
সিরাজগঞ্জে রাবেয়া খাতুন (২০) নামে এক গৃহবধুকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও পরিবারের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) ভোররাতে সদর উপজেলার কোনাগাঁতী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে নিহতের মরদেহ উদ্দার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন প্রেম। এই সম্পর্কের আলোকে প্রায় ৫বছর আগে সদর উপজেলার কড্ডার কৃষ্ণপুর গ্রামের দুলাল শেখের মেয়ে রাবেয়া খাতুনের সঙ্গে একই উপজেলার কোনাগাঁতী গ্রামের মৃত বক্কার শেখের ছেলে স্থানীয় বাজারের (পশু ডাক্তার) রাকিব হাসানের বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাস তাদের সংসার ভালোভাবে গেলেও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী রাকিব হাসান স্ত্রী রাবেয়া খাতুনকে মারধর ও বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনতে বলতো। এসকল বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া লেগেই থাকতো।
নিহতের মা নারগিস বেগম অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পড় থেকেই আমার মেয়েকে মারধর ও মানুষিক নির্যাতন করতো রাকিব। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় পারিবারিকসহ এলাকায় সালিশ বৈঠকও হয়েছে।
শুক্রবার রাতে রাকিব বাড়িতে গিয়ে আমার মেয়েকে বালিশ চাপা দিয়ে মেরে গলায় ফাঁস দিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে আমাদের খবর দেয় রাবেয়া আত্মহত্যা করেছে। আমার মেয়ের পেটে ৮ মাসের কন্যা সন্তান রয়েছে। পেটে সন্তান রেখে সে কখনোই আত্মহত্যা করতে পারে না। আমার মেয়েকে রাকিব ও তার মাসহ পরিবারের সদস্যরা পরিবার হত্যা করেছে। আমার মেয়ের হত্যাকারীদের বিচার দাবি করছি।
এ বিষয়ে রাকিব হাসানের মা বলেন, শুক্রবার রাতে আমার পুত্রবধূ রাবেয়া ও রাকিবের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর আমি ঘুমিয়ে পড়ি। তারপর ভোররাতে দেখি ঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁস দিয়ে ঝুলে রাবেয়া। আমরা বা আমার ছেলে রাকিব আমার পুত্রবধূকে হত্যা করেনি। সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়েই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা সম্ভব হবে।
-হুমায়ুন কবির সুমন-

আরও পড়ুন
কর্মসংস্থানের শর্তে মুচলেকা: সোনারগাঁয়ে মাদক ব্যবসা ছাড়লেন আরও এক ব্যবসায়ী
বগুড়ার কাহালুতে পুকুরের পানিতে ডুবে ভাই-বোনসহ তিন শিশুর মৃত্যু
মাদকসংক্রান্ত বিরোধে শ্যালককে রক্ষা করতে গিয়ে দুলাভাই নিহত, আহত ২