
২৫০ শয্যার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল থেকে বড় ইন্দারা মোড় পর্যন্ত সড়কটি যানবাহনের চাপে বরাবরই ব্যস্ত সময় পার করে। হাসপাতাল গেট থেকে ডিসি মার্কেট পর্যন্ত সড়কটির ৫০০ মিটারের মধ্যে ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতাল, বাণিজ্যিক অন্তত্ব ১০টি ব্যাংকের শাখা, সদর সার্কেল অফিস, সদর মডেল থানা, সাব রেজিস্ট্রি অফিস, পোস্ট অফিস, কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালসহ জনগুরুত্বপূর্ণ অফিস রয়েছে। এ সড়ক দখল করে দেদার চলছে কাঁচাবাজার।
প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সবজি, মাছ, মাংস, ফল ও মসলা জাতীয় পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসছেন বিক্রেতারা। এসব কিনতে সেখানে ভিড় জমান ক্রেতারা। এতে করে দিনের বেশির ভাগ সময়ই সড়কটি ব্যবসায়ীদের দখলে থাকে। রাস্তায় বাজার বসায় ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। যানজট যেন সেখানকার নিত্য সঙ্গী। চরম ভোগান্তি আর সীমাহীন দুর্ভোগ নিয়েই চলাচল করছে সাধারণ যাত্রীরা। কয়েক বছর আগে সম্প্রসারণ করা হলেও কার্যত লাঘব হয়নি চলাচলকারীদের ভোগান্তি। সড়কটিতে যদি চলাচল না করা যায়, তাহলে এতো টাকা খরচ করে তা সম্প্রসারণ করার কী দরকার ছিল। এমন সব প্রশ্ন ভুক্তভোগীদের। হাসাপাতালের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানের যেখানে সেই রাস্তায় কাঁচাবাজার বসানোর যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভার দায়িত্ব হচ্ছে পৌর এলাকার লোকজনের নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করা। অথচ চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা তা না করে রাস্তায় কাঁচাবাজার বসিয়ে উল্টো জনগণের চলার পথে বাধা সৃষ্টি করছে।
বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, পৌরসভা দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা ইজারা দিচ্ছে। ইজারাদারদের খাজনা দিয়ে রাস্তায় বসে ব্যবসা করতে হয়। একটু সমস্যা হলেও অনেকেই এখানে বাজার করতে আসেন। আমাদেরও বিক্রির সুযোগ হয়। তাই এখানেই ব্যবসা করি। আমাদের তো আর কোনো নির্দিষ্ট জায়গা নেই। তাই বাধ্য হয়েই এখানে দোকান দিয়ে বসি। আমাদের জায়গা করে দিলে সেখানে আমরা দোকান নিয়ে বসব। সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন চাঁপাইনবাবগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন জুয়েল বলেন, পৌরসভা কাঁচাবাজারটি প্রতিবছর ইজারা দিয়ে অর্থ আয় করে। প্রশ্ন হচ্ছে অর্থ আয়ের জন্য পৌরসভা কি সাধারণ মানুষকে কষ্টের মধ্যে ফেলতে পারে? অবিলম্বে এই কাঁচাবাজার অন্য কোনো ফাঁকা জায়গায় স্থানান্তর করতে হবে। জনভোগান্তি দূর করতে একটি পরিকল্পিত বাজার গড়ে তোলা জরুরি। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকেও তৎপর হতে হবে।
যা বললেন পৌর কর্তৃপক্ষ:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার শহর পরিকল্পনাবিদ মো. ইমরান হোসাইন জানান, এ পৌরসভার একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হয়েছে। মাস্টারপ্ল্যান বাস্তাবায়নের কাজ চলমান। তহাবাজার নামে এই কাঁচাবাজারটিও স্থানান্তরের বিষয়টি পরিকল্পনায় আছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক দেবেন্দ্র নাথ উঁরাও জানান চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভাকে উন্নত ও আধুনিক হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি। সে অনুযায়ী কাজ চলমান। তহাবাজার একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, এ বিষয়টি আমরা অবগত। আমরা নজর রাখছি। এ পৌরসভাকে পরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে ড্রোন সার্ভে করা হয়েছে। মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে শুধু তহাবাজার নয়, পৌরসভার সবগুলো বাজারে শৃঙ্খলা ফিরবে।
-আহিদুজ্জামান রিপন-

আরও পড়ুন
বগুড়া মহাস্থান মাজারের ১৫ দানবাক্সে মিলল সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা, গণনায় লেগেছে প্রায় দুই দিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার
নওগাঁয় সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করায় যুবক আটক