হোম » সারাদেশ » বোরহানউদ্দিনে ঝড়ে বিধ্বস্ত বসতঘর, খোঁজ নেয়নি কেউ, দিন কাটছে খোলা আকাশের নিচে

বোরহানউদ্দিনে ঝড়ে বিধ্বস্ত বসতঘর, খোঁজ নেয়নি কেউ, দিন কাটছে খোলা আকাশের নিচে

জেএম. মমিন, বোরহানউদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি

ভোলার বোরহানউদ্দিনে গত সোমবার (২৫ মে) বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে বসতঘর, গাছ পালা ও বৈদ্যতিক লাইন ক্ষতিগ্রস্ত ও বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝড়ের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেয়নি কেউ এবং মেলেনি কোনো ধরনের সহাযোগীতা এমন অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলো। উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের দরুন গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় জানা যায়, আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে তিনটি টিনের ঘর সম্পূর্ণ লন্ডভন্ড হয়ে যায়। একটি টিনশেড ঘরের চাল উড়ে যায়। আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী নষ্ট হয়ে যায়। এতে মাথা গোজার ঠাঁই হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন পরিবারগুলো। এখন দিন কাটছে খোলা আকাশের নিচে। সকলে ঈদের আনন্দ উপভোগ করলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঈদে ছিলনা কোনো আনন্দ।
দরুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত শাহে আলম জানান, নিজস্ব জায়গা জমি না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে সরকারী বেড়ীবাধেঁর উপর প্রতিবন্ধী স্ত্রী ফুলজানকে নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। ঈদের তিন দিন আগে হঠাৎ
কালবৈশাখী ঝড়ে তাদের টিনের ঘরের উপর বিশাল আকৃতির একটি গাছ পড়ে সম্পূর্ণ ভেঙ্গে যায়। নিজেদের সামর্থ্য না থাকায় ঘর মেরামতের চেষ্টা করলেও আর্থিক সংকটের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।
ঝড়ের পর থেকে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের পরিবারে ঈদের কোনো আনন্দ নেই। তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা কিংবা
বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে তাদের খোঁজ নেওয়া হয়নি এবং কোনো সহযোগিতাও মেলেনি।

একই এলাকার আরেক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি মোঃ খোরশেদ জানান, জায়গা জমি না থাকায় স্থানীয় এক ব্যক্তির দেয়া জমিতে ঘর তোলে থাকতেন। পরে সেখান থেকে চলে এসে বেড়িবাধেঁর উপর সরকারী জায়গায় একটি ঝুপড়ি ঘরে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ওইদিনের ঝড়ে সেই ঘরটি মাটিতে মিশে যায়। এখন রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে মাটিতে পাটি বিছিয়ে সেখানেই থাকতে হচ্ছে তাদের।
এছাড়া সাকিব সিকদার ও খোরশেদ সরদার নামে আরো দুই ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বলেন, “ঝড়ে আমাদের ঘরের বেশিরভাগ অংশ ভেঙে গেছে। স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। সহায়তা তো দূরের কথা এখন পর্যন্ত কেউ খোঁজ নেয়নি এবং দেখতেও আসেনি। স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এছাড়া দেউলা, গঙ্গাপুর ও হাসান নগর ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন এলাকায় খোজ নিয়ে জানাযায়, ঝড়ে অনেকের বসত ঘর আংশিক ও পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে গাছ পালা উপড়ে পড়ে আছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ লাইনের খুটি ভেঙ্গে ও তার ছিড়ে লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এর ফলে উপজেলার অনেক স্থানে এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। ঈদের মধ্যে চরম দূর্ভোগে রয়েছে সাধারণ মানুষ। সাচড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ মহিউদ্দিন মোল¬া জানান, আমি বিষয়টি অবগত নই। তবে তাদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে। বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন জানান, কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা করে সহযোগীতা করা হবে।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!