
নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার ইসরাত জাহানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে হাসপাতালকে দুর্নীতি ও ঘুষের আখড়ায় পরিণত করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা এ নিয়ে কয়েকবার তার কাছে প্রতিকার চেয়েও সুফল পাননি।
স্থানীয় এলাকাবাসী সালাউদ্দিন, নাসিম, ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর অভিযোগ করে জানান, বিগত ২ বছর পূর্বে সোনাইমুড়ী উপজেলার বারগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা ডাক্তার ইসরাত জাহান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন। যোগদানের পর অধিকাংশ কর্মচারী এই কর্মকর্তার আচরণে ক্ষুব্ধ হন।পরে তিনি স্থানীয় হওয়ায় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ও আওয়ামী লীগ সরকারের এমপি ইব্রাহিমের ভয়- ভীতি দেখিয়ে সব নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর আস্তে আস্তে রোগীদের হয়রানি বেড়ে যায়। বেড়ে যায় অতিরিক্ত টাকা লেনদেনের। এখন টাকা ছাড়াই সেবা মিলে না এই হাসপাতালে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার অনুপস্থিত, বহিরাগত লোকজন দিয়ে চিকিৎসা দেয়া,পরীক্ষা নিরীক্ষায অতিরিক্ত টাকা গ্রহণসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠে। আর এইসব অনিয়ম স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নিজেই কর্মকর্তা কর্মচারীদের দিয়ে করিয়ে থাকেন। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত ইপিআই টেকনিশিয়ান মামুনের মাধ্যমে সরকারি বরাদ্দের ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে হাতিয়ে নেন টাকা। গত এক বছর পূর্বে ম্যাটসের ছাত্র-ছাত্রীদের ইন্টানি করতে ৩ মাসের জন্য সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। তাদের ইন্টানির মেয়াদ শেষ হলেও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নিয়ম বহিভূতভাবে তাদেরকে দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা করাচ্ছে। শুধু তাই নয় হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ আসেন না। মাসে দুই একবার এলেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যান। প্রতিমাসে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইশরাত জাহানকে নির্দিষ্ট অংকের খাম ধরিয়ে দিয়ে এ ধরনের অনিয়ম করে থাকেন ডাক্তাররা। হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ, এক্সরে বিভাগ, ঠিকাদান কেন্দ্র, ডেলিভারি রুম, ভর্তি রোগীদের ওয়ার্ড ও জরুরি বিভাগে টাকা ছাড়া কোন সেবা মিলে না। আর এইসব টাকার ভাগ পান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নিজেই। স্থানীয় এলাকাবাসীরা কয়েকবার এ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার ইসরাত জাহান এর কাছে অভিযোগ করেও কোন সুফল পাননি। তিনি নিজে স্থানীয় হাওয়ায় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কাউকে তোয়াক্কা করেন না।
ভর্তিকৃত রোগী রাহেলা বেগম, সুফিয়ান জানান, রোগীদের যে খাদ্য দেয়া হয় তা নিম্নমানের। মুখে নেয়া যায় না। তরকারিতে উপকরণ কম দিয়ে রান্না করা হয়। সিডিউল অনুযায়ী রোগীদের খাদ্য সরবরাহ করা হয় না। খাদ্য সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সাথে অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে এ ধরনের অনিয়ম বছরকে বছর করে যাচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মচারী জানান, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার ইসরাত জাহান এখানে যোগদান করার পর অনিয়ম আরো বেড়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি এমপি ইব্রাহিমকে দিয়ে সব ম্যানেজ করতেন। তার অনিয়ম- দুর্নীতি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করতেন সে সময়ের সরকার দলের লোকজন। বর্তমানে তিনি খোলস পাল্টিয়ে বিএনপির লোকজনের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখছেন। স্বস্থ্য কর্মকর্তা সাধারণ রোগীকে হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার, কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ভাতার টাকা আত্মসাত ও আনুতোষিক ভাতা নয় ছয় করে আসছেন তিনি। এমনকি ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন, খুদে চিকিৎসক ক্যাম্পেইন ভাতা ও মাঠকর্মীদের সম্মানি ভাতা পর্যন্ত হাতিয়ে নেন। ভুক্তভোগী স্টাফরা এসব অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদ করলে পড়তে হয় বিপাকে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আর এম ও ডাক্তার রিয়াজ উদ্দিন বলেন, হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা ডিউটি করেন না এটা সত্য। ২৬ শে অক্টোবর শনিবার সকাল ১১ টার দিকে নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার মাসুম ইফতেখার সরেজমিনে হাসপাতালে আসেন। প্রতিটি ডাক্তারের রুমে ও জরুরী বিভাগ পরিদর্শন করেন। সেসময় তিনি কিছুটা অনিয়ম পান।
সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার ইশরাত জাহান বলেন, তিনি কোন অনিমের সাথে জড়িত নয় বলে এড়িয়ে যান।
নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার মাসুম ইফতেখার বলেন, ইন্টানির মেয়াদ শেষ হওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছে। এ খবর তিনি জানতেন না। এ ধরনের অনিয়ম যেন ভবিষ্যতে না হয় সেই লক্ষ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
-মোহাম্মদ হানিফ-

আরও পড়ুন
বগুড়া মহাস্থান মাজারের ১৫ দানবাক্সে মিলল সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা, গণনায় লেগেছে প্রায় দুই দিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার
নওগাঁয় সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করায় যুবক আটক