
রায়হান আলীঃ সোমবার গভীর রাতে উল্লাপাড়া পৌরশহরের ঝিকিড়া মহল্লায় পাট বন্দরে আগুন লেগে ৬টি গুদাম পুড়ে গেছে। সেই সাথে এসব গুদামে রাখা প্রায় ১৫ হাজার মন পাট ও ৬০ হাজার পাটের বস্তা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সবমিলিয়ে ক্ষতির পরিমান প্রায় ১০ কোটি টাকা হবে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী ও গুদাম মালিকেরা।
অগ্নিকান্ডের খবর শুনে সিরাজগঞ্জ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, তাড়াশ ও পাবনা ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়। মঙ্গলবার ভোর ৬টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। এখনও ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট অগ্নিকান্ড স্থানে কাজ করছেন। তবে অগ্নিকান্ডের কোন কারন এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। পাট ব্যবসায়ী আসাদুল ইসলামের পাট গুদাম থেকে রাত ২ টা ৩৫ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত হয়।
ক্ষতিগ্রস্থ গুদাম মালিক ও পাট ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছেন বাসুদেব সাহা, আসাদুল ইসলাম, সোহেল, রজব আলী সরকার, ডাবলু, আইয়ুব আলী, ইউনুস আলী, রিপন সাহা, সঞ্জয় সাহা, রাশেদা খানম পাতা, তারাপদ কুন্ডু ও শহিদুল ইসলাম। ক্ষতিগ্রস্থ পাট ব্যবসায়ীরা জানান, তারা বিভিন্ন হাট থেকে পাট কিনে দেশের বিভিন্ন পাট মিলে বিক্রি করে থাকেন। এখন এখন পর্যন্ত মিলগুলো পাট ক্রয় শুরু না করায় ব্যবসায়ীরা তাদের পাট আগুনে পুড়ে যাওয়া গুদামে মজুদ করেছিলেন। কিন্তু অগ্নিকান্ডের ফলে পাট পুড়ে গিয়ে তারা একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। এই ক্ষতি কোনভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয় বলে জানান তারা।
পাবনা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক সারফুল ইসলাম ভুইয়া জানান, রাতেই তারা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিভানোর কাজ শুরু করেন। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন স্থান থেকে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়। মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনা গেলেও এখন পর্যন্ত গুদামগুলোতে পুড়ে যাওয়া পাটগুলোর মধ্যে থেকে ধুয়া বের হচ্ছে। তবে অগ্নিকান্ডের কোন কারন এখন পর্যন্ত তারা জানতে পারেননি। সহকারী পরিচালক আরো বলেন, ফায়ার সার্ভিস থেকেও অগ্নিকান্ডের কারণ তদন্ত করে দেখা হবে।
ক্ষতিগ্রস্থ পাট ব্যবসায়ী বাসুদেব সাহা ও আসাদুল ইসলাম জানান, তাদের নিজস্ব গুদামে নিজেদের প্রায় ৬ হাজার মন পাট ছিলো। কোন ভাবেই এসব পাট তারা বাঁচাতে পারেননি। তিনি আরো জানান, অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ পাট মিল বা অন্য কোন কাজে ব্যবহার করা যায় না।
উল্লাপাড়া পাটবন্দর বনিক সমিতির সভাপতি আমিরুল ইসলাম আরজু জানান, অগ্নিকান্ডের সঠিক কারণ এখন জানা যায়নি। ক্ষতিগ্রস্থ পাট ব্যবসায়ী ও গুদাম মালিকদের প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই অগ্নিকান্ডের ফলে তারা একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেলেন।
উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ উজ্জল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, অগ্নিকান্ডের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে এই মুহুর্তে তারা কিছুই বলতে পারবেন না। তবে এ ব্যাপারে দ্রুত তদন্তের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে উল্লাপাড়ার সংসদ সদস্য তানভীর ইমাম মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্থ পাট ব্যবসায়ী এবং গুদাম মালিকদের সঙ্গে কথা বলেন। উল্লাপাড়া নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ উজ্জল হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইশরাত জাহান, উল্লাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন
মেজর হাফিজ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হওয়ায় লালমোহনে আনন্দ মিছিল
মাদক, চুরি-ছিনতাই ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন বুলবুল, বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান