো আওয়ামী নেতাদের দখলে। নানা কারসাজিতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতা ও তাদের স্বজনরা নামে-বেনামে সিন্ডিকেট করে সকল ইজারা নিজেদের মধ্যেই রাখতেন। চলতি বছরের জানুয়ারী মাসেও চৌমুহনী পৌরসভায় সিএনজি, অটোরিক্সা ও বেবী যাত্রীবাহী মহালে নাজমুল হোসেন নামের ইজারাদারের স্লিপে টোল আদাই করা হতো। সেসময় সিএনজি, অটোরিক্সার চালকদের থেকে নেওয়া হতো ১০ টাকা করে। পরে গত ২৭ শে জানুয়ারি তৎকালীন নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের এমপি মামুনুর রশীদ কিরণ নোয়াখালী জাতীয় হকার্স সমবায় সমিতি লিঃ-এর সভায় সিএনজি, অটোরিকশা ও মিশুক থেকে চাঁদা বন্ধ করার জন্য বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।
তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, চৌমুহনী চৌরাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের সামনেই চাঁদা আদাই করা হচ্ছে। সেখানে ইজারাদার ইসতিয়াক আলমের নাম দেওয়া স্লিপের মাধ্যমে টাকা তোলা হচ্ছে। প্রতি সিএনজি, অটোরিক্সার চালকদের থেকে নেওয়া হচ্ছে ১৫ টাকা করে। চাঁদা আদাইকারীরা জানায় পৌরসভার মাধ্যমে তারা টোল তোলার টেন্ডার নিয়েছে। তবে সূত্র নিশ্চিত করেছে, সরকার পতনের পর চৌমুহনী পৌরসভার পক্ষ থেকে যাত্রীবাহী মহালে টোল আদাই করতে নতুন কাউকে ইজারা দেয়নি। এমনকি সরকার পতনের পূর্বে যারা পৌরসভা থেকে টোল আদায়ের টেন্ডার পেয়েছিলো তারা গা ঢাকা দিয়েছে। বর্তমানে টোলের নামে একটি মহল আগের স্লিপেই চাঁদাবাজি করছে।
এদিকে সোনাইমুড়ী পৌরসভার সোনাইমুড়ী-ছাতারপাইয়া চৌরাস্তা ও কলেজগেট স্প্রিং পোল এলাকায় অটোরিক্সা, সিএনজি থেকে টাকা তুলছে একটি মহল। সেখানে সিএনজি, অটোরিক্সার চালকদের থেকে নেওয়া হচ্ছে ১০ টাকা করে। এছাড়া ইটের ট্রলি, মিনি পিকআপ থেকে আলোচনা সাপেক্ষে চাঁদা আদাই করা হচ্ছে। সেখানে ইজারাদার রেশমা হেসেনের নামের স্লিপ দিয়ে চাঁদা আদাই করা হচ্ছে।
তবে সূত্র বলছে, রেশমা হোসেনের নাম দিয়ে পৌরসভা থেকে টেন্ডারটি বাগিয়েছিলেন সোনাইমুড়ী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাসেল মাহমুদ। আওয়ামী সরকার পতনের পর রাসেল মাহমুদ দেশে ছেড়েছেন। তবে সেই স্লিপ দিয়েই গত মাস থেকে নতুন করে চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে। আওয়ামী সরকারের সময় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাসেল মাহমুদের পক্ষে নামের এক ব্যক্তি টোলের বিষয় দেখাশোনা করতেন। সরকার পতনের পরে নতুন করে চাঁদাবাজি শুরু করলে ফয়েজকে আটক করে সেনাবাহিনী। পরে পৌরসভার একজন ইন্সপেক্টর আওয়ামী সরকারের আমলের টেন্ডারের কাগজ দেখিয়ে তাকে ছাড়িয়ে আনেন। ফয়েজকে আটকের পর কয়েকদিন চাঁদাবাজি বন্ধ থাকে। পরে আবার গত মাস থেকেই রেশমা হেসেনের নামের স্লিপ দিয়ে চাঁদাবাজি চালু হয়েছে।
এবিষয়ে সোনাইমুড়ী পৌর সচিব মো. মোশতাক আহমেদ তালুকদার জানান, সোনাইমুড়ী-ছাতারপাইয়া চৌরাস্তা, কলেজ গেট স্প্রিংয়ের পোল এলাকার অটোরিক্সা, সিএনজি থেকে টোল আদায়ে নতুন কাওকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। গত ৫ আগষ্টের পরে সোনাইমুড়ী পৌরসভায় টোল আদায়েল বিষয়ে নতুন কোন টেন্ডার হয়নি। আগের যারা টোল আদায়ের জন্য টেন্ডার নিয়েছিলো তাদের মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি। এখন কারা চাঁদা তুলছে সে বিষয় কিছুই জানেন না তিনি।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!