
আওয়াজ অনলাইন:বিশ্বের জনবহুল দেশের মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম সারিতে। বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী, এদের আবাসন, ইন্ড্রাস্ট্রি, মিল- কারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে এমন কোনো সেক্টর নেই যা ঢাকা শহরে গড়ে ওঠেনি। ছোট্ট এ শহরটিতে যেমন জনসংখ্যার বিস্ফোরণ আছে; তেমনি এর রাষ্ট্রী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সরণ্ঞ্জামের অবিকেন্দ্রীকরণের কারণে আবহাওয়া বেশ দূষিত হয়ে পড়েছে।
ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকা বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে। আজ সোমবার সকাল ৯টায় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ৩৮৯ নিয়ে বাতাসের মান ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ অবস্থায় ছিল।
পাকিস্তানের করাচি ও ঘানার আক্রা যথাক্রমে ২৫৮ ও ১৯১ স্কোর নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আছে।
২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে থাকা একিউআই স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। অন্যদিকে, ৩০১ থেকে ৪০০ এর মধ্যে থাকা একিউআইকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়। যা বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে।
অন্যদিকে, ১০১ থেকে ২০০ এর মধ্যে একিউআই স্কোরকে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে মনে করা হয়।
বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের পাঁচটি ধরনকে ভিত্তি করে—বস্তুকণা (পি এম ১০ এবং পি এম দুই দশমিক পাঁচ), এন (ও২), সিও, এস (ও২) এবং ওজোন (ও৩)।
ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে বায়ু দূষণের সমস্যায় জর্জরিত। এর বাতাসের মান সাধারণত শীতকালে অস্বাস্থ্যকর হয়ে যায় এবং বর্ষাকালে কিছুটা উন্নত হয়। ২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকার বায়ু দূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো— ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ সাইটের ধুলো।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, বিশ্বব্যাপী প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৯ জন দূষিত বাতাসে শ্বাস নেন এবং বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর প্রধানত নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশে আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে।
আমাদের মতো জনবহুল দেশে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতা খুবই জরুরি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে নিরাপদ বাংলাদেশ রেখে যেতে চাইলে জনসচেতনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন
দশ মাসের আত্মগোপনের অবসান: র্যাবের অভিযানে ধরা মমিনুল হত্যা মামলার আসামি
চিলাহাটি রেলস্টেশনে দুই শিশু সন্তানসহ মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা
সরকারি সহায়তার নামে কোটি টাকার প্রতারণা: চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘মাসকুরা ট্রেডার্স’ এর বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধ