
রাকিবুল হাসান রাকিব: সর্বপ্রথম হানাদার মুক্ত হয় যশোর জেলা। তারপর একে একে বিভিন্ন জেলা ও মহকুমা হানাদার মুক্ত হতে থাকে। মুক্তিকামী মানুষের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান হতে থাকে। আজ ঐতিহাসিক ১৪ ডিসেম্বর। মহান ‘মুক্তিযুদ্ধ’ চলাকালীন জয়পুরহাটবাসী আজকের এই দিনে হানাদারমুক্ত হয় । তাই ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর জয়পুরহাটের মুক্তিকামী মানুষের জন্য এক বিরল স্থাপনা ও স্থাপত্য কলায় রুপ নেয়।
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জয়পুরহাটের মুক্তিযোদ্ধাদের কমান্ডার ছিলেন খন্দকার আসাদুজ্জামান বাবলু। তাঁর অসাধারণ নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা বিজয়ীর বেশে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন জয়পুরহাটের মাটিতে। ২৩৮ দিন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে অবরুদ্ধ থাকার পর উদ্ধার হয় জয়পুরহাটবাসী।
১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর ছিলো মঙ্গলবার। ভোরের সূর্যের লাল আভা যখন পূর্বাকাশে দেখা দিচ্ছে তখন আসাদুজ্জামান বাবলুর নেতৃত্বে দেড়শ মুক্তিযোদ্ধা পাচঁবিবি থানার বাগজানা ইউনিয়নের ভুইঁডোবাক গ্রামে বিনা বাধায় প্রবেশ করে।পাচঁবিবি থানার ভেতর প্রবেশ করে আসাদুজ্জামান বাবলু স্বাধীনতার পতাকা থানা চত্বরে উড়িয়ে দেন। এ সময় মুক্তিযোদ্ধাদের মুহুমুহু স্টেনহান আর রাইফেলের গুলিবৃষ্টি ও ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে এলাকা।
যুদ্ধেরকালীন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীরা জয়পুরহাটে হত্যাযজ্ঞ চালায়। ২০ এপ্রিল ’৭১ মঙ্গলবার। এদিন প্রথম শত্রু সৈন্যরা প্রবেশ করেছিলো পাচঁবিবিতে। এদিন ছিলো পাচঁবিবি হাটের দিন। হাটে পৌছার আগেই হানাদাররা কুসুম্বা। ইউনিয়নের ফিচকার ঘাটে খেজুরপাড়া ও সাড়ারপাড়ার কয়েকজন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে। সেদিন পাকিস্তানি জালেমদের গুলিতে ঝাঝঁরা হয়ে গিয়েছিলো ব্যবসায়ী ননী গোপাল কুন্ডু।
ছাত্র নজরুল ইসলাম, দামোদারপুরের ৫/৬ জন দড়ি ব্যবসায়ীর দেহ। নিখোঁজ হন আয়মারসুলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষ বিমল কুমার কুন্ডু। এদের হত্যা করেই ক্ষান্ত হলো না নরপশুরা। রক্তের স্বাদ পেয়ে আরো উন্মাদ হয়ে গেলো তারা। তাদের হাতে শহীদ হন পাঁচবিবি থানা ন্যাপ নেতা চিরকুমার কামালউদ্দীন মন্ডল, আওয়ামী লীগ নেতা মীর আকবর আলী, নওদা গ্রামের তিন সহোদর ভ্রাতা বিশিষ্ট সমাজকর্মী ইউসুফ সরদার, ডা. ইলিয়াস উদ্দিন সরদার ও ইউনিস আলী সরদার, মালঞ্চা গ্রামের কাদের বক্স মন্ডল, বজলার রহমান চৌধুরী, কড়িয়া গ্রামের ছাত্রকর্মী জমিরউদ্দিন, কৃষ্ণপুর গ্রামের লোকমান আলী, মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান আলীসহ নাম না জানা আরো অনেকে। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত জয়পুরহাট সদর থানা, আক্কেলপুর এলাকায় অকথ্য নির্যাতন চালায় হানাদার বাহিনী।

আরও পড়ুন
দশ মাসের আত্মগোপনের অবসান: র্যাবের অভিযানে ধরা মমিনুল হত্যা মামলার আসামি
চিলাহাটি রেলস্টেশনে দুই শিশু সন্তানসহ মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা
সরকারি সহায়তার নামে কোটি টাকার প্রতারণা: চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘মাসকুরা ট্রেডার্স’ এর বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধ