
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ১০নং সয়দাবাদ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড এর ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল আজিজ মন্ডল প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ ভাবে জ্ঞাত বহিঃর্ভুত ভাবে শত-শত কোটি টাকা আয় বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। লিখিত অভিযোগ সূত্রে যানাযায়, গত ১৩ বছর আগেও তিনি ছিলেন দরিদ্র একজন তাঁত শ্রমিক।
মুলত তিনি আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর কৌশলে গত ৩ বছর ধরে সয়দাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি পদ বাগিয়ে নিয়ে প্রভাব খাটিয়ে অনিয়ম- দুর্নীতি করে খুব স্বল্প সময়ে অঢেল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার এলাকায় নির্মিতব্য সিরাজগঞ্জ বেসরকারী অর্থনৈতিক অঞ্চল ‘সিরাজগঞ্জ
ইকোনমিক জোন’ এর ভুমি অধিগ্রহনের সময় জমির মালিকদের ক্ষতিপুরনের টাকা প্রদান কালে অসৎ উপায়ে প্রভাব খাটিয়ে অধিকাংশ ভুমি মালিকদের কাছ থেকে ১৫ শতাংশ হারে জোর করে টাকা আদায় করেছেন।
পাশাপাশি অক্ষর জ্ঞানহীন হলেও প্রভাব খাটিয়ে ঐতিহ্যবাহী সয়দাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে নিয়োগ বানিজ্য করে লাখ-লাখ টাকা এবং পঞ্চসোনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হয়ে দপ্তরী নিয়োগ দিয়ে ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে আজিজ মন্ডল তার বাড়ির পাশে নির্মিতব্য সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোনের বালু ভরাট কাজও প্রভাব খাটিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন।
বালু মহাল থেকে শত-শত কোটি টাকার বালু উত্তোলনের নিয়োম থাকলেও তা না মেনে বঙ্গবন্ধু সেতুর দক্ষিনে ১ কিলোমিটার দুরে সয়দাবাদ পাওয়ার প্লান্টের পাশে যমুনা নদী থেকে ড্রেজার লাগিয়ে কোটি-কোটি টাকার বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছেন। এতে হুমকির মুখে রয়েছে দেশের বৃহৎ স্থাপনা বঙ্গবন্ধু সেতু ও উত্তরবঙ্গের বৃহৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। তার বিরুদ্ধে এই পাওয়ার প্লান্ট থেকে কোটি-কোটি টাকার তামার তার চুরিও অভিযোগ রয়েছে।
তিনি মুলত সিরাজগঞ্জের পাওয়ার প্লান্ট ও ইকোনমিক জোনের কাজ নিয়ন্ত্রন, ভুমিদস্যুতা, মাদক ব্যবসা পরিচালনা ও বিশাল সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করে অসহায় তাঁত শ্রমিক থেকে অল্প সময়ে শত-শত কোটি টাকার হঠাৎ করে মালিক হয়েছেন। তার এসব সম্পদ গড়েছেন মুলত ২০১৩ সাল থেকে। বর্তমানে তার স্থাবর সম্পদের পরিমানও অঢেল। তার স্বজনদের নামে ৩টি প্রাইভেটকার, ৫টি দশ চাকা ট্রাক, ঢাকাতে ৩/৪টি ও বগুড়াতে ১টি ফ্লাট রয়েছে। তার অবৈধ অর্জনের কোটি-কোটি নগদ রয়েছে আত্বীয়- স্বজনদের কাছে।
এছাড়া তিনি ইউপি সদস্য হিসেবে ভিজিডি কার্ড, বয়স্ক, বিধবা, গর্ববর্তী ভাতা কার্ড ও প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড প্রদান করে অসহায় মানুষের কাছ থেকেও অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিত্তশালীদের ভুমিহীন সাজিয়ে সরকারী খাস জমি বরাদ্ধ দেবারও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আর এভাবেই তিনি অনেক বিত্ত বৈভবের মালিক হয়েছে।
তার ব্যাংক এ্যাকাউন্টেও রয়েছে অস্বাভাবিক লেনদেন। যমুনা ব্যাংক, সিরাজগঞ্জ শাখার তার নিজ হিসাব নম্বর-০২৯-০২১০০১৪৪৬২ একাউন্ট অনুসন্ধান করলে এর বাস্তবতার প্রমান মিলবে। এছাড়া তার নামে অন্যান্য বাংকেও অস্বাভাবিক লেনদেন আছে। তার ভয়ে এলাকাবাসী কেউ মুখ খুলতে পারে না। এলাকাবাসীর প্রশ্ন একজন তাত শ্রমিক চাঁদা বাজি, ঘুষ ও ইয়াবা ব্যবসা করে রাতা রাতি অবৈধ ভাবে কোটি কোটি টাকার
মালিক হওয়ার পরও কেনো প্রসাশন ও দুদক আইনের আওতায় আনছে না এলাকাবাসী তা জানতে চায় এবং এলাকা বাসীর দাবি খুব দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করে শাস্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হোক।
তাকে গ্রেপ্তার করা না হলে যুব সমাজ ধংস এবং এলাকার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও চাদা বাজি দিন দিন বেড়েই চলছে। এবিষয় সরেজমিনে অনুসন্ধান পুর্বক কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহনের অনুরোধ জানিয়েছেন অভিযোগকারী মোঃ জয়নাল আবেদিন। এবিষয়ে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল আজিজ মন্ডলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন
টাঙ্গাইলে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রশ্নবিদ্ধ পদায়ন উঠেছে, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
আত্রাইয়ে দুই ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক গৃহবধূর পা বিচ্ছিন্ন
আড়ানী ডিগ্রি কলেজে ৩১টি নতুন ডেস্কটপ কম্পিউটার প্রদান