
নারায়ণগঞ্জের সেই পশ্চিম তল্লায় আবারো গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়েছেন নারী ও শিশুসহ ১১জন। এর মধ্যে ৫ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেঁড়ে দেয়া হলেও গুরুতর অবস্থায় ৬ জনকে ভর্তি করা হয় ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। এর মধ্যে দুই জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। গতকাল শুক্রবার ভোর পৌনে ছয়টার দিকে শহরের নিকটবর্তী ফতুল্লা থানার পশ্চিম তল্লার মডেল গার্মেন্টস এর নিকটবর্তী জামাই পাড়া এলাকার একটি তিনতলা ভবনের তৃতীয় তলার এই বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। গ্যাস লিকেজে রান্না ঘরে জমে
থাকা গ্যাসে বিস্ফোরণের সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রাথামিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দগ্ধরা হলেন, হাবিবুর রহমান (৫৬), তার স্ত্রী আলেয়া বেগম (৪২), তাদের ছেলে লিমন (২০), মেয়ে সাথী (২৫), মিম আক্তার (২২), তার দুই মাসের শিশুপুত্র ফাহাদ, নিরাহার (৫৫), তার স্ত্রী শান্তা বেগম (৪০), তাদের ছেলে সামিউল (২৬), তার স্ত্রী মনোয়ারা আক্তার (১৬)। এলাকাবাসি জানান, ভোর পৌনে ছয়টার দিকে হঠাৎ একটি বিস্ফোরণের শব্দে আশেপাশের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ছুটে আসে। এ সময় বিস্ফোরণের শক্ ওয়েভে দুইটি রুমের দেয়াল ধসে পড়ে যায় এবং তিন তলা ভবনটির
সবগুলো জানালার কাঁচ ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়। তাদের ধারণা ভোর রাতে সেহরীর সময় গ্যাসের চুলা পুরোপুরি বন্ধ না করে ঘুুমিয়ে পড়ে। তাই রুমে গ্যাস জমে গ্যাস চেম্বারে পরিণত হয়। ভোর বেলা কোন কারণে আগুন ধরাতে গিয়ে এই বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন জানান, রাতে গ্যাসের চুলার বার্ণার বন্ধ না করায় চুলা থেকে গ্যাস বের হয়ে রান্নাঘরসহ অন্যান্য ঘরে জমাট বেঁধে থাকে। ভোরে রান্নার জন্য চুলায় আগুন জ্বালালে গ্যাসের পাইপ লাইনের বিস্ফোরণ ঘটে। এসময় তিন
মাস বয়সের একটি শিশুসহ ছয়জন নারী ও চারজন পুরুষ আগুনে দগ্ধ হন। এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ্। এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফা জহুরা, ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রকিবুজ্জামানসহ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
ঘটনায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রহিমা আক্তারকে আহŸায়ক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফা জহুরাকে সদস্যসচিব করে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। ভবনের বাসিন্দাদের সরিয়ে ভবনটি সিলগালা করাসহ তদন্ত কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ।
নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকায় ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণের ঘটনায় দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে ওই ভবনের বাসিন্দাদের সরিয়ে দিয়ে ভবনটি সিলগালা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ, গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর এই পশ্চিম তল্লার একটি মসজিদে গ্যাস বিস্ফোরণে ৩৪জন দগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। সেই ঘটনাস্থলের কাছাকাছি এলাকায় গতকালকের বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে।

আরও পড়ুন
মেজর হাফিজ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হওয়ায় লালমোহনে আনন্দ মিছিল
মাদক, চুরি-ছিনতাই ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন বুলবুল, বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান