
মোহাম্মদ খোরশেদ হেলালী,কক্সবাজার: কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে একেরপর এক ভেসে আসছে মৃত কচ্ছপ। মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) উখিয়া সোনারপাড়া সমুদ্র উপকূলে ভেসে এল দুটি মৃত ‘মা কচ্ছপ’ । ওই কচ্ছপ দুটির পেটে মিলেছে ১৮৫টি ডিম। এ নিয়ে গত জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সৈকতে ভেসে এসেছে অন্তত ৪১টি মৃত মা কচ্ছপ।
মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে উখিয়ার সোনারপাড়া সৈকতে সর্বশেষ দুটি মৃত মা কচ্ছপ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বোরি) জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম।
তিনি জানান, এই দুটিও অলিভ রিডলি মা কচ্ছপ। এদের পেটে ১৮৫টি ডিম পাওয়া গেছে। দুটির সামনের ও পিছনের ফ্লিপারগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। ডিম দিতে উপকূলে আসার সময় জালে বা অন্য কোনোভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে এদের মৃত্যু হতে পারে। জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে ভেস এসেছে অন্তত ৪১ টি মৃত কচ্ছপ।
এর আগে সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সৈকতের হিমছড়ি প্যারাসেলিয়ং পয়েন্টে ভেসে এসেছে ৯৫টি ডিম পেটে থাকা একটি মা কচ্ছপ। গত রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে আবারও ভেসে আসে তিনটি মৃত মা কচ্ছপ। যার পেটে মিলেছে ৩১০টি ডিম। এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের হিমছড়ি পয়েন্টে আরও একটি মৃত মা কাছিম ভেসে এসেছে। যার পেটে ছিল ৯০টি ডিম। এর আগে ৩ দিনে উপকূলে দেখা মিলেছে ৩টি মৃত ডলফিন, একটি মৃত পরপইস ও একটি কচ্ছপ।
এর মধ্যে শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে উখিয়ার সোনারপাড়া সৈকতে একটি এবং ইনানী সৈকতে একটি মৃত ডলফিন ভেসে আসে। গত বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) হিমছড়ি সৈকতে মৃত ভেসে আসে আরও একটি ইরাবতী ডলফিন। ১৪ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে ভেসে আসে একটি মৃত পরপইস। ১৫ ফেব্রুয়ারি সৈকতের রেজুনদীর মোহনায় একটি অলিভ রিডলি বা জলপাই রঙের সামুদ্রিক মৃত মা কচ্ছপ ভেসে আসে।
বোরি’র দেয়া তথ্য মতে, জানুয়ারি থেকে মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলের সোনাদিয়া, হিমছড়ি, সোনারপাড়া, ইনানী ও টেকনাফ সৈকত এবং পেঁচার দ্বীপ এলাকায় ১০ টি সহ মোট ৪১টি মৃত কচ্ছপ পাওয়া গেছে। শুধু মাত্র ৬ দিনে সৈকতে পাওয়া গেছে ৮টি মৃত মা কচ্ছপ। এই সময়ের মধ্যে তিনটি মৃত ডলফিন, একটি মৃত পরপইস ভেসে এসেছে।
এ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক মন্তব্য করেছেন, বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. তৌহিদা রশীদ।
তিনি বলেন, কয়েকদিন ধরে ভেসে আসা মৃত সামুদ্রিক প্রাণীগুলোর নমুনা সংগ্রহ করে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন। বিষয়টি খুব গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল
ক্ষেতলালে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ৩১ পিস ট্যাপেনটাডলসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
বাঘা পৌরসভার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ