হোম » সারাদেশ » মহেশপুরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে দ্বন্দ্ব চরমে, চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার নেতার

মহেশপুরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে দ্বন্দ্ব চরমে, চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার নেতার

মো:রাফাত হোসেন,কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নবগঠিত মহেশপুর উপজেলা কমিটিকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরমে উঠেছে। কমিটির একাংশের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, পুকুর খনন বাণিজ্য, জিআরের চাল বিক্রি ও বালু ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলেও এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সকাল ১০টায় মহেশপুর উপজেলা ডাকবাংলা মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগের জবাব দেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক হামিদুর রহমান রানা। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন সদস্য সচিব আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক জামিল হাসান, মোকলেসুর রহমান, সাব্বির হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

‘ষড়যন্ত্রমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ অভিযোগ দাবি নেতার: সংবাদ সম্মেলনে আহ্বায়ক হামিদুর রহমান রানা বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমাদের নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, পান্তাপাড়া ইউনিয়নের কুরবান গাজীর পুকুর খনন নিয়ে তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তার সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ বা দেখা-সাক্ষাৎই হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

জিআরের চাল বিতরণ ও বালু ব্যবসার অভিযোগ: রানা জানান, রামচন্দ্রপুর পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের জন্য বরাদ্দ পাওয়া জিআরের চাল ‘টি আর-কাবিটা’ প্রকল্পের অধীনে রাস্তা নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। সেখানে কোনো ধরনের বাণিজ্য হয়নি।

বালু ব্যবসা নিয়েও অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, গত ৯ ফেব্রুয়ারি সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরিচালিত মোবাইল কোর্টে বালু জব্দ ও নিলাম হয়। সেখানে টেন্ডারপ্রাপ্ত ব্যক্তি শামীম খান, যার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।

গরুর হাটে চাঁদা দাবির অভিযোগেও অস্বীকৃতি: পুরাপাড়া গরুর হাটে চাঁদা দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, আমি ওই হাট পরিচালনার সঙ্গে জড়িত নই। স্থানীয় তিনজন — আঃ কাদের মেম্বার, মোঃ শাহীন মেম্বার ও অপর একজন — এই দায়িত্বে রয়েছেন। আমাদের কাছে এ বিষয়ে ভিডিও প্রমাণও রয়েছে।

নবগঠিত কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণায় ক্ষোভ: সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, গত ৩ জুলাই শুক্রবার একটি মহল নবঘোষিত উপজেলা কমিটিকে বিতর্কিত নেতৃত্ব আখ্যা দিয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। তারা এই ঘোষণাকে অবৈধ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দেন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা মিথ্যা, বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক। আমরা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছি এবং এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ: স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মতে, পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ বিভাজন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। ফলে সংগঠনটির কার্যক্রম ও ভাবমূর্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!