হোম » সারাদেশ » হাতীবান্ধায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সিফাতের বাড়িতে সোলার ও স্মার্টফোন তুলে দিলেন ইউএনও শামীম মিঞা

হাতীবান্ধায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সিফাতের বাড়িতে সোলার ও স্মার্টফোন তুলে দিলেন ইউএনও শামীম মিঞা

মিজানুর রহমান: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী সিফাতের জীবনযাত্রা ও পড়াশোনায় সহায়তা করতে একটি সোলার প্যানেল ও একটি স্মার্টফোন প্রদান করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শামীম মিঞা। গত শনিবার রাতে বড়খাতা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দুলু মিয়ার বাড়িতে পৌঁছে সিফাতের হাতে এই উপহার তুলে দেন ইউএনও। এই সহায়তা সিফাতের চলাফেরা ও শিক্ষাজীবনে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সিফাত সাপটিবাড়ি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। কৃষিনির্ভর একটি পরিবারে জন্ম নেওয়া তিন ভাইবোনের মধ্যে সিফাত সবচেয়ে ছোট। জন্ম থেকেই সে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। তার পরিবারে বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও বিদ্যুৎ চলে গেলে আলোর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা ছিল না। ফলে পুরো বাড়ি অন্ধকারে ডুবে যেত এবং চরম দুর্ভোগে পড়তে হতো সিফাতকে। এই পরিস্থিতির কারণে সিফাতের চলাফেরা যেমন বাধাগ্রস্ত হতো, তেমনি শিক্ষাজীবনেও নেমে আসত অন্ধকার।
এই বাস্তবতা সামনে আসে যখন সিফাত নিজেই সাহস করে যোগাযোগ করে হাতীবান্ধা উপজেলার নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ইউএনও শামীম মিঞা তথ্য যাচাই করে নিশ্চিত হন, সিফাত সত্যিই একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী এবং সহায়তার জন্য উপযুক্ত। এরপরই উপজেলা উন্নয়ন খাত থেকে একটি স্মার্টফোন এবং একটি সোলার প্যানেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
স্মার্টফোন ও সোলার প্যানেল হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত সিফাত জানায়, ‘বিদ্যুৎ চলে গেলে আমার চলাফেরায় অনেক অসুবিধা হতো। এখন সোলারের আলোয় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারব। স্মার্টফোনে সফটওয়্যারের মাধ্যমে পড়াশোনাও চালিয়ে যেতে পারব। আমি ইউএনও স্যারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’
সিফাতের মা বলেন,‘আমাদের পরিবারের পাশে আগে কেউ দাঁড়ায়নি। ইউএনও স্যার শুধু সোলারই দেননি, আমার ছেলেকে স্মার্টফোনও দিয়েছেন, যাতে সে ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারে। আমাদের পরিবার ইউএনও স্যারের প্রতি চির কৃতজ্ঞ।’
বড়খাতা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনও ছুটে এসেছেন সিফাতের বাড়িতে। তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যার পরে ইউএনও স্যার এসে আমার ইউনিয়নের এক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে সোলার ও স্মার্টফোন দিয়েছেন। বড়খাতা ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে আমি ইউএনও স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
মানবিকতার ডাকে সাড়া দিতে পেরে খুশি হাতীবান্ধা ইউএনও শামীম মিঞা। তিনি বলেন, ‘ছেলেটি নিজেই আমার অফিসে এসে যোগাযোগ করে। পরে তথ্য যাচাই করে নিশ্চিত হই যে, সিফাত একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী। সে যদি অ্যাপসের মাধ্যমে স্মার্টফোন ব্যবহার করে পড়াশোনা এগিয়ে নিতে পারে, তাই তাকে উপজেলা উন্নয়ন খাত থেকে একটি স্মার্টফোন ও চলাফেরার সুবিধার্থে বাড়িতে সোলার লাইট স্থাপন করা হয়েছে।’
অন্ধকারে জন্ম, কিন্তু এক টুকরো আলোর জন্য সংগ্রাম-সিফাতের জীবনের গল্প ঠিক তেমনই। তবে এই সহায়তায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীটি এখন নতুন আশার আলোয় দিন গুনছে।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!