বাংলাদেশ শ্রমিক সংহতি ফেডারেশনের – ১০ দফা দাবী

নাহিদুল হাসান নয়নঃ ১৮, জুলাই, ২০২০ইং, শনিবার, সকাল ১১.০০ ঘটিকায় জাতীয় প্রেসক্লাব সন্মুখে, বাংলাদেশ শ্রমিক সংহতি ফেডারেশন, রেজিঃ নং-বাজাফে-২৮ ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি ফেডারেশন, রেজিঃ নং-বি-২১৬৫ এর উদ্দোগে “দাবী আদায় কর্মসূচী” ও আওতায় সংগঠনসমূহের সভাপতি জনাব রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে এক মানব বন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। এই কর্মসূচীতে বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষের প্রানের দাবী ১০ দফা আদায়ের জন্য ঐক্যবন্ধ আন্দোলনের প্রস্তুতি প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জোরালো বক্তব্য রাখেন।

গত ১০ জুলাই, শুক্রবার রাতে সিলেট বিভাগীয় ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক জনাব ইকবাল হোসেন রিপনের হত্যাকারীদের প্রেফতার ও ফাঁসির দাবীতে যৌথভাবে পূথক দাবী উত্থাপন করা হয়। সংগঠসমূহের দাবীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে আমন্ত্রিত বিভিন্ন সংগঠনের সন্মানিত নেতৃবৃন্দ সর্বজনাব সাফিয়া পারভীন, কামরুল হাসান, মোঃ আনোয়ার হোসেন, হাজী আব্দুল মতিন মুন্সি, রেজাউল করিম রেজা, নাহিদুল হাসান নয়ন, কাজী রুহুল আমিন, মোঃ নুরুল ইসলাম, আহসান হাবিব বুলবুল, মোঃ আনোয়ার হোসেন ভিক্টোরিয়ানসহ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিও সাধারন সম্পাদক জনাব সাইফুল হক শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। আয়োজক সংগঠনের পক্ষে বক্তব্য রাখেন সর্বজনাব মাসুদ পারভেজ রানা, ছোবেদা সরকার আকলিমা, মোঃ মানিক কাজী, মোঃ মনির হোসেন, মোঃ জুবায়ের সরকার, শিহাব উদ্দিন খান, বার এট ল‘, হাসিনা আক্তার হাসি ও অরবিন্দু বেপারী বিন্দু।

এই মানব বন্ধন কর্মসূচী সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ শ্রমিক সংহতি ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক জনাব ইয়াসিন আহমেদ।

১০ দফা দাবীসমূহ

(১) করোনা মহামারিকালীন সময়ে কোন শ্রমিককে ছাঁটাই বা কর্মচ্যুৎ করা যাবেনা,

(২) সরকারীভাবে শ্রম আইনের ৩২৪ ধারা প্রায়োগ করে ছাঁটাই, বরখাস্ত ও কর্মচ্যুৎসহ সকল নিবর্তনমূলক আইন স্থগিত করতে হবে,

(৩) ঈদুল ফিতরের বোনাস অর্ধেক পাওনা ও অন্যান্য সকল বকেয়া মজুরী অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে,

(৪) মালিকের ব্যবস্থাপনায় সকল শ্রমিকের বাসস্থান নিশ্চিত করতে হবে,

(৫) সকল শ্রমিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে,

(৬) কর্মহীন শ্রমিকদের নগদ আর্থিক সহায়তা ও সকল শ্রমিককের জন্য স্বল্প মূল্যে রেশনের ব্যবস্থা করতে হবে, (৭) অবিলম্বে ঈদুল আযহার পূর্ণ বোনাস পরিশোধ করতে হবে,

(৮) শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের নামে দায়েরকৃত সকল মামলা প্রত্যাহার করতে হবে, (৯) শ্রমিক শ্রেনীর ন্যায়সঙ্গত         আন্দোলনে সরকারী পুলিশ ও সরকারী দপ্তরের সহযোগীতা করতে হবে,

(১০) পাঁচারকৃত সকল অর্থ-সম্পদ দেশে ফেরত আনতে হবে এবং পাঁচারকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান             করতে হবে।

এই মানব বন্ধন কর্মসূচীতে সিলেট বিভাগীয় ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক জনাব ইকবাল হোসেন রিপনের হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যু কার্যকর করার ও নিহত রিপনের পরিবারবর্গকে ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের জোর দাবী জানানো হয়।

উপস্থিত বক্তব্য উপরোক্ত দাবীসমূহের পক্ষে বক্তব্য রাখেন এবং বলেন যে, বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষ করোনা মহামারির এই সংকটকালে চরম আর্থিক সঙ্কটে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছো। এই সঙ্কটকালীন সময়ে মোষক শ্রেনী নির্বিচারে শ্রমিকদের ছাঁটাই, বরখাস্ত ও কর্মচ্যুৎ করছে য অমানবিক। ঈদুল ফেতরের অর্ধেক বোনাস ঈদের পরে দেওয়ার অঙ্গীকার থাকলেও তা পরিশোধ করা হয়নি। এখনো অনেক কারখানায় মে-জু মাসের মজুরী পরিশোধ করা হয়নি। ঈদের আগেই সকল বকেয়া মজুরী ও পূর্ণ বোনাস পরিশোধ করার এবং কোন শ্রমিককে ছাঁটাই, বরখাস্ত ও কর্মচ্যুৎ না করার জোর দাবী জানান।