
আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি
পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে নওগাঁ জেলা পুলিশ, নওগাঁ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক জনাব মোঃ শহিদুল আলম (৮২)এর স্ত্রী মোসা ফাতেমা খাতুন কে গত ২৩জুন/২০২৬ অজ্ঞানপূর্বক হত্যা, এবং স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে । আসামি হাসিনা বেগম এবং সহযোগী স্বর্ণালংকার ব্যবসায়ী ইমরান গ্রেফতার।
গত ২৩ শে জুন দুপুরে নওগাঁ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক জনাব মোঃ শহিদুল আলম এর স্ত্রী মোছাঃ ফাতেমা খাতুন কে অজ্ঞাতনামা অজ্ঞান পার্টির সদস্য নওগাঁ শহরের চুরিপট্টি থেকে রিকশায় নিয়ে অজ্ঞান করে তার স্বর্ণালঙ্কার এবং টাকা পয়সা নিয়ে যায়। পরবর্তীতে মোছাঃ ফাতেমা খাতুন কে অজ্ঞান অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয় এবং ২৬ শে জুন তিনি সকালে মারা যান। এই ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলার রুজু করা হয়।
বিষয়টি অবগত হওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, তার তত্ত্বাবধানে নওগাঁ সদর থানা এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি শক্তিশালী টিম গঠন করা হয়। জেলা পুলিশের এই টিম সমস্ত শহরের আশিটির অধিক সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে। তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ, ডাটা বিশ্লেষণ গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনা করা হয়।
অতঃপর জনগণের সহায়তায় সম্ভাব্য আসামি হিসেবে হাসিনা বেগমকে নওহাটা এলাকা থেকে ১৫ জুলাই গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত হাসিনা বেগমকে নওগাঁ জেলা পুলিশের একটি শক্তিশালী টিম পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে এক পর্যায়ে গ্রেফতারকৃত হাসিনা বেগম তার অপরাধের কথা স্বীকার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামি হাসিনা বেগম জিজ্ঞাসাবাদে জানায় গত জুনের ২৩ তারিখ সে উকিলপাড়ায় সম্ভাব্য টার্গেট খুঁজে বেড়ায়। আসামি হাসিনা বাড়ি ভাড়া নেয়ার দোহাই দিয়ে অধ্যাপক শহিদুল আলম এবং তার স্ত্রী ফাতেমা খাতুন এর সাথে একই অটো রিক্সায় ঔষধ কিনার নামে চুড়ি পট্টিতে স্টারলাইট ফার্মেসির কাছে নামে। অতঃপর অধ্যাপক শহিদুল আলম মিষ্টি কিনার জন্য নওগাঁ মিষ্টান্ন ভান্ডারের দিকে যেতে থাকে। সেই সময় আসামি হাসিনা, ভিকটিম ফাতেমা খাতুন কে কৌশলে সেখান থেকে রিকশায় করে অন্য জায়গার উদ্দেশ্যে রওনা করে। আসামি হাসিনা বেগমের কোলে আড়াই থেকে তিন বছরের একটি শিশু সন্তান ছিল।
এই শিশু সন্তানকে সে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করত। রিক্সায় আসামী হাসিনা, ভিকটিম ফাতেমাকে জুসের সাথে অত্যন্ত কড়া ঘুমের ওষুধ জিওনিল XIONIL ৬/৭টি ট্যাবলেট মিশিয়ে পান করায়। অতঃপর ভিকটিম ফাতেমা খাতুন অজ্ঞান হয়ে যায়। এ সময় কৌশলে আসামী তার স্বর্ণালংকার এবং টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়। অতঃপর ভিকটিম ফাতেমা খাতুনকে নওগাঁ শহরের ময়লা পট্টি এলাকায় নদীর পাড়ে বেঞ্চের উপর বসিয়ে রেখে চলে যায়। পরবর্তীতে ভিকটিম ফাতেমা খাতুন হাসপাতালে মারা যান।
হাতিয়ে নেওয়া স্বর্ণালংকার আসামি হাসিনা বেগম, জোয়ারদার জুয়েলার্সের ইমরানের নিকট পঞ্চাশ হাজার টাকায় বিক্রি করে। অতঃপর গোয়েন্দা পুলিশ ইমরানকে গ্রেফতার করে। ইমরান পুলিশের নিকট আসামি হাসিনার নিকট থেকে স্বর্ণালংকার ক্রয় করার কথা স্বীকার করেন। তদন্তে জানা যায় হাসিনা বেগম নওগাঁ শহর এবং আশেপাশের এলাকায় তার শিশু বাচ্চাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে জুসের সাথে তীব্র ঘুমের ওষুধ খাইয়ে আরো কয়েকজন মহিলার স্বর্ণালংঘর এবং টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়েছে। তার সাথে অন্য কোন সদস্য জড়িত আছে কিনা এ বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত আছে।
এ প্রসঙ্গে নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন নওগাঁ জেলা পুলিশ নওগাঁ শহরের যেকোনো ধরনের অপরাধ, বিশেষত অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা কঠোর হস্তে দমন করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

আরও পড়ুন
বগুড়া শেরপুরের চুরি মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি আফিল পিন্টু গ্রেপ্তার
ভৈরব প্রেসক্লাবের নির্বাচনে সভাপতি আনোয়ার, সম্পাদক সোহেল
ধামগড়ে নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তা সংস্কার, এলাকাবাসীর প্রশংসায় মেম্বার প্রার্থী শফিকুল ইসলাম