
উপজেলার মাতাজি হাট এলাকার মোল্লা ট্রেডার্স এর স্বত্ত্বাধিকার সামিউল আলম বলেন, গত কয়েক বছর থেকে ওসমান গণিকে ধান দিয়ে আসছি। নগদ ও বাঁকীতে ধান দিতাম। এভাবে প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা পাওনা রয়েছি। পাওনা টাকা চাওয়া হলে বিভিন্ন ভাবে তালবাহানা শুরু করেছে। ঢাকায় বাড়ি-গাড়ি করে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে আলিসান জীবন যাপন করছেন। সম্পদগুলো ছেলে ও মেয়ে-জামাইয়ের নামে লিখে দিয়েছে। এখন নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করছে। অথচ তার কোটি কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। আমার মতো ২৬০ জন ব্যবসায়ি প্রায় ৩৫ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। আমরা এখন পথে পথে ঘুরছি।
জেলার ধামইরহাট উপজেলার মেসার্স বেলাল ট্রেডার্স এর স্বত্ত্বাধিকারী আবু আহসান হাবিব। আবু আহসান হাবিব এবং বেলাল ইসলাম দুই ভাই যৌথভাবে ধানের ব্যবসা করেন। আবু আহসান হাবিব বলেন- ওসমান গণির সাথে প্রায় ১৫ বছর থেকে ব্যবসা করে আসছি। ব্যবসা চলমান ছিল। সবশেষ আমন মৌসুম থেকে লেনদেন করা হয়নি। কিন্তু সপ্তাহে ৫০ হাজার করে টাকা দিতো। সবশেষ ফেরুয়ারিতে ১ লাখ টাকা দিয়েছে। লেনদেনের সুবাদে প্রায় ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বকেয়া পড়ে যায়। পাওনা টাকা দিচ্ছি দিবো বলে সময়ক্ষেপন করছিল। এখন লাপাত্তা হয়ে গেছে। আমরা ছোট ব্যবসায়ি। পুঁজি হারিয়ে এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছি। পাওনাদার বা কৃষকের কাছ থেকে ধান নিয়েছিলাম তারা এখন টাকা নেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। পাওনাদারদের ভয়ে এখন বাড়ি থেকে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে।
দিনাজপুর জেলার ডুগডুগিহাট এলাকার মোল্লা ট্রেডার্স এর স্বত্ত্বাধিকারী মাসুদ মোল্লা বলেন- গত ৫ বছর থেকে ওসমানের চালকলে ধান দিয়ে আসছি। তবে গত ৩ বছর থেকে ধান দেয়ার পর টাকা বকেয়া রাখা হচ্ছে। এভাবে প্রায় আমার ৭৮ লাখ টাকা বকেয়া রাখে। বকেয়া টাকা পরিশোধ করতে অনেকবার তাগাদা দিয়েছি। কিন্তু দিচ্ছি দিবো বলে এখন লাপাত্তা। ফোন করা হলে ওসমান ফোন ধরে না। কিন্তু আমার কাছ থেকে অনেক কৃষক টাকা পাওনা রয়েছে। তারা এখন চাপ দিচ্ছে। দুশ্চিন্তার কারণে ইতোমধ্যে ২ বার স্টোক করেছি। বাবাও অসুস্থ। ৭ বিঘা জমি বিক্রি করে কিছুটা দেনা পরিশোধ করেছি। এদিকে ব্যাংকের ৭০ লাখ টাকা ঋণ এখন কোটি টাকায় ঠেকেছে। আমরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি এখন পথে বসার উপক্রম। বকেয়া টাকা দ্রুত ফেরত পেতে সকলের সহযোগীতা কামনা করছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহাদেবপুর উপজেলার ওসমান এগ্রো ইন্ডাষ্ট্রিজ (প্রাঃ) লিমিটেড এর চেয়ারম্যান ওসমান গণি বলেন- প্রায় ৩৮ বছর থেকে ব্যবসা করছি। ব্যবসার সুবাদে অনেক টাকা লোকসান হয়েছে। এছাড়া ব্যবসায়িদের কাছেও আমার দেনা রয়েছে। আমার কাছে নগদ টাকা নাই। পাওনাদারদের বলেছি যে সম্পদ আছে তা বিক্রি করে দেনা পরিশোধ করা হবে। আমি গত ৩১ জানুয়ারি নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করার জন্য আদালতে একটি আবেদন করেছি। তবে আমি আমার প্রতিষ্ঠানটি ভাড়া দিয়েছি।

আরও পড়ুন
শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সাকিব রাইয়্যানের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
কাউখালীতে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল