হোম » প্রধান সংবাদ » অসহায় মজিবরের পাশে দাঁড়ালেন পুলিশ

অসহায় মজিবরের পাশে দাঁড়ালেন পুলিশ

হুমায়ুন কবির সুমন : মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের পরিস্থিতিতে আর্থিকভাবে সমস্যায় পড়েছে কর্মহীন ও খেটে খাওয়া
মানুষ। সেবাই পুলিশের ধর্ম, পুলিশ জনতা, জনতাই পুলিশ, এই উক্তিটি এবার প্রমাণ করলো সিরাজগঞ্জ ২নং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো.তরিকুল ইসলাম। ফাঁড়িতে আইনী সেবা নিতে আসা মজিবর রহমানের অপারেশনের দায়িত্ব নিলেন তরিকুল ইসলাম। মজিবর রহমান (৭০) সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার গয়লা মহল­ার মৃত দানেজ উদ্দিনের ছেলে। পেশায় রাজ মিস্ত্রী। মজিবর রহমান ৭বছর ধরে প্রস্রাবের রাস্তায় মাংশ বেরে যাওয়ার রোগে ভূগছিলেন। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারেননি।

 

চিকিৎসার ব্যয় বহুল খরচের টাকা জোগার না করতে পারায় প্রায় ৭বছর যাবৎ জটিল রোগে ভুগছিলো মজিবর রহমান। হাসপাতালের বিভিন্ন ডাক্তারের পরামর্শের হিসাবে অপারেশন করাতে প্রায় ১লাখ টাকার প্রয়োজন। কিন্তু ৩ছেলে বেকার থাকায় সংসার চালানোয় আকাশ ছোয়া পাহাড়ের মতো বোঝা নিয়ে ঘুনে খাচ্ছিলো মজিবরকে। গত ২১ ডিসেম্বর মজিবর ও তার ছোট ছেলে রুমন হোসেন ২নং পুলিশ ফাঁড়িতে পারিবারিক সমস্যা জনিত কারণে আইনি পরামর্শের জন্য যায়।

 

সে সময় তার বাবা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ তরিকুল ইসলাম মজিবর রহমানকে (ইউরিন ব্যাগ) হাতে দাড়িঁয়ে থাকতে দেখে কথপকথন এর একপর্যায়ে ঘটনা শুনে ফাঁড়ির ইনচার্জ তরিকুল ইসলাম অপারেশনের দায়িত্ব গ্রহন করেন। পরে গত ২৮ ডিসেম্বর শহরের আভিসিনা হসপিটালের এম.বি.বি.এস, পি,এইচ,ডি (সার্জারী) ডা: মো: আশরাফুল ইসলামের পরামর্শ ক্রমে অপারেশন করা হয়। এবং সফল ভাবে অপারেশন সম্পূর্ণ হয়। বর্তমানে মজিবর রহমান সুস্থ্য আছেন। এবিষয়ে মজিবর বলেন, আমি প্রায় ৭বছর ধরে প্রস্রাবের রাস্তায় মাংশ বেড়ে যাওয়ার রোগে ভূগছিলাম। আমার তিন ছেলে তারা সবাই বর্তমানে বেকার।

 

আমি অসুস্থ্য কাজ করতে পারিনা। তিন ছেলের কোন কাজ নেই। আমি অসুস্থ হওয়ার আগে রাজমিস্ত্রীর কাজ করতাম। সেই টাকায় আমাদের সংসার চলতো। বর্তমানে আমরা অসহায় হয়ে পরেছি। কোন চিকিৎসা করাতে পারিনি। একটি সমস্যা নিয়ে ২নং পুলিশ ফাঁড়িতে আইনি পরামর্শের জন্য গিয়েছিলাম ছেলের সাথে। আমার এই অবস্থা দেখে মানবতার ফেরিওয়ালার মতো তরিকুল স্যার আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার নিজের খরচে আমার চিকিৎসা করিয়েছেন। প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ করে আমার চিকিৎসা করালেন। আল­াহ তার ভালো করুক এই দোয়া করি।

 

এবিষয়ে ২নং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো: তরিকুল ইসলাম বলেন, একজন পুলিশ কর্মকর্তা যখন চাকরিতে যোগ দেন তখনই তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। পুলিশ এবং ডাক্তার যেভাবে মানুষের জন্য সরাসারি কাজ করতে পারে অন্য পেশার মানুষের সেই সুযোগ কম। মানুষ বিপদে পড়লে এই দুই শ্রেণীর মানুষের কাছে সবার আগে যায়। পুলিশ মানবিক সেবার আওতা বৃদ্ধি করলে মানুষ বেশি উপকৃত হবে। অসহায় মজিবরের অসুস্থ্যের কথা শুনে আমি ব্যাক্তি গত ভাবে তার সম্পূর্ণ চিকিৎসার উদ্দ্যোগ নিয়ে ৩/৪জনের সহযোগীতা নিয়ে ডাক্তারের পরামর্শে চিকিৎসা সম্পূর্ণ করেছি।

 

আল্লাহ যেন আমাকে আরো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবার তৌফিক দান করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর (সার্কেল) মো: স্নিগ্ধা আখতার বলেন, জনগণের পাশাপাশি সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ করোনাভাইরাসের কারণে অসহায় হয়ে পড়া কর্মহীন ও খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। অসহায় মানুষের পাশে একজন পুলিশ কর্মকর্তা দাঁড়িয়েছে শুনে অনেক ভালো লাগলো। এমন দুর্যোগের দিনে অসুস্থ্য, অসহায়ের পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি।

 

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!