হোম » সারাদেশ » চিকিৎসকের সংকট বন্ধ সরকারি ওটি-প্রসূতির ভরসা বেসরকারি ক্লিনিক

চিকিৎসকের সংকট বন্ধ সরকারি ওটি-প্রসূতির ভরসা বেসরকারি ক্লিনিক

মো: সবুজ ইসলাম,রাণীশংকৈল প্রতিনিধি:-গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকটে প্রায় ৯ বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটার (ওটি)। ফলে সিজারিয়ান সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গর্ভবতী মায়েরা। বাধ্য হয়ে তাদের নির্ভর করতে হচ্ছে বেসরকারি ক্লিনিকের ওপর। এতে চিকিৎসা ব্যয় বাড়ছে, আর্থিক চাপে পড়ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসব (নরমাল ডেলিভারি) সেবা চালু থাকলেও জরুরি সিজারিয়ান অপারেশন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, অপারেশন থিয়েটার এবং এনেস্থিসিয়া চিকিৎসক থাকলেও শুধুমাত্র একজন গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে এই সেবা বন্ধ রয়েছে।

সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে প্রতি মাসে প্রায় ২২০ জন গর্ভবতী মায়ের সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। সরকারি হাসপাতালে এই সেবা না থাকায় রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ছে।

প্রসূতি এক মায়ের অভিভাবক বলেন, “সরকারি হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটার থাকা সত্ত্বেও যদি সেখানে সিজার করা না যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য সেটা খুবই কষ্টের। বেসরকারি ক্লিনিকে অনেক বেশি টাকা লাগে। হাসপাতালে নিয়মিত অপারেশন চালু হলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের অনেক উপকার হতো।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ না থাকায় প্রসূতি সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় জরুরি রোগীদের দ্রুত অন্যত্র পাঠাতে হয়, যা মা ও নবজাতকের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: ফিরোজ আলম বলেন, “হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার চালুর জন্য প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই রয়েছে। এনেস্থিসিয়া সংক্রান্ত সুবিধাও আছে। তবে গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় নিয়মিত অপারেশন সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল আহামেদ বলেন, “আমি এখানে এসে জানতে পেরেছি, গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। দ্রুত জনবল নিয়োগ করা হলে অচল অপারেশন থিয়েটার আবার চালু করা সম্ভব হবে। তখন সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালেই স্বল্প খরচে সেবা পাবে।”

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!