হোম » সারাদেশ » সন্তান গর্ভে আসার পর প্রেমিক উধাও : প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নবজাতক ও প্রেমিকার

সন্তান গর্ভে আসার পর প্রেমিক উধাও : প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নবজাতক ও প্রেমিকার

দীর্ঘ দিনের প্রেমের সম্পর্কের পর পরিবারের অমতে প্রথমে এফিডেভিট এবং পরে কাজীর মাধ্যমে বিয়ে করেন পঞ্চগড় মকবুলার রহমান সরকারী কলেজের দুই সহপাঠী। অতঃপর সন্তান গর্ভে আসার পর হঠাৎ উধাও হয়ে যায় প্রেমিক। ভূমিষ্ট হবার পর সন্তানের স্বীকৃতির দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নেয় নবজাতক শিশু ও মা। কিন্তু তাতে হয়নি কোন লাভ। বরং শশুরবাড়ির লোকদের নির্যাতন ও অবহেলায় সন্তান সহ অসুস্থ হয়ে ৯৯৯ এ কল করে সাহায্য চাইলে পুলিশ সহ স্থানীয় মেয়রের সহযোগিতায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাদের। স্বামীর কাছে নিজের এবং সন্তানের স্বীকৃতির আকুতি নিয়ে দিশেহারা অবস্থায় দিন কাটছে তার। 
একই কলেজের সহপাঠী থাকা অবস্থায় প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন পঞ্চগড় মকবুলার রহমান সরকারী কলেজের দুই সহপাঠী রহমান উদ্দিন রনি ও আনিকা জান্নাত। রনি পঞ্চগড়ের বোদা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের মীর হোসেনের ছেলে, আর আনিকা পঞ্চগড় মীরগড়ের জাহের আলীর মেয়ে।
প্রেমের সম্পর্ককে পরিনাম দিতে পরিবারের অমতে ২০২২ সালের ২৭ ডিসেম্বর কোর্টে এফিডেভিট এবং ২০২৩ সালের ২ ডিসেম্বর কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে করেন তারা। এরপরে আনিকার গর্ভবতি হবার পর হঠাৎ করে উধাও হয়ে যায় রনি। বন্ধ করে দেয় আনিকার সাথে সব যোগাযোগ।
গত ৭ জুলাই সন্তান ভূমিষ্ট হবার পর তার স্বীকৃতির দাবি নিয়ে রনির খোঁজে তাদের বাড়িতে গিয়ে রনিকে না পেয়ে সেখানেই অবস্থান নেন আনিকা। প্রভাবশালী রনির পরিবার সন্তান সহ তাকে বাসা থেকে বের করে দিতে চাইলে স্থানীয় গণ্যমাণ্য ব্যাক্তিদের হস্তক্ষেপে সেসময় নিবৃত্ত হলেও, ২৪ ঘন্টা পার হতে চললেও তাকে খাবার পানি না দিয়ে, প্রচন্ড গরমে বৈদ্যুতিক সংযোগ বন্ধ করে, তাকে নানা করকম হুমকি ধামকি সহ শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করে। বাধ্য হয়ে বেলকনি দিয়ে আশপাশের মানুষদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলে তারা সহ সাংবাদিকরা খোঁজ নিতে গেলে তাদের ওপর ও চড়াও হন রনির পরিবারের লোকজন। এ সময় এটিএন নিউজের পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধিকে হেনস্থা করেন।
শিশুটি সহ আনিকা প্রচন্ডভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে সাংবাদিকদের দেওয়া পরামর্শে ৯৯৯ এ কল করে সাহায্য প্রার্থনা করে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় পৌরসভার মেয়র এসে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে শিশু সহ আনিকাকে সেখান থেকে বের করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়া আনিকা রনির প্রতারনা, তার এবং তার সদ্যজাত শিশুসন্তানের ওপর নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন, এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার সহ তাদের অধিকার আদায়ে প্রশাসনের কাছে মিনতি জানান।
 আনিকা জান্নাত(ভুক্তভোগী)এই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এবং প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচারের আবেদন জানান।
ঘটনার সুষ্ঠু প্রতিকারের দাবী জানান স্থানীয়রাও। আর বোদা পৌরসভার মেয়র আজাহার আলী জানান, মা ও সন্তানের চিকিৎসা জরুরী ছিলো বিধায় তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের চিকিৎসা শেষে পরবর্তি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা শুভ বলেন, এই ঘটনা সমাজের একটি গুরুতর সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করে। একজন নারী ও তার শিশুকে এভাবে নির্যাতন করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। প্রশাসনকে এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নবজাত শিশু ও তার মাকে নির্যাতন করাটা মীর ও তার স্ত্রীর মোটেও ঠিক হয়নি।আমার চোখের দেখায় নবজাতক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়লে সাংবাদিক ও পৌর মেয়রের সহায়তায় অ্যাম্বুলেন্সে করে বোদা হাসপাতালে ভর্তি করান।
পৌর মেয়র আজাহার আলী বলেন, ছেলের বাবা মীর হোসেনকে জানান, যেখানেই থাকুক আপনার ছেলেকে হাজির করার ব্যবস্থা করেন। নবজাতক শিশু ও তার মা সুস্থ হয়ে আসার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে কোন আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
-আল মাহমুদ দোলন-
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!