
দাগনভূঞা প্রতিনিধি : ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা ৮নং জায়লস্কর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড পূর্ব রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু সুফিয়ানের দৃঢ় মনোবল, শ্রম আর ইচ্ছা শক্তির কারণে এবং এলাকার বেকার যুবকদেরকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার কথা মাথায় রেখে উদ্যোগ গ্রহন করেন জুহান এগ্রো প্রাইভেট লিমিটেড নামীয় গরুর খামার। ২০১৯ সালে মাত্র দুইটি গরু দিয়ে শুরু করে এখন তার খামারে রয়েছে শতাধিকের অধিক পশু। নিরলস প্রচেষ্টা ও মনোবল আজ তাকে সফলতার দ্বারে পৌঁছে দিয়েছে স্বল্প সময়ে। আগামীতে এ খামার আরো আধুনিকভাবে বিস্তৃত লাভ করবে এমনটি ভাবছেন এ উদ্যোক্তা।
জানা যায়, দেশে গবাদিপশু তথা গরু পালন একটি লাভজনক পেশা। গরু পালন করে অনেকেই আর্থিকভাবে সচ্ছল হচ্ছেন, দূর করছেন তাদের বেকারত্ব। বাংলাদেশে গরুর মাংস খুব জনপ্রিয় এবং চাহিদাও প্রচুর। গরু মোটাতাজাকরণ পদ্ধতি বাংলাদেশের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং একটি লাভজনক ব্যবসা আর এটাকেই কাজে লাগিয়ে গড়ে তুলেন খামার। এই গরু মোটাতাজা করে সফল ও হয়েছেন তিনি। পনের জন লোকের আত্মকর্মসংস্থানের পাশাপাশি সম্পূর্ণ অর্গানিক পদ্ধতিতে খাবার খাইয়ে বানিজ্যিক আকারে দিনদিন সম্প্রসারণ হচ্ছে এ খামার। ইতিমধ্যে এ খামারের গরু কিনে লাইফ ওয়েটের মাধ্যমে ক্রেতারা হয়েছেন লাভবান। বর্তমানে শতাধিক পশুকে প্রস্তত করছেন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে। প্রতিটি পশু দেখতে সুন্দর এবং হৃষ্টপুষ্ট। অনেকেই দেখতে আসেন খামার পরিদর্শনে। কেউ বা নতুন উদ্যোক্তা কিংবা পশু লালন পালন করার স্বপ্ন বুনছেন। আধুনিক প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে বর্তমানে দাগনভূঞা উপজেলা এ খামার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।
খামারে কর্মরতরা জানান, আগে বেকার ছিলাম বর্তমানে এই জুহান এগ্রোতে কাজ করে নিজে এবং নিজের পরিবার চালাতে পারছি। পাশাপাশি গরুর খামার নিয়ে চিন্তা ভাবনা আছে। গরুদের সাথে সময় কাটাতে ভালোই লাগে আমাদের। কোরবানির ঈদে এগুলো ভালো দামে বিক্রি করতে পারলে আমাদের কষ্ট সফল হবে।
তরুণ উদ্যোক্তা আবু সুফিয়ান জানান, বাংলাদেশে বেকার যুবকের অভাব নাই। আমাদের গ্রামের ও এর ব্যতিক্রম নয়। আর এই যুবকদের কথা মাথায় রেখেই গ্রামে গড়ে তুলি জুহান এগ্রো নামে এই খামারটি। মাত্র দুইটি গরু দিয়ে ২০১৯সালের দিকে এই খামারের যাত্রা শুরু করি। এখন আলহামদুল্লিাহ আমার খামারে প্রায় শতাধিকের উপরে গরু রয়েছে এবং অনেক যুবকের এইখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। বর্তমানে আমার খামারে যে গরু গুলো রয়েছে প্রায় গরুর দামই দুই লাখ টাকার উপরে। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে এদেরকে প্রস্তুত করা হয়েছে গরু মোটাতাজাকরণ পদ্ধতিতে। এই খামার করে যেমনভাবে আমি লাভবান হচ্ছি ঠিক তেমনি ভাবে গ্রামের বেকার যুবকরা ও তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছে আর তাতেই আমি ভীষণ খুশি। তবে বেকার যুবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বসে না থেকে ছোট পরিসরে অল্প পুজিঁ দিয়ে উদ্যেক্তা হয়ে নিজে এবং অন্যদেরকে ও কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিলে বাংলাদেশে হয়তো বেকার যুবক আর খুজেঁ পাওয়া যাবে না বলে ও আমি মনে করি। পাশাপাশি পুষ্টি চাহিদা পূরণসহ আমদানি করতে হবে না বাহিরের দেশ থেকে পশু।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা সুজন কান্তি শর্মা জানান, জুহান এগ্রো প্রাকৃতিক খাবারসহ অর্গানিক পদ্ধতিতে কোন রকম রাসায়নিক খাবার ব্যবহার না করে পশুগুলোকে লালন পালন করছেন। খামার পরিদর্শনসহ সর্বাত্মক সহযোগিতা আমাদের পক্ষ থেকে অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন
বগুড়া মহাস্থান মাজারের ১৫ দানবাক্সে মিলল সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা, গণনায় লেগেছে প্রায় দুই দিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার
নওগাঁয় সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করায় যুবক আটক