
মো.শহীদুল ইসলাম, চন্দনাইশ প্রতিনিধি : উপজেলার অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন প্রকল্প বীর নিবাস নির্মাণে ধীরগতি হওয়ায় ঘর পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। চন্দনাইশে ৬টি বীর নিবাস নিমার্ণ কাজ ফেলে রেখেছে সংশ্লিষ্ট টিকাদার। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা একাধিকবার চিঠি দিয়েও জবাব পাননি বলে অভিযোগ করেন।
চন্দনাইশে ২৭ জন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধার জন্য বীর নিবাস বরাদ্দ দেয়া হয়। ইতিমধ্যে ২১টি ঘর নিমার্ণ করা হলেও মেসার্স জোহাদীয়া এন্টারপ্রাইজের ৬টি ঘর নিমার্ণ করছে না সংশ্লিষ্ট টিকাদার। এ ব্যাপারে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা একাধিকবার লিখিতভাবে জবাব চেয়েও কোন ধরনের প্রতিকার পাননি বলে জানান।
মুক্তিযোদ্ধারা দেশের সর্বশেষ্ঠ সন্তান। তাদরে স্মৃতি বিজড়িত সবকিছুই মূল্যবান। তাদের বীরত্বগাথার বহুল প্রকাশই কাম্য। বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তারই অংশ হিসেবে বীর নিবাস আবাসন প্রকল্প। অস্বচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ১ তলা বিশিষ্ট পাকা বাড়ি নিমার্ণ করা হচ্ছে। ১ তলা বিশিষ্ট ৭’শ ৩২ বর্গফুট ইটের বাড়িতে উপরে পাকা ছাদ, ১টি খাবার কক্ষ, রান্নাঘর, বারান্দা, ২টি শৌচাগার রয়েছে। ২০২২ সালের ২১ এপ্রিল কাজ শুরু হয়।
যা পরবতীর্ ৬০ দিন তথা জুনের ৩০ তারিখ শেষ করার কথা রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট টিকাদার নির্দিষ্ট সময়ের ১৮ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও চন্দনাইশে ৬টি বীর নিবাস এখনো নিমার্ণ করতে পারেনি। হাশিমপুরের নুরুল ইসলাম ও ধোপাছড়ির আইয়ুব আলীর বীর নিবাসের ছাদ পর্যন্ত করলেও অন্যান্যগুলো নিচের সামান্য অংশ কাজ করে ফেলে রেখেছেন সংশ্লিষ্ট টিকাদার। এদের মধ্যে রায় জোয়ারার রাখাল চন্দ্র দাশ, ধোপাছড়ির নুর খালেক, সাতবাড়িয়ার দেবব্রত বড়—য়াদের বীর নিবাস এখনো নিমার্ণ হয়নি। বর্তমানে বীর নিবাস নির্মাণের কার্যক্রমটি মুখ থুবড়ে পড়েছে। কবে কাজ শেষ হবে তা নিয়ে চলছে ব্যাপক জল্পনা—কল্পনা।
হাশিমপুরের মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম এলএমজি বলেছেন, সরকারের দেয়া বীর নিবাসে শান্তিতে ঘুমানোর স্বপ্ন ছিল। কিন্তু টিকাদারের গাফেলতির কারণে নির্দিষ্ট সময়ে ঘরটি নিমার্ণ না হওয়ায় আদো ঘুমাতে পারবে কিনা সে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এ পর্যন্ত ঘর নির্মাণ না করায় ঝড়—বৃষ্টির মধ্যে রাতে বারান্দাতে ঘুমাতে হয়। জোহাদীয়া এন্টারপ্রাইজের কর্তব্যরতরা বলেছেন, সিমেন্টসহ মালামালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। সময়মত রানিং বিল দেয়া হয়নি।
আগামী জানুয়ারি মাসে তাদের সব কয়টি বীর নিবাস নিমার্ণ কাজ শেষ করবেন বলে জানান। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রিয়াদ হোসেন বলেছেন, চন্দনাইশে ২৭টি বীর নিবাসের কাজ শুরু করা হয় ২০২২ সালের ২১ এপ্রিল যা জুন মাসেই শেষ হওয়ার কথা। ইতিমধ্যে ২১টি বীর নিবাস নিমার্ণ কাজ শেষ হলেও ৬টি ঘর নিমার্ণ কাজ এখনো শেষ করেনি সংশ্লিষ্ট টিকাদার। ৬টির মধ্যে ২টির ছাঁদ জমানো হলেও বাকি ৪টিতে নিচে সামান্য কাজ করে রেখে দিয়েছে টিকাদার।
নির্দিষ্ট সময়ে মধ্যে কাজ সম্পন্ন না করায় টিকাদারকে ৪ বার চিঠি দিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট টিকাদার প্রভাবশালী হওয়ায় চিঠির কোন জবাব বা গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাছাড়া বিষয়টি তিনি সংসদ সদস্য আলহাজ¦ নজরুল ইসলাম চৌধুরীকে অবহিত করেছেন বলে জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্মাণ কমিটির সদস্য সচিব মাহমুদা বেগম বলেছেন, তিনি টিকাদারকে একাধিকবার কাজ শেষ করার ব্যাপারে কথা বলেছেন। টিকাদার কাজ শেষ করবেন বলে শেষ করেনি।

আরও পড়ুন
বগুড়ায় ২ বছরের শিশুকে অপহরণ চেষ্টা, প্রতিবাদ করায় বাবাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা
বগুড়া মহাস্থান মাজারের ১৫ দানবাক্সে মিলল সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা, গণনায় লেগেছে প্রায় দুই দিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার