হোম » সারাদেশ » ধুনটে ভাইরাল ইস্যু: খেজুরের বীজ রোপণ করে আলোচনায় নাবিল মাস্টার

ধুনটে ভাইরাল ইস্যু: খেজুরের বীজ রোপণ করে আলোচনায় নাবিল মাস্টার

এম,এ রাশেদ,বগুড়া জেলা প্রতিনিধি: বগুড়ার ধুনট উপজেলার চৌকিবাড়ী ইউনিয়নের দিঘলকান্দি গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম নাবিল, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘নাবিল মাস্টার’ নামে পরিচিত, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন। ট্রেনে ভ্রমণের সময় স্বেচ্ছাশ্রমে রেললাইনের পাশের ফাঁকা জমিতে খেজুরের বীজ রোপণের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করেন।

‎পেশায় তিনি একজন ইংরেজির সহকারী অধ্যাপক ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক হলেও পরিবেশ ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কারণেই তিনি মানুষের নজর কাড়ছেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল, স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদমাধ্যম, ইউটিউব এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর উদ্যোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

‎জানা যায়, নাবিল মাস্টার দীর্ঘদিন ধরে ট্রেনে যাতায়াতের সময় রেললাইনের আশপাশে পড়ে থাকা অনাবাদি জমিতে খেজুরের বীজ ছড়িয়ে দেন। তাঁর বিশ্বাস, এসব বীজ থেকে ভবিষ্যতে গাছ জন্মাবে, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।

‎নাবিল মাস্টার বলেন, “মানবজাতির কল্যাণে এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করে যেতে চাই। মানুষ পৃথিবীতে এসেছে ভালো কাজের জন্য—আমি সেই কাজেরই একজন ক্ষুদ্র কর্মী মাত্র।”

‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি শুধু খেজুরের বীজ রোপণেই সীমাবদ্ধ নন। বিভিন্ন সময়ে লাউ, শিম, সজনে ও অন্যান্য উপকারী গাছের বীজ বিতরণ এবং বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন। তাঁর উদ্যোগে অনেক পরিবার নিজ নিজ বাড়ির আঙিনায় সবজি ও ফলজ গাছ লাগাতে আগ্রহী হয়েছে, যা গ্রামীণ পুষ্টি ও স্বনির্ভরতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

‎নাবিল মাস্টার তাঁর প্রয়াত মায়ের স্মৃতিকে ধারণ করে “রাজফুল ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট” নামে একটি সামাজিক সংগঠন পরিচালনা করছেন। এছাড়া “মসজিদ ডট লাইফ”, “ফসল অর্গানাইজেশন”, “আমরা ধুনটবাসী ফাউন্ডেশন” ও “রেড ক্রিসেন্ট”-সহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গেও তিনি সম্পৃক্ত রয়েছেন।

‎ধুনট উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক এম,এ রাশেদ জানান, শুরুতে তাঁর ব্যতিক্রমী উদ্যোগটি মানুষের সামনে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে সেটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং দেশজুড়ে ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি করে।

‎তবে নাবিল মাস্টার ব্যক্তিগত প্রচার বা স্বীকৃতির প্রতি অনাগ্রহী। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি কোনো পুরস্কার বা প্রচার চাই না। যদি আমার কাজ দেখে অন্য কেউ একটি গাছও লাগায়, সেটাই হবে আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

‎সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা নেতিবাচক ভাইরাল ইস্যুর ভিড়ে নাবিল মাস্টারের এই মানবিক ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে অনুপ্রেরণা জাগায় এবং ভালো কাজকে ছড়িয়ে দিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!