
বুধবার (৫ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে গেলে তাঁত মালিকেরা বলেন, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচের সঙ্গে বাজারজাত করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। উৎপাদন খরচের সঙ্গে তুলনা করে বাজারজাত করতে পারছেন না। রং ও সুতার বাজার
নিয়ন্ত্রণ করা গেলে আবারও ঘুরে দাঁড়াবে জেলার ঐতিহ্যবাহী এই তাঁতশিল্প।
জানা যায়, সরকারি ভাবে এ জেলা পরিচিত তাঁতকুঞ্জ হিসেবে। জেলায় তাঁতের সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ। এই শিল্পের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত প্রায় ১০ লাখ মানুষ। প্রতি বছর পহেলা বৈশাখ, ঈদ-উল ফিতর, ঈদুল আযহা ও পূজা-পার্বণে তাঁতের কাপড়ের চাহিদা বাড়ে। তাঁতপল্লীতে কাজের চাপ বেড়ে যায় দ্বিগুণ, রাত-দিন দম ফেলার সময় থাকে না শ্রমিকদের।
কাপড় ব্যবসায়ী সূত্রে জানা যায়, পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের কলকাতা, শুভরাজ, গঙ্গারামপুর ও পাটনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বড় বড় শহরের শো-রুমের মালিক ও পাইকাররা এখানে শাড়ি কিনতে আসছেন। তবে করোনার প্রভাবে দীর্ঘদিন লোকসানের মুখে থাকা এ শিল্পটি আবারও কর্মচঞ্চল হয়ে ওঠায় আশার কথা বলছেন তারা।
তাঁত শ্রমিক ইসলাম হোসেন, শফিকুল ও মোহাম্মদ আলীসহ কয়েকজন বলেন, আমাদের মজুরি কম, বৈশাখ ও ঈদ উপলক্ষেও কোনো বোনাস নেই। কাজ করলে মালিকরা টাকা দেন, না করলে দেন না। প্রতিদিন কাক ডাকা ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ
করি। রমজান মাসে খরচ একটু বেশি হচ্ছে। তাই একটু বেশিই পরিশ্রম করছি। তাই পরিবার-পরিজন নিয়ে ভালো নেই। কোনো রকমে বেঁচে আছি।
বৈশাখের শাড়ি ও তাঁত ব্যবসায়ী ফিরোজ ইউভিং ফ্যাক্টরির মালিক হাজি ফিরোজ হাসান ও হাজী ফারুক হোসেনসহ বেশ কয়েকজন বলেন, মার্চ মাসের শুরু থেকে পহেলা বৈশাখের আগের রাত পর্যন্ত চলে প্রিন্টিংয়ের কাজ। ঢাকার গাউছিয়া, ইসলামপুর, টাঙ্গাইলের করটিয়া, পঞ্চগড়ের আটোয়ারী, পাবনার আতাইকুলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা এসে কারখানা থেকে শাড়ি নিয়ে যায়।
পণ্যের কাংখিত দাম পাচ্ছেন না তারা।
পাওয়ারলুম ও হ্যান্ডলুম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম.এ বাকী বললেন, জেলায় তাঁত শিল্পে পাওয়ারলুম ও হ্যান্ডলুম রয়েছে প্রায় ৫ লাখ। আর এই শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় ১০ লাখ মানুষ। সরকার কৃষি উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি দিচ্ছে। কিন্তু বস্ত্র উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত শিল্পের জন্য ভর্তুকির কোনো ব্যবস্থা নেই। দেশের আর্থিক খাতের জোগানদাতা বস্ত্র খাতে ভর্তুকির ব্যবস্থা থাকলে তাঁত শিল্পকে আরও গতিশীল করা সম্ভব। এজন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছেন তারা।
সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক একরামুল হক রিজভী বলেন, সিরাজগঞ্জের অর্থনীতি তাঁত শিল্পের সঙ্গে জড়িত। তাই দেশীয় তাঁত শিল্প রক্ষায় সরকারকে তাঁতিদের ঋণসহ রং ও সুতায় ভর্তুকি দিতে হবে। পাশাপাশি অবৈধপথে ভারত থেকে কম দামি শাড়ি আসা বন্ধ করতে হবে। তাহলেই তাঁত শিল্প সমৃদ্ধ হবে।

আরও পড়ুন
নওগাঁ সদর থানার অভিযানে সুলতানপুরের কুখ্যাত সন্ত্রাসী খোকন গ্রফতার
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ, জল্পনার অবসান, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ
কিশোরগঞ্জে পুলিশ সদস্যদের স্কুল পড়ুয়া ছেলে ট্রাকচাপায় নিহত