
রাণীশংকৈল(ঠাকুরগাঁও)প্রতিনিধি
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যার আত্মত্যাগের বিনিময়ে পরিবারসহ পুরো এলাকার মানুষ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম নির্যাতন থেকে রক্ষা পেয়েছিল, সেই বীরাঙ্গনা টেপরি বর্মন ওরফে টেপরি বেওয়া আর নেই। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি রাণীশংকৈল উপজেলার বলিদ্বারা এলাকার মৃত মধুরাম রায়ের মেয়ে।
বুধবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে নিজ বাড়িতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগম, থানার ওসি (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন, রিয়াজুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার পীরগঞ্জ উপজেলার মেয়ের বাড়িতে অবস্থানকালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে সেখানেই বিকেলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরদিন নিজ বাড়িতে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।
তাঁর মৃত্যুতে মুক্তিযোদ্ধাসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
জানা যায়, দীর্ঘ সময় অবহেলায় কাটানোর পর ২০১৭ সালে রাষ্ট্রীয়ভাবে বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি পান টেপরি রাণী ওরফে টেপরি বর্মন। পরের বছর তাঁর আত্মত্যাগের গল্প প্রকাশ্যে এলে দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, জীবনের শেষ সময়ে রাষ্ট্রীয় এই স্বীকৃতি তাঁদের কিছুটা হলেও মানসিক শান্তি দিয়েছিল।
বীর মুক্তিযোদ্ধা রিয়াজুল ইসলাম বলেন, টেপরি রাণী শুধু একজন বীরাঙ্গনা নন, তিনি আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসের এক জীবন্ত অধ্যায়।

আরও পড়ুন
টাঙ্গাইলে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রশ্নবিদ্ধ পদায়ন উঠেছে, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
আত্রাইয়ে দুই ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক গৃহবধূর পা বিচ্ছিন্ন
আড়ানী ডিগ্রি কলেজে ৩১টি নতুন ডেস্কটপ কম্পিউটার প্রদান