হোম » সারাদেশ » চকরিয়াতে সাবেক চেয়ারম্যানের ভাইকে তুলে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন

চকরিয়াতে সাবেক চেয়ারম্যানের ভাইকে তুলে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন

এইচ এম রুহুল কাদের, চকরিয়া: কক্সবাজারের চকরিয়ায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা বেড়েই চলছে। একের পর এক সংঘাতের মধ্যে খবর এলো সাবেক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে অপহরণের। রবিবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে আবুল কালাম আবু নামের এই নেতাকে তুলে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। তাকে রাতভর জিম্মি রেখে নির্যাতনের পর সড়কে ফেলে রাখা হয়। সোমবার সকালে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি আছেন আবু। অস্ত্রোপচারের আগে তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না চিকিৎসকরা।

আবুল কালাম আবু কক্সবাজার জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সদস্য। তার বাড়ি চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে। আবুর বড় ভাই মহসিন বাবুল একই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান ও মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে হাতঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীকের পক্ষে কাজ করেছিলেন আবু। তিনি নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন ৭ জানুয়ারি সাহারবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে হাতঘড়ি প্রতীকের পোলিং এজেন্ট ছিলেন। এ কারণে প্রতিপক্ষের লোকজন আবুকে ভোটের আগে গুলি করে হত্যাচেষ্টাও করেছিল। চকরিয়ায় নির্বাচনকেন্দ্রিক দ্বন্দ্ব থেকে ভোটের পর এ নিয়ে একাধিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত শনিবার (১৩ জানুয়ারি) খুটাখালী ইউনিয়নে স্থানীয় আওয়ামী লীগের ৫ নেতার বাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালায় দুর্বৃত্তরা। আগের দিন শুক্রবার রাতে চিরিঙ্গা ইউনিয়নের সওদাগর ঘোনা গ্রামে চারটি বসতঘরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

আবুর বড় ভাই মহসিন বাবুল জানান, তার ছোট ভাই সোমবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তখন সন্ত্রাসীরা আবুকে তুলে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘আজ সকালে পূর্ব ভেওলা ইউনিয়নের আটারকুম এলাকায় সড়কে আমার ভাইকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। আমরা জানার পর চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠিয়ে দেন। আমার ভাইয়ের চোখে ছুরি দিয়ে আঘাত করেছে সন্ত্রাসীরা। সারা রাত নির্যাতন করে তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করেছে।’

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে অস্ত্রোপচার সহকারী জাকির হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আবুর বাম চোখে ছুরিকাঘাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম রয়েছে। বিকাল ৪টা পর্যন্ত তার জ্ঞান ফেরেনি। প্রাথমিক চিকিৎসার পর অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আবুর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সন্ধ্যার পর চিকিৎসকরা জানাতে পারবেন।’

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘হাত-পা বাঁধা অবস্থায় লোকজন আবুকে উদ্ধার করে। খবর পাওয়ার সঙ্গে-সঙ্গে পুলিশ পাঠানো হয়। অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।’

আবুর ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিচার চেয়েছেন কক্সবাজার-১ আসনে সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘হত্যার উদ্দেশে আবুর ওপর এই হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) রাকিব উর রাজা বলেন, ‘নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা দমনে আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ব্যবস্থা নিচ্ছি। কোনো অপরাধীই ছাড় পাবে না।’

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!