
এম,এ রাশেদ,বগুড়া জেলা প্রতিনিধি: বগুড়ার ধুনট উপজেলার একটি কওমী মাদ্রাসার শিক্ষক ও উপজেলা মডেল মসজিদের খতিবের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী হুজাইফা (ছদ্মনাম) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বছর ধুনট পৌর এলাকায় অবস্থিত ধুনট দারুল উলুম কওমী মাদ্রাসা-এর ইয়াজদাহম জামাতে ভর্তি হয় হুজাইফা। আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে সে অভিযুক্ত শিক্ষক ও মডেল মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল বাছেদের কক্ষে অবস্থান করত। অভিযোগে বলা হয়েছে, শিক্ষক বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও মানসিক চাপ প্রয়োগ করে তাকে অনৈতিক ও আপত্তিকর কাজে বাধ্য করতেন। একই ধরনের অভিযোগ আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকেও রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন রয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বিষয়টি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিকুল ইসলামকে অবহিত করলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পরবর্তীতে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।
সোমবার (১১ মে ২০২৬) দুপুরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেয়। অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল বলছে, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা আব্দুল বাছেদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“আমার সামাজিক ও ধর্মীয় সম্মান ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ তুলেছে।” অন্যদিকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিকুল ইসলামও অভিযোগকে “সাজানো ও ভিত্তিহীন” দাবি করে জানান, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি অভ্যন্তরীণভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখেছেন।
এ বিষয়ে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয় বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। পাশাপাশি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

আরও পড়ুন
টাঙ্গাইলে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রশ্নবিদ্ধ পদায়ন উঠেছে, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
আত্রাইয়ে দুই ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক গৃহবধূর পা বিচ্ছিন্ন
আড়ানী ডিগ্রি কলেজে ৩১টি নতুন ডেস্কটপ কম্পিউটার প্রদান