
কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধিঃ
পিরোজপুরের কাউখালীর হাট-বাজারে প্রশাসনের নাকের ডগায় পঁঁচা মাছ বিক্রি করছে অসাধু মাছ ব্যবসায়ীরা।এরা আবার পঁচা মাছে বিষাক্ত রং ও ক্যামিকেল মিশিয়ে ভালো মাছ হিসেবে উপজেলার সকল হাটবাজারে বিক্রি করছে বলে সাধারণ ভোক্তারা অভিযোগ করে বলেন পচা ও রং মেশান মাছ দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন হাটবাজারে প্রশাসনের নাগালে বসেই বিক্রি করলেও কয়েক মাস ধরে কোন আইনি পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না।
মাছ ক্রেতা এডভোকেট জহুরুল ইসলাম অভিযোগের সুরে বলেন উপজেলার ১০০ গজের মধ্যেই কাউখালী দক্ষিণ বাজার। সপ্তাহের শুক্রবার সোমবার এখানে হাট বসে।এই হাটের দিনে এখানে লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ বিক্রি হয়। পাথরঘাটা, মহিপুর , পারেরহাট থেকে মাছ ব্যবসায়ীরা লক্ষ লক্ষ টাকার বিভিন্ন জাতের সামুদ্রিক মাছ নিয়ে এই বাজারে আসেন। মাছ ক্রয় করার জন্য কাউখালী উপজেলা এবং পার্শ্ববর্তী রাজাপুর ও নেছারাবাদ উপজেলা থেকে অনেক ক্রেতা মাছ ক্রয় করার জন্য এই বাজারে আসেন। অথচ এখানে কেমিক্যাল মেশানো পচা মাছে বাজার সয়লাব।শুক্রবার ১৬ জানুয়ারি সকাল দশটার সময় উপজেলার দক্ষিণ বাজার গিয়ে দেখা যায় অসাধু মাছ ব্যবসায়ীরা পঁচা মেয়াদ উত্তির্ণ
বরফ দেওয়া মাছ নিয়ে বসেছে।
স্থানীয়রা পচা মাছ বিক্রি করতে বাধা দিল কোন কাজে আসছে না। এই সমস্ত মাছে বিভিন্ন ক্যামিকেল মিশিয়ে পচা মাছগুলোকে ভালো তাজা মাছ হিসেবে বিক্রি করে।
উপজেলার প্রানকেন্দ্র উপজেলা প্রশাসনের দুইশত গজ দূরত্বে অবস্থিত উত্তর ও দক্ষিণ বাজার সহ উপজেলার সকল হাটবাজারে এই মাছ বিক্রয় করা হয়। অসাধু চাটুকার মাছ ব্যসায়ীরা সাগর থেকে বরফ মেশানো নষ্ট পচাঁ খাওয়ার অনুপযোগী মাছ কম দামে সংগ্রহ করে , ক্যামিকেল মিশিয়ে চটোকদার কালার তৈরি করে ভাল মাছ বলে বেশি দামে বিক্রি করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এভাবেই দিনের পর দিন ভোক্তদের সাথে প্রতারনা করছে অসাধু কিছু মাছ ব্যবসায়ীরা। প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রতি শুক্র ও সোমবার হাটের দিন এবং উপজেলার সকল মাছ বাজারে অন্যদিন এই সমস্ত মাছ বিক্রি হয় । যার ফলে শতশত ভোক্তারা না বুঝে এই সমস্ত মাছ ক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছে। বিষেজ্ঞরা জানান পচা মাছ খেলে ডায়রিয়া, আমাশাসহ অন্যান্য পেটের রোগ হতে পারে। এছাড়া রং ও কেমিক্যাল মেশানো মাছ খেলে লিভার, ফুসফুস, কিডনি সহ বিভিন্ন জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হতে পারে। অথচ দিনের পর দিন এ ভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফা পাওয়ার আশায় রং মিশিয়ে সাদা পচাঁ মাছ গুলো ভাল মাছ বলে বিক্রি করে ভোক্তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। মাছ ব্যবসায়ী জিয়া বলেন বার বার নিষেধ করেও এই অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করতে পারতেছি না। বাজারে বসে সবার চোখের সামনে একটি চক্র নিয়মিত এই সমস্ত মাছ বিক্রি করে।
ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন কয়েক মাস পূর্বে মাঝেমধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এসিল্যান্ড এ সমস্ত মাছের বিরুদ্ধে অভিযান করে জেল, জরিমানা করায় কিছুদিন বাজার ভালো ছিল। বর্তমানে আবার ও সাধু ব্যবসায়ীরা স্বাভাবিকভাবেই তাদের অপরাধ করে চলছে। প্রশাসনিক কঠোর নজরদারী থাকার কথা থাকলেও মাসের পর মাস সেনেটারি ইন্সপেক্টর বাজারেই আসেন না ।
শুক্রবার পচা মাছ বিক্রেতাদের সাথে কথা বলতে চাইলে সাংবাদিক দেখে কথা বলতে রাজি হয়নি ।
এ সময় জানা যায় পোয়া মাছ, মরমা মাছসহ সামুদ্রিক কয়েক প্রকার সাদা মাছে রং মেশানো হয়।
বাজার মনিটরিং না করার বিষয় জানতে চাইলে সেনেটারী ইন্সপেক্টর মোঃ নুরুল আলম বখতিয়ার জানান শুক্রবার ছুটির দিন এছাড়া তার বাড়ির নাজিরপুর সেখান থেকে আসা-যাওয়া করে তিনি অফিস করেন।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ অভিযোগ করে বলেন বর্তমান সেনেটারী ইন্সপেক্টর কোন বাজার পরিদর্শন করে না।তাকে সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা ব্যবসায়ীরাও কখনো দেখে নাই ।
এ ব্যপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার ইশতিয়াক আহমেদ বলেন আজ শুক্রবার ছুটির দিন। সেনিটারী ইন্সপেক্টরের বিষয় তিনি খোঁজ নেবেন বলে জানান।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানকে পঁচা মাছের বিষয় জানালে তিনি বলেন, সেনেটারী ইন্সপেক্টর পঁচা মাছের বিষয় নিশ্চিত করলে অভিযান করা হবে। তিনি আরো বলেন পঁচা মাছ কেউ কিনবে না। এছাড়া বিষয়টা আমি দেখতেছি বলে জানান।

আরও পড়ুন
বগুড়া মহাস্থান মাজারের ১৫ দানবাক্সে মিলল সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা, গণনায় লেগেছে প্রায় দুই দিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার
নওগাঁয় সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করায় যুবক আটক