হোম » প্রধান সংবাদ » আমতলীতে টিউবওয়েলে পানির লাইন কাটাকে কেন্দ্র করে ছয় বছরের শিশু ও শিক্ষক আহত।

আমতলীতে টিউবওয়েলে পানির লাইন কাটাকে কেন্দ্র করে ছয় বছরের শিশু ও শিক্ষক আহত।

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ  টিউবওয়েলে পানির লাইন কাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী সাইদুর রহমানের হামলায় ছয় বছরের শিশু মারজান, কিডনি রোগে আক্রান্ত শিক্ষক বশির উদ্দিন ও স্ত্রী নাজমুন নাহার মারিয়া আহত হয়েছে। আহত শিশু মারজান ও বশির উদ্দিনকে স্বজনরা উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। ঘটনা ঘটেছে বুধবার রাতে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
জানাগেছে, আমতলী একে পাইলট সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকাবী শিক্ষক বশির উদ্দিন গত পঁাচ বছর কিডনী সমস্যায় ভুগছেন। সুপেয় পানির জন্য তার ঘর সংলগ্ন সরকারী কমিউনিটি ক্লিনিকের টিউবওয়েলে থেকে তিনি লাইন নেন। গত মঙ্গলবার ওই টিউবওয়েলের পানির লাইন কেটে দেয় শিক্ষক বশির উদ্দিনের চাচা সাইদুর রহমান।
এতে বশির সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে বশিরের কিডনীর সমস্যা বেড়ে যায়। বুধবার সন্ধ্যায় বশির উদ্দিনের ছয় বছরের শিশুপুত্র মারজান কেটে দেওয়া পানির লাইন দেখতে যায়। এ সময় সাইদুর রহমান ও তার স্ত্রী হাফিজা আক্তার শিশু মারজানকে মারধর করে। এ নিয়ে ওইদিন রাতে বশির উদ্দিন ও তার স্ত্রী নাজমুন নাহার মারিয়া চাচা সাইদুর রহমানের কাছে শিশু মারজানকে মারধরের বিষয়টি জানতে তার ঘরে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সাইদুর ও তার স্ত্রী হাফিজা, আবুল বাশার ও মরিয়ম বেগম।
এ সময় তারা শিক্ষক দম্পতি বশির উদ্দিন ও মারিয়াকে মারধর করে। পরে তারা বশির উদ্দিনের বিভিন্ন ফলের গাছ কেটে ফেলে এবং জীবন নাশের হুমকি দেয়। নিরুপায় বশির তাদের ভয়ে শিশু পুত্র মারজান ও স্ত্রী মারিয়াকে নিয়ে অন্যের বাড়ীতে আশ্রয় নেয়। বৃহস্পতিবার সকালে শিশু মারজান ও বশির উদ্দিনকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এবং স্ত্রী মারিয়াকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আমতলী থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। তাদের হামলায় শিশু মারজানের মাথায়, বাম হাটু ও পায়ে জখম হয়েছে বলে জানান চিকিৎসক এমদাদুল হক চৌধুরী।
কান্নাজনিত কন্ঠে কিডনী রোগী আহত বশির উদ্দিন বলেন, আমি গত ৫ বছর ধরে কিডনী রোগে ভুগতেছি। সুপেয় পানির জন্য আমি ক্লিনিকের টিউবওয়েল থেকে পানির লাইন নেই। ওই পানির লাইন আমার চাচা সাইদুর রহমান ও তার স্ত্রী হাফিজা কেটে দেয়।
তিনি আরো বলেন, আমার ছয় বছরের শিশু ওই লাইন কাটা দেখতে গেলে ওকে চারা সাইদুর রহমান ও তার স্ত্রী হাফিজা বেগম বেধরক মারধর করেছে। এ বিষয়টি আমি জিজ্ঞাসা করতে গেলে আমাকে ও আমার স্ত্রীকে মারধর করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার মোঃ এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, শিশু মারজানের মাথা, হাটু ও পায়ের গোড়ালিতে জখমের চিহৃ রয়েছে। তিনি আরো বলেন, শিশুর বাবা কিডনী রোগে আক্রান্ত বশিরকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে সাইদুর রহমান বলেন মারধর ও টিউবওয়েলের লাইন কাটার কথা অস্বীকার করে বলেন, আমাকে হয়রানী করার জন্য এ অভিযোগ করা হয়েছে। আমতলী থানার ওসি মোঃ শাহ আলম হাওলাদার বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!