
জান ভিক্ষা চেয়েও প্রানে বাঁচতে পারলেন না নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি থানার কনস্টেবল মোঃ ইব্রাহিম। মৃত্যুর আগে কনস্টেবল তার নিজের জীবন ভিক্ষা চেয়ে বলে, আমার আট মাস বয়সী শিশু সন্তান আছে। তোমাদের সঙ্গে আমার কোন শত্রুতা নেই। আমি দুই মাস হয়েছে থানায় যোগদান করেছি। আমাকে ছেড়ে দাও। আমি বাঁচতে চাই।
নোয়াখালী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফারুক তার কার্যালয়ে শনিবার সকাল ১১ টার দিকে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানান, সোনাইমুড়ী থানায় গত ৫ আগস্ট দুস্কৃতিকারীদের আক্রমনে ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে নৃশংসভাবে পুলিশ সদস্য হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত অন্যতম ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফোন উদ্ধার ও বিজ্ঞ আদালতে আসামীদের দোষস্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ১০ অক্টোবর গভীর রাতে অভিযান পরিচালনা করে সোনাইমুড়ির বিভিন্ন এলাকা থেকে নৃশংসভাবে পুলিশ সদস্য হত্যাকান্ডের ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকায় ১। নাইম হোসেন (২১), পিতা- ছিদ্দিক সাং- সোনাইমুড়ী পৌরসভা, ২। ইমাম হোসেন প্রকাশ ইমন (২২), পিতা-আব্দুল হামিদ, সাং- জয়াগ, সোনাইমুড়ী, ৩। নাহিদুল ইসলাম (১৬), পিতা- মৃত শফিকুল ইসলাম, সাং- সোনাইমুড়ী পৌরসভা জেলা নোয়াখালীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ০১ টি Realme c21y, ০১ টি TECHNO SPARK BG7 নিহত কনস্টেবল মো: ইব্রাহিমের দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে তাহারা স্বীকার করে যে, গত ০৫/০৮/২০২৪ ইং তারিখ বিভিন্ন সময়ে প্রত্যেকেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে বে-আইনী জনতাবদ্ধে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দাঙ্গারূপ ধারণ করে। পুলিশের কর্তব্যকাজে বাঁধাদান, মারধর ও গুরুতর রক্তাক্ত জখম, হত্যা, অগ্নিসংযোগ, চুরি, সরকারী মালামালের ক্ষতিসাধন, অস্ত্র গুলি লুট, অর্ন্তঘাতী কার্যকলাপের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল। ধৃত সন্দিগ্ধ আসামী নাইম হোসেন, ইমাম হোসেন প্রকাশ ইমন ও আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশু নাহিদুল ইসলামগণ প্রথমে থানায় এসে থানা আক্রমণ করে এবং আসামী নাইম হোসেন থানার অস্ত্রাগার হইতে ০১টি এসএমজি ও ০৩টি হ্যান্ডকাফসহ ১০০ রাউন্ড গুলি লুট করে নিয়ে যায়।
পুলিশ সুপার আরো জানান, পরবর্তীতে প্রাণভয়ে জীবন রক্ষার্থে পলায়নরত পুলিশ সদস্যদের পরিকল্পিতভাবে তারা হত্যার উদ্দেশ্যে সংঘবদ্ধ হয়ে থানার পিছনের অংশের সীমানা প্রাচীরের কাছে গোপনে ওঁৎ পেতে থাকে। নিহত ভিকটিম কং/৭১৪ মোহাম্মদ ইব্রাহিম একটি নীল রংয়ের সরকারী টি-শার্ট পরিহিত অবস্থায় থানার সীমানা প্রাচীরের নিচ দিয়ে প্রাণ রক্ষার্থে টিনের বেড়ার ফাঁক দিয়ে বের হওয়ার সময় নাহিদুল ইসলাম তাহাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাধা দিয়ে ‘‘এইতো পুলিশ’’ বলে। তাৎক্ষনিকভাবে মারধর শুরু করে। সাথে সাথেই সন্দিগ্ধ আসামী ইমাম হোসেন প্রকাশ ইমন দৌড়ে এসে তার হাতে থাকা কাঠের তৈরী লাঠিসহ হত্যার উদ্দেশ্যে কনস্টেবল ইব্রাহিম এর মাথার পিছনে নৃশংসভাবে ৫/৬ টি গুরুতর আঘাত করে। এতে কনস্টেবল ইব্রাহিম গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে একযোগে হত্যার উদ্দেশ্যে তার সারা শরীরে এলোপাথারী আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় এবং মৃত্যুন্মুখ জেনেও নাইম হোসেন উক্ত কনস্টেবল ইব্রাহিম এর পকেট হতে তার ব্যবহৃত মোবাইল এবং মানিব্যাগের ভিতরে রক্ষিত পুলিশ আইডি কার্ডসহ নগদ ২৫০০/- টাকা নিয়ে যায়। তখনো গুরুতর আহত কনস্টেবল ইব্রাহিম করুন দৃষ্টিতে বাঁচার আকুতিতে তাদের দিকে তাকিয়ে ছিল।
কিন্তু তাদের মধ্যে কোন দয়ার উদ্রেক হয় নাই। পরবর্তীতে আবারো হত্যাকারীরা আসিয়া উপর্যুপুরি আঘাত করে কনস্টেবল ইব্রাহিম এর মৃত্যু নিশ্চিত করে। তাকে হাত-পা ধরে ঝুলিয়ে রাস্তায় নিয়ে টানাহেছড়া করে সারা শরীর ক্ষত-বিক্ষত করার মাধ্যমে সোনাইমুড়ী রেলক্রসিংয়ে কাছাকাছি রেখে বিজয় উল্লাসে মত্ত হয়। একপর্যায়ে ইমাম হোসেন প্রকাশ ইমন নাঈম হোসেনকে বলে, ‘‘আমি মারলাম পিটাইয়া! আর টাকা ও মোবাইল তোরা সব নিয়া যাইতাছস, আমার ভাগ কই?’।’ এই বলে মোবাইল ও টাকার ভাগ চাইলে আসামী নাইম হোসেন তাকে পরে যোগাযোগের মাধ্যমে ভাগ দিবে বলে ইমাম হোসেন প্রকাশ ইমন এর মোবাইল নম্বর নিজ মোবাইল হতে কল করে রেখে দেয়। ইমাম হোসেন প্রকাশ ইমন কনস্টেবল ইব্রাহিম এর মানিব্যাগে থাকা নগদ ২৫০০/- টাকার মধ্যে ০২ জনে ৪০০/- করে ০২ জনের জন্য ০২ জোড়া জুতা কিনে এবং বাকী ২০০/- টাকা দিয়ে সোনাইমুড়ী বাজারের মা মনি হোটেল থেকে খাবার খায়। অবশিষ্ট ১৫০০/- টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়ে যায়। মানিব্যাগটি রেললাইন দিয়ে হাঁটার সময় রেলব্রীজের নিচে পুলিশ আইডি কার্ডসহ পানির স্রোতে ফেলে দিয়ে আলামত বিনষ্ট করে।
সোনাইমুড়ি থানার ওসি মোরশেদ আলম জানান, তাদেরকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করে ফৌ: কা: বি: আইনের ১৬৪ ধারা মোতাবেক দোষস্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার আবেদন করলে ধৃত আসামীগণ নিজেদের ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত করে দোষস্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
-মোহাম্মদ হানিফ –

আরও পড়ুন
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল
ক্ষেতলালে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ৩১ পিস ট্যাপেনটাডলসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
বাঘা পৌরসভার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ