
সরকার নির্বাহী আদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যু দিবস ১৫ আগষ্টের ছুটি বাতিল করলেও এই দিনটিতে অফিস করেন নি বগুড়া শাজাহানপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা। ঐদিন তার অফিসে গিয়ে দেখাযায়, তিনি অফিসে নেই। শুন্য পরে আছে তার চেয়ার ও বন্ধ রয়েছে অফিস কক্ষ। মোবাইল ফোনে তার অফিসে অনুপস্থিত থাকার কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, কম্পিউটারের প্রিন্টারের সমস্যা হয়েছিল তাই মেরামতের জন্য বগুড়া শহরে গেছেন। এটা জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জানেন। অফিসে এতোগুলা কর্মচারী থাকতে কর্মকর্তা হয়ে নিজেই প্রিন্টার ঠিক করার জন্য যাওয়াটা অনেকটা বেমানান মনে হওয়ায় ফোনে বিষয়টি নিয়ে জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তানজিমা খাতুনের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, শাজাহানপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানাকে সাথে নিয়ে তিনি চশমা ঠিক করতে শহরে এসেছেন। দুইজনের দুই রকম উত্তর থেকে স্পষ্ট হয়েছে তারা ভুল তথ্য দিচ্ছে। এছাড়াও তারা ১৫ আগষ্টে অফিস করার এ বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না।
আর চশমা মেরামতের জন্য সরকারি কর্মকর্তা হয়ে অফিস ফেলে অফিস টাইমে বাহিরে যাওয়া কতটা যৌক্তিক জানতে চাইলে তিনি রাগান্বিত হয়ে বলেন, সে জবাব সাংবাদিককে দিতে হবে না।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে নির্ভরযোগ্য একটি সুত্র থেকে জানাযায়, শাজাহানপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার রেবেকা সুলতানা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করাকালীন ছাত্রলীগের নেত্রী ছিলেন। শিক্ষা জীবনে বিএনপি জামায়াতের বিরুদ্ধে সর্বদাই সোচ্চার ছিলেন এবং অগ্রনী ভুমিকা পালন করতেন।
সারাজীবন তিনি শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতীর পিতা মানতেন এবং ১৫ আগষ্ট শোক দিবস পালন করেছেন। আর আওয়ামী ছাত্রলীগের নেত্রী হওয়ার সুবাদে সুপারিশে তাকে চাকুরীতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এতোদিন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকতে দিবস পালনে তার কোন অসুবিধা মনে হয়নি।
কিন্তু হঠাৎ করে ১৫ আগষ্টের শোক দিবসের ছুটি বাতিল করায় বিষয়টি তিনি মন থেকে মেনে নিতে পারছিলেন না। তাই ১৫ আগষ্ট একটা অজুহাত দিয়ে অফিস ফেলে চলে যান। আর এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন জেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার তানজিমা খাতুন।
এমতাবস্থায় সরকারি আদেশ তিনি কতটা মানছেন বা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন কিনা তা এনিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলে। শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগের নেত্রী হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে তিনি ঠিকমত অফিস করেন না। এনিয়ে এর আগে বেশ কিছু গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও তার বিরুদ্ধে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এমনই দুঃসাহসিকতায় সরকারি নির্বাহী আদেশে ছুটি বাতিল হলেও তিনি তা অমান্য করে অফিস করেন নি। তাই তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবী তুলেছেন জাগ্রত ছাত্র ও জনতা।
-এম এ রাশেদ-

আরও পড়ুন
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল
ক্ষেতলালে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ৩১ পিস ট্যাপেনটাডলসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
বাঘা পৌরসভার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ