
ব্যাপারটা একেবারেই অপ্রত্যাশিতই বটে। বল হাতে ভারত সবচেয়ে বড় প্রতিরোধের মুখে পড়ল শেষ উইকেটে। মিচেল স্টার্ক আর জশ হেইজেলউড মিলে কঠিন ধৈর্যের পরীক্ষা নিলেন জাসপ্রিত বুমরাহ, হার্ষিত রানা, মোহাম্মদ সিরাজদের।
পার্থ টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষ পর্যন্ত যখন জুটি ভাঙল ততক্ষণে দুজনে খেলে ফেলেছেন ১১০ বল। জুটি ইনিংস সর্বোচ্চ ২৫ রানের। অস্ট্রেলিয়া প্রথম সেশনের পুরোটা কাটিয়ে দিতে পারল মূলত এই জুটির কল্যাণেই। শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকরা প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে গেল ১০৪ রানে। ভারত লিড পেয়েছে ৪৬ রানের।
স্টার্ক-হেইজেলউড জুটি ছাড়া আর কোনো জুটি ৩৫ বল খেলা কিংবা ১৫ রানও করতে পারেনি। ভারতের গলার কাটা হয়ে থাকা এই জুটি ভাঙেন অভিষিক্ত হার্ষিত রানা। তাকে খেলতে গিয়ে বল আকাশে তুলে নেন স্টার্ক। এ যাত্রায় বল দস্তানায় জমা করতে ভুল করেননি ঋশাব পান্ত।
ম্যাচে এটি হার্ষিতের তৃতীয় শিকার। ১১২ বল খেলে ইনিংসে সর্বোচ্চ ২৬ রান করেন নয়ে ব্যাটিংয়ে নামা স্টার্ক। ব্যাটসম্যান হয়ে ওঠা স্টার্কের কল্যাণেই ানেক লজ্জার রেকর্ডের হাত থেকে বেঁচেছে অস্ট্রেরিয়া।
ভারতের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সর্বনিম্ন সংগ্রহ ছিল ৮৩ রান। সেটাও ৪৩ বছর আগের, মেলবোর্নে। আজ আরও আগে অলআউট হতে পারত অস্ট্রেলিয়া, যদি না দলীয় ৮২ রানে বুমরার বলে শেষ ব্যাটসম্যান হ্যাজলউডের ক্যাচ ছাড়তেন পান্ত। একুশ শতকে অস্ট্রেলিয়ার সর্বনিম্ন সংগ্রহ ছিল ৮৫ রান। পন্তের ক্যাচ মিসে সেটিও ছাড়ায় অস্ট্রেলিয়া।
৭ উইকেটে ৬৭ রান নিয়ে দিন শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। দিনের সপ্তম ও বুমরাহর প্রথম বলেই কট বিহাইন্ড হন ১৯ রান নিয়ে দিন শুরু করা অ্যালেক্স কেয়ারি। এদিন তিন যোগ করতে পারেন স্রেফ ২ রান।
কেয়ারির উইকেট দিয়েই ম্যাচে ৫ উইকেট পূরণ করেন বুমরাহ। ৭৭ ইনিংসের ক্যারিয়ারে এটি তার একাদশ ৫ উইকেট শিকার।
নাথান লায়নকে আউট করেন হার্ষিত। তার মানে দুই ইনিংসে সবকটি উইকেটই গেল পেসারদের দখলে।
অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ৫১.২ ওভারে ১০৪ (স্টার্ক ২৬, ক্যারি ২১, হেড ১১, ম্যাকসুয়েনি ১০; বুমরা ৫/৩০, হর্ষিত ৩/৪৮, সিরাজ ২/২০)।