হোম » সারাদেশ » বগুড়ায় রাহুল গ্রুপে শ্রমিক অসন্তোষ: ৮ ঘণ্টার কাজ ১২ ঘণ্টা, বেতন নিয়ে চরম টালবাহানা

বগুড়ায় রাহুল গ্রুপে শ্রমিক অসন্তোষ: ৮ ঘণ্টার কাজ ১২ ঘণ্টা, বেতন নিয়ে চরম টালবাহানা

বগুড়া থেকে রায়হানুল ইসলাম ঃ
​বগুড়ার প্রথিতযশা শিল্পপ্রতিষ্ঠান রাহুল গ্রুপে শ্রমিক অসন্তোষ চরম আকার ধারণ করেছে। সরকারি শ্রম আইন উপেক্ষা করে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা চাপিয়ে দেওয়া এবং প্রতিশ্রুত বেতন না দেওয়ার অভিযোগে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন সাধারণ শ্রমিকরা। বছরের পর বছর সেবা দিয়ে আসা শ্রমিকদের সঙ্গে মালিকপক্ষের অপেশাদার ও অমানবিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে।
কাজ বেশি, মজুরি কম, ​ভুক্তভোগী শ্রমিকদের দেওয়া তথ্যমতে, কারখানায় বর্তমানে অরাজক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তাদের প্রধান অভিযোগগুলো হলো:
​অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা: নিয়মানুযায়ী ৮ ঘণ্টা ডিউটি করার কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষ জোরপূর্বক ১২ ঘণ্টা কাজ করিয়ে নিচ্ছে। ​যেখানে ৮-১০ হাজার টাকা মাসিক বেতন দেওয়ার কথা, সেখানে শ্রমিকদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা।
দীর্ঘ ২০-৩০ বছর ধরে কর্মরত বয়োজ্যেষ্ঠ শ্রমিকদের সঙ্গে তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠেছে ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে।
​​বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের মধ্যে অনেকেই তাদের কর্মজীবনের শুরু থেকে এই প্রতিষ্ঠানে আছেন। একজন শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:​”আমি যখন এই গ্রুপে যোগ দেই, তখন দৈনিক বেতন ছিল মাত্র ৩০ টাকা। জীবনের সেরা সময়টা এই কারখানায় দিলাম, আর আজ ২০ বছর পর এসে গালিগালাজ শুনতে হচ্ছে। ৮ ঘণ্টার কথা বলে ১২ ঘণ্টা খাটায়, কিন্তু মাস শেষে বেতন দেয় চাহিদার চেয়ে অনেক কম।”
​১০ মে কারখানার সামনে রাস্তা অবরোধ করে ​শ্রমিকদের দাবি, মালিকপক্ষ তাদের সঙ্গে দিনের পর দিন প্রতারণা করে আসছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে ৫-৬ হাজার টাকায় সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তার ওপর কর্মঘণ্টা বাড়িয়ে দিয়ে তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের এই শোষণ ও মালিকপক্ষের খামখেয়ালি আচরণের কারণে শ্রমিকদের মধ্যে বর্তমানে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
​এই বিষয়ে রাহুল গ্রুপ কর্তৃপক্ষ রঞ্জিত মল্লিক সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের শ্রমিক আন্দোলনের সূত্রপাত হতে পারে।
​শ্রমিকদের এই অসন্তোষ নিরসনে স্থানীয় প্রশাসন ও শ্রম অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগীরা।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!