
হুমায়ুন কবির সুমন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জে গড়ে তোলা হচ্ছে বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল-১। এজন্য বরাদ্দ করা হয়েছে সদর ও বেলকুচি উপজেলার প্রায় ১ হাজার ৪২ একর জায়গা। এখন পুরোদমে চলছে প্রকল্প এলাকা ভরাটের কাজ। কিন্তু নির্মাণাধীন অর্থনৈতিক অঞ্চলে বড়শিমুল, বীরহাটি, চকবয়ড়া, বয়ড়া মাছুম, বড় বেড়াখারুয়া, মৌজার অধিগ্রহণকৃত বসবাসরতরা ঘরবাড়ি, গাছপালা ক্ষতিপূরণের টাকা এখনও বুঝে পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। এবিষয়ে বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর সয়দাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো: নবীদুল ইসলাম মোজাগুলোর সাধারণ জনগণের পক্ষে ক্ষতিপুরণের টাকা প্রদানের জন্য আবেদন করেছেন।
এরই মধ্যে জমি অধিগ্রহণের টাকা বুঝে পেয়েছেন মালিকরা। তবে মাটি ভরাট শেষ হতে চললেও ঘরবাড়ি, গাছপালার ক্ষতিপূরণ পাননি বলে অভিযোগ তাদের। খাস জমিতে বসবাসকারীদের এককালীন কিছু অনুদান দেয়া হলেও মেলেনি ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষতিপূরণ। জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন থেকে জানাযায়, সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল-১, বয়ড়া মাছুম, চক বয়ড়া, বড় বেড়াখারুয়া, বড়শিমুল, বীরহাটি মৌজার সরকার বাহাদুর কর্তৃক অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসাবে ঘোষণা করেন। উক্ত মৌজার সম্পত্তি অধিগ্রহণ করেছে। এবং অধিগ্রহনকৃত জমির টাকা বুঝেও পেয়েছেন। কিন্তু উক্ত অধিগ্রহণকৃত জমির উপর নির্মিত ঘর বাড়ী ও গাছপালার ক্ষতিরপুরণের টাকা তারা বুঝে পায়নি।
উলেখিত মৌজার গরীব, অসহায়, সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ী ও গাছপালার ক্ষতিপুরণের টাকা প্রদান না করে ড্রেজার মেশিন দ্বারা নিজস্ব ফসলী জমির ৯০/১০০ ফুটের মধ্য থেকে মাটি উত্তোলন করে ফসলী জমির ব্যাপক ক্ষতি করছে। আমরা এলাকাবাসী মাটি উত্তোলনে বাঁধা দিলে ব্যাপক ভাবে সংঘাত সৃষ্টি ও প্রাণহানীর মত ঘটনা ঘটতে পারে। সে কারণে আমরা আপনার জেলা প্রশাসকের স্মরনাপূর্ণ হয়েছি। ড্রেজার দ্বারা মাটি উত্তোলন করে আমাদের কিছু কিছু ঘর বাড়ী ও গাছপালার উপর মাটি ফেলে ঘর বাড়ী ও গাছপালা মাটির নিচে ফেলেছেন। এতে আমরা আশ্রয়হীন ও ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি।
সয়দাবাদের ইউপির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো: নবীদুল ইসলাম বলেন, গরীব আসহায় মানুষগুলো ক্ষতিপূরণের টাকা যেন পায়। কিছু ঘর বাড়ী ও গাছপালার উপর মাটি ফেলে ঘর বাড়ী ও গাছপালা মাটির নিচে ফেলেছে। এতে গরীব মানুষগুলোর ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তারা যেন অধিগ্রহণকৃত জায়গার উপর নির্মিত ঘর বাড়ী ও গাছপালার ক্ষতিপূরণ অতিসত্বর পাই সেই জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানিয়েছি। তবে ইকোনমিক জোন কর্তৃপক্ষ বলছে, ১ হাজার ২০৬টি পরিবারের জন্য বরাদ্দ প্রায় ৪৭ কোটি টাকা জেলা প্রশাসনকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় খাস জমিতে বসবাসকারীরাও এর অর্ন্তভুক্ত। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহম্মেদ বলেন, জমির মালিকদের টাকা বুঝিয়ে দেয়ার হয়েছে। কিন্তু খাস জমিতে বসবাসকারীরা ঘরবাড়ি, গাছপালার ক্ষতিপূরণের টাকা পাবেন না।
উলেখ্য, ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করেছেন জমির মালিকরা। সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পাঁচ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন
বাসাইলে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত
প্রতিটি পরিবারকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রীর
বগুড়ার মহাস্থানে গলি থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পিবিআই