
ফয়সাল হাসান
চট্টগ্রাম নগরীর শিশুদের সুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক বিরাট উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। আগামী ১২ অক্টোবর থেকে একযোগে নগরীর ৭টি জোনে শুরু হবে বিনামূল্যে টাইফয়েড প্রতিরোধী টিকাদান কর্মসূচি। এর আওতায় ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রায় ৮ লাখ ২৭ হাজার ৯৫১ শিশুকে এই টিকা প্রদান করা হবে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের এক সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এ সময় তিনি বলেন — টাইফয়েড প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা। আমরা চাই চট্টগ্রাম নগরী হোক টাইফয়েডমুক্ত একটি নিরাপদ নগরী। প্রতিটি শিশুর অভিভাবক যেন সচেতন হয়ে সন্তানকে এই টিকা দিতে নিয়ে আসেন।
কর্মসূচির কাঠামো – চসিক সূত্রে জানা গেছে, টিকাদান কার্যক্রম চলবে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে।
১,৫৪৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ৭৮৩টি আউটরিচ সাইটে টিকা দেওয়া হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫ লাখ ৩১ হাজার ১৬৭ জন এবং কমিউনিটি পর্যায়ে ২ লাখ ৯৬ হাজার ৭৮৪ জন শিশুকে টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রথম দুই সপ্তাহ টিকাদান চলবে স্কুল পর্যায়ে, আর পরবর্তী দুই সপ্তাহ কমিউনিটি পর্যায়ে।
মানবসম্পদ ও টিম বিন্যাস – স্কুল পর্যায়ে ভ্যাকসিনেটর: ৪২০ জন, কমিউনিটি পর্যায়ে ভ্যাকসিনেটর: ২১৫ জন, স্বেচ্ছাসেবক: স্কুল ও কমিউনিটি পর্যায়ে প্রতি খাতে ৬২৫ জন করে, টিম সংখ্যা: স্কুল ২০৫, কমিউনিটি ২০৫, সুপারভাইজার: প্রথম স্তর ৮২ জন, দ্বিতীয় স্তর ১১ জন।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আরও বলেন — শিশুরা জাতির ভবিষ্যৎ। তাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হলে টিকাদান কর্মসূচিকে শতভাগ সফল করতে হবে। নগরের প্রতিটি অভিভাবককে অনুরোধ করছি, অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করুন এবং নির্ধারিত তারিখে শিশুদের টিকা দিতে নিয়ে আসুন। ইতোমধ্যে ২ লক্ষাধিক শিশুর রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন — টাইফয়েড শুধু স্কুলপড়ুয়া নয়, স্কুলবহির্ভূত শিশুরও হতে পারে। তাই কমিউনিটি পর্যায়েও টিকাদান চালানো হবে, যেন কোনো শিশু বাদ না যায়।
সচেতনতা ও সামাজিক সম্পৃক্ততার নির্দেশনা – টিকাদান কার্যক্রমকে শতভাগ সফল করতে চসিক স্বাস্থ্য বিভাগকে মেয়র বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন—পর্যাপ্ত প্রচার-প্রচারণা চালানো,কার্যক্রমের মনিটরিং ও রেকর্ড সংরক্ষণ নিশ্চিত করা,প্রতিটি ওয়ার্ডে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও সামাজিক সংগঠনকে সম্পৃক্ত করা। সভায় উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইমাম হোসেন রানাসহ চসিকের চিকিৎসকবৃন্দ।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মত – স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঘনবসতিপূর্ণ চট্টগ্রাম নগরীতে টাইফয়েড একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি। এই জাতীয় ক্যাম্পেইন শিশুস্বাস্থ্যের জন্য যুগান্তকারী হবে। নগরীর অভিভাবকদের প্রতি তাদের আহ্বান— দ্বিধাহীনভাবে সন্তানদের টিকা দিতে এগিয়ে আসতে হবে।
চট্টগ্রামের ইতিহাসে এটিই প্রথম এত বৃহৎ পরিসরে টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি। নগরীর ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে এখন সবচেয়ে জরুরি হলো— প্রতিটি শিশুকে এই টিকার আওতায় নিয়ে আসা।

আরও পড়ুন
“অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে তামাকপণ্যের উপর কর বৃদ্ধির প্রস্তাব চিকিৎসকদের”
বনানী উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
বনানীতে বহুতল ভবনে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস