হোম » সারাদেশ » জীবিত স্বামীকে মৃত দেখিয়ে বিধবা ভাতা উত্তোলন

জীবিত স্বামীকে মৃত দেখিয়ে বিধবা ভাতা উত্তোলন

জাহিদুল হক মিন্টু, নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁয় স্বামী জীবিত থাকা সত্বেও তাকে মৃত দেখিয়ে বিধবা ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি নওগাঁ সদর উপজেলার কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নের সালেবাজ গ্রামের। ভাতাভোগী ঐ নারীর নাম মোছা: সাহিদা বেগম। সে একই এলাকার মো: ইন্দাস মন্ডলের মেয়ে ও সাইফুল ইসলামের স্ত্রী।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে- প্রায় ৩৫ বছর আগে সালেবাজ গ্রামের সাহিদা বেগমের সাথে একই এলাকার সাইফুল ইসলামের বিয়ে হয়। সাইফুল এখনো জীবিত রয়েছে, পেশায় সে একজন রাজমিস্ত্রী। কর্মক্ষম স্বামী বেঁচে থাকা সত্বেও কিভাবে বিধবা হয় এমন প্রশ্ন স্থানীয়দের।

সমাজসেবার দাপ্তরিক নথি বলছে, সাহিদা বেগম নিয়মিত একজন বিধবা ভাতাভোগী নথিতে যুক্ত (০১৭০৫৬২৭৭২৫) এই নগদ একাউন্ট নাম্বারে নিয়মিত প্রতি মাসে টাকা পেয়ে থাকেন তিনি।

ভাতাভোগী সাহিদা বেগম বলেন- এই টাকা কিভাবে আমার নাম্বারে আসছে আমি জানিনা। আমাকে সবাই বলার পর আমি একজনের মাধ্যমে চেক করে দেখি গত ১বছর যাবৎ টাকা আসতেছে। এর আগে আমার জা মহিলা মেম্বার ছিল হয়ত এটা তার কাজ। আমার স্বামী বেঁচে আছে আমি কেন বিধবা ভাতা খাব।
তিনি আরো বলেন- আমি এটা যাচাই করার পর আমাদের স্থানীয় মিলন মেম্বারের কাছে ২বার গিয়েছি তাকে বন্ধ করতে বলি কিন্তু তিনি কিছু বলেও না বন্ধও করে না।

কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) মিলন হোসেন বলেন- গত ৩মাস আগে সমাজসেবা অফিস থেকে একটা তালিকা পেয়েছিলাম সে তালিকায় দেখি সহিদা বেগমের নাম। আমি যাচাই করতে গিয়ে দেখি সহিদার স্বামী বেঁচে আছে। মোবাইল চেক করে দেখি নিয়মিত টাকা আসে। তাকে জিজ্ঞেস করলে সে কিছু জানেনা বলে জানায়।
অপর এক প্রশ্নে তিনি আরো বলেন- আমি বিষয়টা এখনো সমাজসেবা অফিস বা কাওকে জানাইনি তবে জানাবো।

কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নের (পদচ্যুত) চেয়ারম্যান নাজমুল হক (হান্নান) বলেন- আমি এসবের কিছু জানিনা। আমি ৫ আগষ্টের পর সাত মাস পালিয়ে ছিলাম, এক বছর জেলে ছিলাম, এসব কিভাবে হয়েছে আমার জানা নাই। তাছাড়া আমি এখন কোন পদে নাই। যারা আছে তাদের কাছে জানেন।

কীর্ত্তিপুর ইউনিয়ন সমাজকর্মী নজরুল ইসলাম বলেন- চেয়ারম্যান, মেম্বাররা যে তালিকা দেয় আমরা সেটার কাগজপত্র রেডি করে জেলা উপজেলা অফিসে জমা দেই সে অনুযায়ী টাকা দেয়া হয়। একটা ইউনিয়নে ৪’শ-৫’শ জন ভাতাভোগী থাকে সবার বাড়িবাড়ি গিয়ে তো তথ্য যাচাই করা সম্ভব না। এটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কাজ।

জেলা সমাজসেবা অফিসার নূর মোহাম্মদ বলেন- হয়ত ভুলবশত তালিকায় তার নাম এসেছে। আমরা তার নামটি বাদ দেয়ার ব্যবস্থা করছি।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!