
আব্দুল কাদের, বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনধিঃ উত্তরের ঐতিহাসিক জনপথ পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার যাদুঘর সংলগ্ন স্থানে বঙ্গবন্ধু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নির্মানের দাবীতে আবারো উত্তাল হয়ে উঠে পাহাড়পুরের জনপথ। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় পাহাড়পুর আদিবাসী উচচ বিদ্যালয়ের পাশে ৩ মাথা মোড়ে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বিশ^বিদ্যালয় বাস্তবায়ন পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সমাবেশে স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গ্রামের সাধারণ মানুষ অংশ গ্রহন করে। সমবেশে পাহাড়পুর বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইমামুল আল হাসান তিতুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাবেক সাংসদ ড. আকরাম হোসেন চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পাহাড়পুর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান কিশোর, বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন পরিষদের সদস্য সচিব ও আদবাসী নেতা বৈদ্যনাথ টপ্য, পাহাড়পুর আদিবাসী উচচ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশিদ, গোবরচাঁপা উচচ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশিদ প্রমূখ। বক্তারা বলেন পাহাড়পুরের ইতিহাস ঐতিহ্যকে দেশ বিদেশের পর্যটকদের কাছে অরো সমাদৃত করতে পাহাড়পুর সংলগ্নস্থানে বিশ^বিদ্যালয় নির্মানে সাবেক জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রস্তাব করেন। তার পর জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় নির্মানে শুরু হয় রশি টানাটানি।বিশ্ববিদ্যালয় দাবীতে বিভিন্ন উপজেলায় মানববন্ধন ও সভা সমাবেশ করা হয়। এশিয়া উপমহাদেশের মধ্যে উন্নতম প্রাচীন প্রত্নতাত্তিক নিদর্শন বৌদ্ধ বিহার অবস্থিত নওগাঁ জেলার বদলগাছীর ঐতিহাসিক পাহাড়পুরে। সপ্তম ও অষ্টম শতাব্দীতে পাল রাজত্বে তৈরী করা হয়েছে বৌদ্ধ বিহার। তৎকালীন সময়ে এই বিহারে সৃষ্টি করা হয়েছিল বাংলা গানের আদিমাতা চর্যাপদ। এক সময় বিহারের আচার্য ছিলেন বিখ্যাত পন্ডিত শীলভদ্র ও অতীশ দ্বীপঙ্কর। প্রাচীন পাল রাজবংশের ইতিহাস ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার এখনও এশিয়া উপমহাদেশের মধ্যে উন্নতম প্রাচীন প্রত্নতাত্তিক নিদর্শন হিসাবে স্থান পেয়েছে। বক্তারা আরো বলেন আমাদের পাশে এমপি মন্ত্রী নেই। আমাদের বিশ্বাস ও একমাত্র ভরসা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। সাবেক জেলা প্রশাসকের প্রস্তাব আমলে নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নওগাঁ জেলায় ”বঙ্গবন্ধু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নওগাঁ আইন ২০২২ নীতিগত সিদ্ধান্ত মন্ত্রী সভায় অনুমোদন করেন। সাবেক জেলা প্রশাসকের প্রস্তাবের সঙ্গে এক মত হয়ে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার নিতিগত সিমারেখা ঠিক রেখে এখানে বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জোড় দাবী এলাকাবাসীর।