
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধিঃ মহাদান ইউনিয়নের কদুলা গ্রামের রাস্তায় সংস্কারের কোন কাজ না হওয়ায় চলাচলে আমাদের কষ্ট হয় অভিযোগ করে গ্রামের নজরুল ইসলাম বলেন, যাতায়াত কষ্ট দেখে আমরা গ্রামের কয়েকজন মিলে চার হাজার
টাকার খোয়া দিয়ে রাস্তা চলাচলে উপযোগী করেছি।
এই টাকাও চেয়ারম্যান আমাদের দেয়নি। রাস্তা সংস্কারের জন্য টাকা বরাদ্ধ থাকলেও আমাদের বলা হয়নি বলে তিনি জানান। জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মহাদান ইউনিয়নে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচীর কয়েকটি প্রকল্পের সিংহভাগ অর্থ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে।
২২-২৩ অর্থবছরের ১ম পর্যায়ের অতি দরিদ্রদের জন্য সরকারের কর্মসংস্থান প্রকল্পে হরিলুটের এমন অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার মহাদান ইউনিয়নে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি প্রকল্পে নামমাত্র কাজ করে সিংহভাগ অর্থ লোপাটের ঘটনা ঘটেছে।
বেশ কয়েকটি প্রকল্পের কোন কাজই হয়নি বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। আবার কয়েকটি প্রকল্পে রাস্তায় উচু জায়গার মাটি কেটে নিচু জায়গায় ছড়িয়ে দিয়ে, কোথাও রাস্তার ঘাস পরিস্কার করে, আবার কোন কোন প্রকল্পে ট্রাক দিয়ে মাটি কেটে দায়সারা ভাবে শেষ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ১৫ জুলাই সরেজমিনে দেখাগেছে, গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচীর ১ম পর্যায়ের (ওয়েজ কষ্ট
খাতের) উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সেঙ্গুয়া আকুলের ইটভাটা হতে পশ্চিমদিকে পাকা রাস্তা পর্যন্ত সংস্কারের কথা থাকলেও সিংহভাগ রাস্তায় কোন মাটিই কাটা হয়নি বলে আঃ রশীদসহ স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করেন।
৬নং ওয়ার্ডের বনগ্রাম তোতা মন্ডলের বাড়ী হইতে পশ্চিম দিকে খলিল মন্ডলের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তায় সামান্য মাটি (গর্ত পূরণ) কাটা হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান। ৮নং ওয়ার্ডের কদুলা গ্রামে মৃত মুসলিম মাষ্টারের বাড়ী হইতে পূর্বদিকে বরকতের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের সিংহভাগ অর্থ লোপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে জানাগেছে। কদুলা গ্রামের আলতাফ হোসেন বলেন, চেয়াম্যান তো আমাদের এদিকে আসেই না। আমাদেরতো ভোট দিতে হয়না।
নিজেরাই ভোট নিয়ে গেছেগা। আমাদের ভোট লাগেনাই বলে তিনি জানান।
রাস্তায় সামান্য গর্ত ভরাট ছাড়া কদুলার রাস্তায় কোন সংস্কার কাজ হয়নি বলে গ্রামের আফসার আলী, আবুল কাশেম, আলফাজসহ স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
ভ্যান চালক জালাল মিয়া জানান, প্রকল্পের রাস্তায় সামান্য গর্ত পুরণ ছাড়া আর কোথাও মাটি কাটা হয়নি। সরকারী অর্থে গ্রামিণ অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ না করে কাগজে কলমে বাস্তবায়ন দেখিয়ে প্রতি অর্থবছরের বরাদ্ধকৃত অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্থানীয়রা জোর দাবী জানিয়েছেন।
ইউনিয়নের ৭,৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের মহিলা ম্যাম্বার মিছমা বেগম জানান, রাস্তায় সুন্দর মাটি কাটা হয়েছে। বৃষ্টিতে ধুয়ে গেছে।
ওয়ার্ড ম্যম্বার সুলতানা জানান, রাস্তার কিছু মাটি কাটা বাকী আছে। চেয়ারম্যান সাহেবের সাথে কথা হয়েছে, চলতি মাসেই কেটে
দেবে।
ট্যাগ অফিসার মাহবুবুর রহমানএর নিকট মুঠোফোনে জানতে চাইলে মিটিংএ ব্যস্ত থাকার অজুহাতে তিনি কোন বক্তব্য দেননি।
এ বিষয়ে মহাদান ইউপি চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান জুয়েল জানান, কাজ করা হয়েছে। বাকীটা করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হুমায়ূন কবীরের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন
শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সাকিব রাইয়্যানের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
কাউখালীতে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল