
রাতভর বৃষ্টিতে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে আবারও বেড়েছে পানি। এতে ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে জলাবদ্ধতা। বাড়ছে মানুষের ভোগান্তিবন্যা রূপ নিয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতায়, এখনও হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি বন্যার পানি নামছে ধীরগতিতে। ফলে বন্যা রূপ নিয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতায়। জলাবদ্ধতার কারণে নিম্নাঞ্চল ও এলাকার মানুষজন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
নোয়াখালী সোনাইমুড়ি উপজেলার নদনা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা যায় বন্যাকবলিত জলাবদ্ধ এলাকার লোকজন জানান, গত কয়েকদিন রৌদ্রোজ্জ্বল পরিবেশ থাকার কারণে বিভিন্ন স্থান থেকে পানি নামতে শুরু করে। পানি নেমে যায় বেশিরভাগ উঁচু এলাকা থেকে। তবে বেশিরভাগ নিম্ন এলাকা ছিল জলাবদ্ধ। এরই মধ্যে রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে নিচু এলাকাগুলোতে বেড়েছে পানি, পানি নেমে যাওয়া কিছু সড়কে আবারও উঠেছে পানি। বৃষ্টির সাথে নিচু এলাকাগুলোতে তিন থেকে চার ইঞ্চি পানি বেড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।বর্তমান বন্যার পানি অনেকটাই স্থির হয়ে আছে। খালের পানিতে কোনো প্রবাহ নেই। বন্যার পানি জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করেছে আশপাশের বাসাবাড়ির আঙিনায়। মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে চলাচল করছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, বিভিন্ন স্থানে খাল দখল, ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ, অপরিকল্পিত কালভার্ট তৈরি ও যেখানে সেখানে বাঁধ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের বাধা দেওয়ায় পানি নামছে না। যার ফলে , সোনাইমুড়ী উপজেলার বেশিরভাগ এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা রয়েছে। পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে জনসাধারণ বলছে, তাদের দুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ এখনও তারা দেখছেন না।
উপজেলা চাষির হাট ইউনিয়নের, ইউপি সদস্য বাহাদুর মেম্বার বলেন . প্রধান সড়কে পানি আর পানি. আমার বাড়িতে এখনো হাঁটুর ওপরে বন্যার পানি। বসতঘরের ভেতরও হাঁটুর কাছাকাছি পানি। গত দুই দিনে একটুও পানি কমেনি। আমাদের ভোগান্তির শেষ নাই। বারগাঁও ইউনিয়নের রাজিবপুর গ্রামের নুর নবী বলেন, বাড়ির আঙিনায় এখনো বন্যার পানি। গত কয়েক দিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় প্রথম দিকে পানি কমার প্রবণতা দেখা যায়। গতকাল রাতে আবারও বৃষ্টি হওয়ার কারণে দুই থেকে তিন ইঞ্চি পানি বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে চলাচলে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছি।
বারগাঁও ইউনিয়নের কাশিপুর বাজারে জাবেদ টেডাসের মালিক মোঃ জাবেদ বলেন । চৌহমুনী টু সাতারবাড়িয়া খালতি খনন করা হয়েছে দুইপাশের উচ্ছেদ করা ছিল এখন আবার দখল করা হয়েছে। যথাযথ সংস্কার না হওয়া, খালের ওপর কিংবা খালের পাশ ঘেঁষে নির্মিত বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনার ফলে জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের সমস্যা অবকাঠামো নির্মিত হলেও পরিকল্পিতভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।যার কারণে জলবদ্ধতা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকার কারণে পানি এখনো নামছেন না। বারগাঁও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান দুলাল বলেন বলেন, আমাদের উপজেলায় ভৌগলিকভাবে নিচু। প্রতি বছর বর্ষায় এমনিতেই জলাবদ্ধতা হয়। এবছর ইতিহাসের স্মরণকালের বন্যা হয়। ফলে এখন অনেকটা স্থায়ী জলাবদ্ধতার রূপ ধারণ করেছে। কারণ হচ্ছে ধারাবাহিক দখল ও বহুতল ভবন নির্মাণ করে পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করা। এখন সময় এসেছে এসব দখলদারিত্বের অবসান করতে হবে। বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করে দখল মুক্ত করে পানি নিষ্কাশনের পথ প্রসারিত করবে, এমটাই প্রত্যাশা উপজেলাবাসীর। দখলের যে সংস্কৃতি রয়েছে তার অবসান করতে হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিছ ফাতেমা বলেন . খালগুলো দিয়ে পানি না নামার কারণে বর্তমানে বন্যার পানি স্থায়ী জলাবদ্ধতায় রূপ নিয়েছে। আবার বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কারণে ক্ষতির পরিমাণও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এই সঙ্গে বন্যার্ত মানুষের দুর্ভোগও বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উত্তরণে শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
-মোহাম্মদ হানিফ-

আরও পড়ুন
শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সাকিব রাইয়্যানের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
কাউখালীতে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল