
আওয়াজ অনলাইন: বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত মেয়র প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের দাবি হঠাৎ করে তার ওপর হামলা করা হয়েছে এবং তাকে অনেক মারধরও করা হয়েছে।
শান্তিপূর্ণভাবে সকাল থেকে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনার মাত্রা বাড়তে থাকে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হাতে দুই দফায় আক্রান্ত হয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল করীম।
সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ২২ নম্বর ওয়ার্ডের হাজেরা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঘুসিতে রক্তাক্ত হন তিনি। পরে সেখান থেকে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে যান হাতপাখার এই প্রার্থী।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও হাজেরা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ফয়জুল করীমের ওপর হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। ঘটনাস্থলে থাকা দলটির কর্মী শফিকুল ইসলাম ও আবদুর রহিমের অভিযোগ, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আওয়ামী লীগের একজন নারী কর্মীর ব্যাগে হাত দিয়েছেন। তার সঙ্গে থাকা কার্ড টেনে ছিঁড়ে ফেলছেন। এ সময় ওই নারী কর্মীর শরীরের স্পর্শকাতর অংশে হাত লাগে। এতে দলীয় নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে হামলার ঘটনা ঘটে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত মেয়র প্রার্থী বলেন, আওয়ামী লীগের যারা দায়িত্বশীল লোক ছিল তাদের বললাম নির্বাচনে যে বিজয়ী হয় হোক আমরা শুধু প্রভাব সৃষ্টি করব কেন, এভাবে কথা বলতে বলতে তর্কাতর্কি শুরু হয়ে গেছে এসব বলতে বলতে হঠাৎ আমার ওপরে আক্রমণ শুরু হয়ে গেছে। আমি তো চিন্তাও করতে পারিনি কোনো উত্তেজনাপূর্ণ কথাও হয়নি হঠাৎ করে আমার ওপর আক্রমণ শুরু করেছে। পরে আমার লোকজন নিয়ে আমি বের হয়ে যায়।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর ২ নম্বর ওয়ার্ডের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে ফয়জুল করীমকে অবরুদ্ধ করে রাখেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। এর প্রায় আধাঘণ্টা পর সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন মুফতি ফয়জুল করীম।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, কেন্দ্রে অনিয়ম হচ্ছে। আওয়ামী লীগের লোকজন তার এজেন্টদের বের করে দিচ্ছেন। এমন খবর পেয়ে কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সরকারি দলের কর্মীদের হামলার মুখে পড়েন।
তবে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী বহিরাগতদের নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করেছেন। ফলে তারা মুফতি ফয়জুল করীমকে বুঝিয়ে পরিবেশ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছেন।
এদিকে নির্বাচন উপলক্ষে সিটিতে আজ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখা জানিয়েছে, বরিশাল সিটিতে মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগের আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত (নৌকা প্রতীক), জাতয়ী পার্টির (জাপা) প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস (লাঙ্গল প্রতীক), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম (হাতপাখা প্রতীক) ও জাকের পার্টির মিজানুর রহমান বাচ্চু (গোলাপ ফুল)। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে টেবিল ঘড়ি প্রতীকে রয়েছেন কামরুল আহসান রুপন, হাতী প্রতীকে মো. আসাদুজ্জামান ও হরিণ প্রতীকে মো. আলী হোসেন হাওলাদার।
এছাড়া এ সিটিতে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন ১৫৮ জন। সাধারণ কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ১১৬ জন এবং ৪২ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদপ্রার্থী। বরিশাল সিটিতে ভোট প্রদান করবেন দুই লাখ ৭৬ হাজার ২৯৮ জন ভোটার। ভোটগ্রহণ হবে ১২৬ কেন্দ্রের ৮৯৪টি ভোটকক্ষে।

আরও পড়ুন
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল
ক্ষেতলালে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ৩১ পিস ট্যাপেনটাডলসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
বাঘা পৌরসভার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ