
কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সরকারি কাউখালী গান্ডতা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা।
সোমবার (২৩ জুন) সকাল ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের সামনের সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী অংকন ঘোষ, শফিউল আলম, শুভঙ্কর ও নকীব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেন। তারা বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ে আগে পাঁচজন শিক্ষক ছিলেন। প্রায় এক সপ্তাহ আগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম স্যার বদলি হয়ে ঢাকায় চলে গেছেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ে মাত্র চারজন শিক্ষক রয়েছেন।”
তারা আরও বলেন, “আমরা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে অবস্থান করেও দুই-একটির বেশি ক্লাস করতে পারি না। আমরা সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ পাঠদান নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধনে অংশ নিয়েছি। আমাদের একটাই দাবি— আমরা যেন সঠিকভাবে পাঠ গ্রহণ করতে পারি। সরকার দ্রুত নতুন শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে আমাদের লেখাপড়ার সুযোগ নিশ্চিত করবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
এ সময় বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম, রাকিব তালুকদার ও জাহিদুর রহমান ফিরোজ বক্তব্য দেন। তারা বলেন, “মাত্র চারজন শিক্ষক দিয়ে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীকে পাঠদান করা সম্ভব নয়।”
শিক্ষার্থীদের অভিভাবক মোহাম্মদ আল আমিন খান গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান।
অভিভাবক এনামুল হক বলেন, “বিদ্যালয়টিতে ১৭টি শিক্ষকের পদ থাকলেও বর্তমানে মাত্র চারজন শিক্ষক দিয়ে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে শিক্ষার মান ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এটি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “বিদ্যালয়টি সরকারি হওয়ার আগে এখানকার শিক্ষার্থীরা ডাক্তার, প্রকৌশলী, কর্নেল, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও অতিরিক্ত আইজিপির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন, যার সাক্ষী ইতিহাস। অথচ বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। কেউ কেউ মাদক, জুয়া ও ইভটিজিংয়ের মতো সামাজিক অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। আমরা এমন পরিস্থিতি আর দেখতে চাই না। তাই অবিলম্বে শূন্য পদগুলোতে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানাই।”
বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট চললেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। উপরন্তু, মাত্র পাঁচজন শিক্ষক থাকা অবস্থায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে, যা বিদ্যালয়ের জন্য আরও সংকট তৈরি করেছে।
তারা দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ না হলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। মানববন্ধনে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সচেতন নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত শিক্ষক সংকট সমাধানের আহ্বান জানান।
মানববন্ধন অংশগ্রহণকারীরা শিক্ষার স্বার্থে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ বিষয়ে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক উপপরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, “পাঁচজন শিক্ষক থাকা অবস্থায় একজন শিক্ষককে বদলির বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মনজু মহোদয় শিক্ষক নিয়োগের জন্য ডিও লেটার দিয়েছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষক দেওয়ার জন্য আমরা কাজ করছি।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, “তিন বা চারজন শিক্ষক দিয়ে একটি বিদ্যালয় পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন। তবে পিরোজপুর দুই আসনের মাননীয় সংসদ ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষক সংকট সমাধানের আশ্বাস

আরও পড়ুন
মধুপুরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
মদনপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বিএনপির প্রতিবাদ সভা ও অবস্থান কর্মসূচি
ব্র্যাকের উদ্যোগে বাঘায় ১৫ জন স্বপ্নসারথি কিশোরীকে প্রশিক্ষণ শেষে মুরগির বাচ্চা ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান