হোম » প্রধান সংবাদ » ঢাকা-১৮ আসনে নমিনেশন দৌড়ে এগিয়ে এড. সাহারা খাতুন ভাগনে মজিবুর রহমান

ঢাকা-১৮ আসনে নমিনেশন দৌড়ে এগিয়ে এড. সাহারা খাতুন ভাগনে মজিবুর রহমান

এম হিরন প্রধান : ঢাকা-১৮ আসনে গত ১২ বছর ধরে সংসদ সদস্য হিসেবে ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন। তিনি জ্বর, অ্যালার্জিসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৯ জুলাই রাতে থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে মারা গেলে আসনটি শূন্য হয়।

প্রবীণ রাজনীতিবিদ সাহারা খাতুনের মৃত্যুর পর এ আসনে নৌকার হাল ধরতে সক্রিয় আছেন তার ভাগনে মজিবুর রহমান। ইতিমধ্যে তিনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপত্রও সংগ্রহ করেছেন। মনোনয়ন পত্র বিতরণের প্রথম দিন সোমবার (১৭ আগস্ট) ধানমন্ডি আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয় থেকে মজিবুর রহমান মনোনয়ন ফরম কিনেন।

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের ভাগনে মজিবুর রহমান উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতিও। তিনি বলেছেন, ‘দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে আমি খালার (সাহারা খাতুনের) আসনে নির্বাচন করব।’

দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, সদ্য মারা যাওয়া সাংসদ সাহারা খাতুন ছিলেন ঢাকা-১৮ আসনে টানা তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত নেতা। আর দীর্ঘদিন ধরে তার একান্ত সচিব হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন মোঃ মজিবুর রহমান। যিনি সর্বমহলে সাহারা খাতুনের বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত লাভ করেছেন।

উল্লেখ্য, মজিবুর রহমান ৯০ গণআন্দোলন রাখেন বিশেষ ভূমিকা। স্বৈরশাসক এরশাদ ও বিএনপি-জামাত সরকারের জেল জুলুম সইতে হয়েছে তাকে। তিনি মাহাখালী পন্টে প্রতিটি আন্দোলনে সিনিয়র নেতেদের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জরিত ছিলেন। নেতাকর্মীদের খানা-দানা সহ তাদের মহাখালীতে আনা নেওয়া করতেন তিনি। যেমন আমির হোসেন আমু, প্রয়াত জিল্লুর রহমান, নাসিম সহ অনেককে। তারাও মুজিবুর রহমানকে পুত্র সম করতেন।

এদিকে ঢাকা ১৮ আসনের মাঠের রাজনীতিতেও মজিবুর রহমান এগিয়ে রয়েছেন বলে সরজমিনে জানা গেছে। খিলক্ষেত, উত্তরা, বিমানবন্দ, উত্তরখান, দক্ষিন খান, তুরাগ থনা ও ১৪ টি ওয়ার্ডে সহ ১৮ আসনের প্রতিটি এলাকায় তার কর্মী-সমর্থকও বেশ সক্রিয় রয়েছে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ভাষ্য, সাহারা খাতুন একজন সৎ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিলতা নিয়ে অসুস্থ থাকায় তার সমস্ত কাজ দক্ষতার সঙ্গে করতেন মজিবুর রহমান। বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন-সংগ্রাম, প্রতিটি মিটিং মিছিলে প্রবীণ রাজনীতিবিদ সাহারা খাতুনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন তিনি।

মজিবুর রহমান, ব্যক্তিগতভাবে অসহায় মানুষের বিপদ-আপদে পাশে থাকার চেষ্টা করতেন। সবশেষ করোনাকালে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকা-১৮ আসনের বিভিন্ন এলাকায় সাহারা খাতুনের পক্ষে নিজে উপস্থিত থেকে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেন তিনি।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সাহারা খাতুনের পাশে থেকেছেন মজিবুর রহমান। ব্যক্তিজীবনে সাহারা খাতুন অবিবাহিত থাকলেও ভাগ্নে মজিবুর রহমানকে সবসময় ছেলের মতো করে আগলে রাখতেন। ফলে তার মতো একজন দক্ষ, সৎ ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিলে এ আসনের মানুষ উপকৃত হবে।

জানতে চাইলে মজিবুর রহমান বলেন, খালা (সাহারা খাতুন) তার জীবনকে আওয়ামী লীগের জন্য, দেশের মানুষের কল্যাণে উৎসর্গ করেছেন। তিনি ব্যক্তিজীবনে অবিবাহিত ছিলেন। যত দিন বেঁচেছিলেন তত দিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে তারই কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আস্থা রেখে কাজ করে গেছেন।

তিনি বলেন, সাহারা খাতুনের পরিবারের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবার আমাকে সুযোগ দিলে প্রথমেই খালার রেখে যাওয়া অসম্পূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করব। সেই সঙ্গে তার আদর্শ ও সততা বুকে ধারণ করে ঢাকা-১৮ আসনের সাধারণ জনগণের জন্য কাজ করে যাব।

এদিকে সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ফরম তোলার হিড়িক পড়েছে। গত পাঁচ দিনে এ আসন থেকে নির্বাচনে লড়তে ৪৩ জন মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।

জানা যায়, প্রয়াত সাহারা খাতুনের ভাগনে মজিবুর রহমান ছাড়াও এ আসন থেকে ৪৩ জন দলীয় মনোনয়নের জন্য আবেদন করেছেন।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!