
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মানুষ চুরি করলে তাকে বলে ডাকাত, বিড়াল চুরি করলে তাকে বলে... লিওনার্দো দ্য পিঞ্চি!
হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন—নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড শহরে এক ১৫ মাস বয়সী বিড়াল চুরি শিল্পে এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে যে, গরু চোরের গল্প এখন তুচ্ছ ঠেকে। তার বিশেষ পছন্দ—বিলাসবহুল অন্তর্বাস, দামি সোয়েটার এবং মাঝে মাঝে খেলনা সাপ!
মাইরাঙ্গি বে এলাকায় এখন সন্ধ্যার পর কেউ জামা শুকাতে দেয় না, অন্তর্বাস তো নয়ই! কারণ লিও যখন হানা দেয়, তখন শুধু জামাকাপড় নয়—সঙ্গে নিয়ে যায় প্রতিবেশীদের সম্মান, পরিপাটি আলমারির শৃঙ্খলা এবং মালিকদের মানসিক স্থিতি।
তার মালিক হেলেন নর্থ প্রথমে ভেবেছিলেন—ও বুঝি এক আধটু খেলার ছলে কাপড় নিয়ে আসছে। কিন্তু যখন দেখা গেল, প্রতিদিন একাধিক চুরি হচ্ছে, এবং তার বেশিরভাগই "ব্যক্তিগত ধরনের", তখন তিনি নিজের মেয়ে পর্যন্ত ফোন করে জানায়, “মা, এইবার যেটা এনেছে সেটা খুবই বাজে!”
এরপর শুরু হলো হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ পর্ব। হেলেনের নিয়মিত প্রশ্ন:
"এটা কার আন্ডারওয়্যার?"
"এই বেগুনি মোজাটা কি আপনার?"
"পাঁচ ফুট লম্বা খেলনা সাপ কি আপনি মিস করছেন?"
যারা ফিরে পেয়েছেন, তারা দারুণ খুশি। যারা পাননি, তারা হতাশ—‘আহা, আমাদের বাসায়ও যদি কিছু চুরি হতো!’ লিওকে কেউ আর বিড়াল বলেই ভাবছে না, সে এখন অকল্যান্ডের "আনঅফিসিয়াল ফ্যাশন কালেক্টর"।
এই চুরি থামাতে হেলেন নানা চেষ্টা করেছেন—ঘরে বন্দী, পুরোনো জামা ছুঁড়ে ফেলা, এমনকি নতুন বিড়াল আনার কথা পর্যন্ত ভাবেন। কিন্তু ভয় একটাই—লিও অন্যকেও প্রশিক্ষণ দিয়ে "চুরি সিন্ডিকেট" গড়ে তুলবে না তো?
এখন এলাকার সবাই স্বীকার করে নিয়েছে, লিও আসলে একটা "সাংস্কৃতিক বিপ্লব" এনেছে—যেখানে প্রতিবেশীরা একে অপরের অন্তর্বাসের রঙ পর্যন্ত জানে।