হোম » রাজধানী » জিয়া পরিষদে ‘কমিটি বাণিজ্য’ বিতর্ক: অভিযোগের কেন্দ্রে আবদুল্লাহিল মাসুদ

জিয়া পরিষদে ‘কমিটি বাণিজ্য’ বিতর্ক: অভিযোগের কেন্দ্রে আবদুল্লাহিল মাসুদ

বিশেষ প্রতিবেদক

৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংক পাড়ায় এক নতুন আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছেন জিয়া পরিষদের সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব আবদুল্লাহিল মাসুদ। তার বিরুদ্ধে জিয়া পরিষদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের দোহাই দিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদাবাজি এবং নিয়মবহির্ভূত ‘কমিটি বাণিজ্য’ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে মতিঝিল এলাকাকে তিনি তার চাঁদাবাজির মূল কেন্দ্র বা ‘হাব’ হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে জানা গেছে।​নিয়ম ভেঙে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার ও লাখ লাখ টাকার লেনদেন। যমুনা টেলিভিশনের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, প্রতিটি নতুন কমিটি গঠন বা পদায়নের জন্য তিনি ১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকেন। ব্যাংক কর্মকর্তারাও নিজেদের পদোন্নতি ও কাঙ্ক্ষিত বদলির আশায় বিপুল অর্থ ঢালছেন। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে সাইফুল আবেদীন তালুকদার (সেলিম) নামের এক কর্মকর্তার ঘটনা।​জনাব সাইফুল আবেদীন সেলিম, এস পি ও জনতা ব্যাংক পি এল সি (সাংগঠনিক সম্পাদক, জিয়া পরিষদ, ময়মনসিংহ বিভাগ) বিগত ১০/০২/২০১৯ তারিখে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত ও অব্যাহতি প্রাপ্ত হয়েছিলেন।

দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর পর, গত ২৩/০৫/২০২৬ তারিখে তার এই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, জিয়া পরিষদের স্থায়ী কমিটির কোনো আনুষ্ঠানিক সভা ছাড়াই, সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে এবং মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছেন আবদুল্লাহিল মাসুদ।​স্বার্থের সংঘাত ও তড়িঘড়ি নতুন কমিটি গঠন: সাইফুল আবেদীন সেলিমের চাকরির মেয়াদ আর মাত্র ৪ মাস বাকি রয়েছে। অথচ বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের মাত্র এক মাসের মাথায়, এক বছর আগে ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ না করেই, নতুন আরেকটি কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, জনতা ব্যাংক জিয়া পরিষদের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে তাকে সভাপতি করার জন্য মোটা অঙ্কের অর্থের চুক্তি হয়েছে। সাধারণ ব্যাংক কর্মকর্তাদের প্রশ্ন—চাকরির শেষ সময়ে থাকা একজন বিতর্কিত কর্মকর্তাকে নিয়ে কেন এত তড়িঘড়ি করা হচ্ছে?​অতীতে এই সাইফুল আবেদীন সেলিমের বিরুদ্ধে তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কুদ্দুসের উপস্থিতিতে একটি অনুষ্ঠানে পুলিশ ডেকে হেনস্তা এবং এমনকি গ্রেপ্তার করানোর চেষ্টার অভিযোগ ছিল। গত ২৬/০৪/২০২৬ তারিখে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ড. আব্দুল কুদ্দুস মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর মাত্র এক মাসের মাথায় অত্যন্ত রহস্যজনকভাবে সেলিমের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়, যা এই অভিযোগের সত্যতাকে আরও জোরালো করে।

​শীর্ষ নেতৃত্বের অসন্তোষ ও দলীয় নেতাদের বক্তব্য:
নেতাকর্মীদের এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে খোদ বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বও ক্ষুব্ধ। কিছুদিন পূর্বে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রয়াত চেয়ারম্যান ড. আব্দুল কুদ্দুসের নাগরিক শোক সভায় এসে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, “আপনারা তো দোকান খুলে বসেছেন।” মহাসচিবের এই মন্তব্য যে ব্যাংক পাড়ার এই চাঁদাবাজি ও কমিটি বাণিজ্যকে ইঙ্গিত করেই ছিল, তা এখন স্পষ্ট।
​এই বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জিয়া পরিষদের একাধিক শীর্ষ নেতা আবদুল্লাহিল মাসুদের এই ধরনের চাঁদাবাজি, বদলি বাণিজ্য এবং সাংগঠনিক অনিয়মের কথা স্বীকার করেছেন। তারা মনে করেন, এই ধরনের অপকর্মের ফলে ব্যাংক খাতে জিয়া পরিষদের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!