
মো: তারিকুর রহমান চুয়াডাংগা প্রতিনিধি :ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার সাফদারপুর রেলস্টেশনে দুটি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় কোন ব্যক্তির হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও তেলবাহী ট্রেনটির ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭শে অক্টোবর) রাত ১টা ৪৩ মিনিটের সময় সাফদারপুর রেলস্টেশনে এই দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে আসা যশোরগামী ৬৪০৭ নাম্বার লোকাধারী মালবাহী ডিজেএন নামের ট্রেনটি সাফদারপুর রেলস্টেশনের প্লাটফর্ম সংলগ্ন লুপলাইনে অবস্থান করছিলো। এ সময় খুলনা থেকে ছেড়ে আসা পার্বতীপুরগামী কেপি-২১ নামের ট্রেনটি মেইন লাইনে না যেয়ে লুপলাইনে ঢুকে পড়ে একই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মালবাহী ট্রেনটির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষের সৃষ্টি করে।
এতে তেলবাহী ট্রেনটির ইঞ্জিনসহ চারটি তেলবাহী বগি লাইনের উপর থেকে একেবারে মাটিতে পড়ে যায়। ফলে ওই বগিগুলো থেকে তেল বেরিয়ে আশেপাশের মাটির উপর জমতে থাকে। যা পরবর্তীতে স্থানীয় অনেকেই বালতি ও ব্যারেলে করে বাড়িতে নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে ঈশ্বরদী থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে। বিকল্প ইঞ্জিনের সাহায্যে মালবাহী ট্রেনটিকে দর্শনা স্টেশনে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং তেলবাহী ট্রেনের লাইন থেকে পড়ে যাওয়া বগিগুলো মেইন লাইন থেকে সরানোর জন্য দ্রুত কাজ শুরু করে উক্ত লাইনটি ক্লিয়ার করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করে রেল কর্তৃপক্ষ। মেইন লাইন ক্লিয়ার করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হলেও উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে সাফদারপুর রেলস্টেশনের কর্তব্যরত স্টেশন মাষ্টার গোলাম মোস্তফা জানান, এ ব্যাপারে আমাদের স্টেশনের কারো কোন গাফিলতি ছিলোনা। তবে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হবে। কার দায়িত্বে অবহেলার কারণে দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে তা তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে। ড্রাইভারের কোন গাফিলতি ছিলো কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে সেটাই ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এই দুর্ঘটনার জন্য এলাকাবাসী বিস্ময় প্রকাশ করেছে। তারা জানান, ট্রেন দুটি যদি মালবাহী না হয়ে যাত্রীবাহী হতো তাহলে অনেকেই আহত বা নিহত হওয়ার সম্ভাবনা ছিলো। দায়িত্বে অবহেলা ছাড়া এমন দুর্ঘটনা ঘটার কোন সম্ভাবনা নাই। এ ঘটনার জন্য রেল কর্মকর্তা বা কর্মচারী যেই দায়ী হোক না কেন তাকে তদন্ত সাপেক্ষে খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ও দাবি জানিয়েছেন তারা।
রাত থেকে খুলনার সাথে সারাদেশের রেল যোগাযোগ সাময়িক বন্ধ থাকলেও বেলা ১১টার পর থেকে রেল কর্তৃপক্ষের আন্তরিক প্রচেষ্টায় রেল যোগাযোগ স্বভাবিক হয়েছে। এদিকে লাইন ক্লিয়ার না থাকার কারণে সকাল থেকে বেনাপোলগামী ডাউন ৭৯৬ বেনাপোল এক্সপ্রেস চুয়াডাঙ্গার উথলী রেলস্টেশনে, খুলনাগামী ডাউন ৭৬২ সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস দর্শনা হল্ট রেলস্টেশনে, রাজশাহীগামী আপ ৭১৫ কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনে, চিলাহাটিগামী আপ ৭২৭ রূপসা এক্সপ্রেস বারোবাজরে এবং ঢাকাগামী আপ ৭৬৩ চিত্রা এক্সপ্রেস যশোর জংশনে দীর্ঘ সময় অবস্থান শেষে পুনরায় গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।

আরও পড়ুন
ঠাকুরগাঁওয়ে প্রতারক চক্রের দুই সদস্য ভাই-বোন গ্রেপ্তার, উদ্ধার স্বর্ণসদৃশ সামগ্রী
জামালপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালিত
একটি ড্রেন বন্ধ, জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত জামালপুর সদরের ৫ গ্রাম